বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ (Information Technology)। বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় তাকে তথ্য প্রযুক্তি বলে। কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা, ব্যবসা, চিকিৎসা, চাকরি, যোগাযোগ ও বিনোদন প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। এই প্রযুক্তির উন্নয়নে নারীরা ও গুরুত্বপূ্র্ণ ভূমিকা রাখছেন। আগে তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহন পুরুষের চেয়ে কম ছিল। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। অনেক নারী কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার তৈরি, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ফ্রিল্যাংসিং, অনলাইন ব্যবসা, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি বিষয়ক কাজে যুক্ত হচ্ছেন। তথ্য প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহন শুধু নারীদের জন্য নয়, দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নারীরা প্রযুক্তির কাজে যুক্ত হলে তাদের নিজের আয় করার সুযোগ বাড়ে। তারা পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। একই সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নতির ক্ষেত্রে দক্ষ মানুষের সংখ্যাও বাড়ে। বাংলাদেশেও অনেক নারী তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন। তবে এখনো অনেক নারী প্রযুক্তি ও শিক্ষা কর্মক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। তারা অনেকেই শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। যার কারনে প্রযুক্তি বিষয়ক জ্ঞান কম তাদের। প্রযুক্তির উন্নয়ন করতে চাইলে তাদেরকে যথাযথভাবে শিক্ষা গ্রহন করতে হবে। তাদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা গ্রহন করতে না পারলে তারা প্রযুক্তির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে না।

নারীরা শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিয়য়ে সচেতন হলে তবেই ভবিষ্যতে আরো
উন্নয়ন সম্ভব। আগেকার দিনে পুরুষরা সবকিছুতে অংশগ্রহণ করলেও নারীদের অংশগ্রহণে তেমন
উপস্থিতি ছিল না। তখনকার সময়ে শিক্ষার মান ও তেমন একটা ছিল না। নারীরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারত না। যার কারনে তারা তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে তেমন দক্ষ ছিল না। যুগের পর যুগ পাল্টেছে, সময় পরিবর্তন হয়েছে, এখনকার সময়ে দেখা যায় নারীরা সবকিছুতেই অংশগ্রহণ করছে। তারা বর্তমানে কোনো কিছুতেই পিছিয়ে নেই আর। সব ধরনের উন্নয়নেই তাদের উপস্থিতি সর্বাধিক লক্ষ করা যায়। নারীরা যে শুধুমাত্র তাদের উন্নয়নে ব্যস্ত তা নয়, তথ্য প্রযুক্তিতে তাদের অংশগ্রহনের ফলে দেশের ও মানবজাতির উন্নয়ন হচ্ছে। আর্থিক উন্নয়ন বৃদ্ধি করে দরিদ্রতা কমিয়ে আনছে। তাই বলা যায়, তথ্য প্রযুক্তির প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা অপরিসীম। নারীরা যদি এইভাবে আগামী দিনেও তাদের অবদান রাখে তাহলে খুব সহজেই পৃথিবীকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তথ্য প্রযুক্তি কী?
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি (Information Technology)। তথ্য প্রযুক্তি হলো তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, তৈরি, পরিবর্তন ও আদান প্রদানের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার। সহজে বলা যায়, কম্পিউটার, মোবাইল, ইন্টারনেট, সফটওয়্যার এবং বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্রের সাহায্যে তথ্য নিয়ে কাজ করাকে তথ্য প্রযুক্তি বলা হয়। অর্থাৎ বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় তাকে তথ্য প্রযুক্তি বলে। বর্তমানে আমরা প্রতিদিন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করি। যেমন মোবাইলে মেসেজ পাঠানো, ই মেইল করা, অনলাইনে টাকা পাঠানো, অনলাইনে ব্যবসা বাণিজ্য করা, অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের কাজে সংযুক্ত থাকা এবং ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজা ইত্যাদি। এসব কাজ তথ্য প্রযুক্তির অংশ। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন মানুষ ঘরে বসেই অন্য সব দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। একজন শিক্ষার্থী ঘরে বসেই অনলাইনে ক্লাস করতে পারেন। একজন অফিসকর্মী দূরে থেকেও অফিসের কাজ সম্পাদন করতে পারেন। একজন ব্যবসায়ী ঘরে বসেই তার পণ্য বিক্রি করতে পারেন। এ সব কিছুই সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির কারনে। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তথ্য প্রযুক্তি মানুষের কাজকে সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল করেছে। তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বর্তমান বিশ্বকে আরো এগিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির অনেক শাখা রয়েছে। যেমন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার তৈরি, ওয়েবসাইট তৈরি, গ্রাফিক ডিজাইন, ডেটা ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল মার্কেটিং। অর্থাৎ তথ্য প্রযুক্তি হলো, কম্পিউটার, মোবাইল ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য নিয়ে কাজ করার ব্যবস্থা।
নারীদের প্রযুক্তি শিক্ষা
নারীদের প্রযুক্তি শিক্ষা বলতে নারীদের ইন্টারনেট, প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক ডিজাইন, কম্পিউটার, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনকে বোঝায়। নারীদের প্রযুক্তি শিক্ষা নারীদেরকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায়, আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়ায় এবং দেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায়। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে এবং নারীর অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে হলে নারীদের প্রযুক্তি শিক্ষার হার বাড়াতে হবে। তবে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে এবং এই চিত্রটি ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে। একসময় এই খাতকে পুরুষদের বিচরণক্ষেত্র মনে করা হলেও, বর্তমানে নারীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র, এমনকি ই কমার্সের মতো উদ্যোগেও নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করছেন।
তথ্য প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ
তথ্য প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহন বলতে প্রযুক্তি সম্পর্কিত শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও বিভিন্ন কাজে নারীদের যুক্ত হওয়াকে বুঝায়। একজন নারী যখন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিখেন তখন তিনি তথ্য প্রযুক্তিতে অংশগ্রহন করেছেন। যখন সফটওয়্যার তৈরি করেন তখন তিনি তথ্য প্রযুক্তিতে অংশগ্রহন করেছেন। আবার যখন তিনি অনলাইনে কাজ করেন অথবা প্রযুক্তি ভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা করেন তখনও তিনি সম্পূর্ণরূপে তথ্য প্রযুক্তিতে অংশগ্রহন করেছেন। নারীদের তথ্য প্রযুক্তিতে অংশগ্রহনের এমন অনেক উদাহরণই রয়েছে, যা আমরা বাস্তব জীবনে ও নিজের চোখে দেখতে পাই। নারীদের এমন অবদান বা অংশগ্রহনের ফলেই বর্তমান বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তির এমন উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। নারীরা এখন বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। কেই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কেউ ওয়েব ডেভেলপার, কেউ প্রাফিক ডিজাইনার, আবার কেউ ডেটা নিয়ে কাজ করছেন। আবার অনেক নারী আছেন, যারা কিনা শিক্ষকতা ও গবেষণার মাধ্যমেও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। ফ্রিলান্সিংয়ের মাধ্যমেও নারীদের অংশগ্রহন বাড়ছে। একজন নারী নিজের বাড়িতে বসে গ্রাফিক্স ডিজিাইন তৈরি করা, লেখালেখি, অনুবাদ, প্রোগ্রাম তৈরি করা, সাইড প্রতিষ্ঠা, ই মেইল সেবাদান বায়োডাটা প্রস্তুত করা, ডিজিটাল মার্কেটিং, শিক্ষার্থীদের জন্য নোট শিট প্রস্তুত করা, অনলাইন শপিং, তথ্য আদান প্রদান, বাণিজ্যিকভাবে মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্যান্য অনলাইন ভিত্তিক কাজ করতে পারেন এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন। এতে বাইরে গিয়ে চাকরি করার পাশাপাশি ঘরে থেকেও আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। অনেক নারী অনলাইনে ব্যবসা বাণিজ্যও করছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে পোশাক, খাবার, হস্তশিল্প বা বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন। ফলে প্রযুক্তিনারীদের জন্য নতুন কাজেন পথ তৈরি করছে। এটা অর্থনীতির জন্য যেমন কল্যাণকর, তেমনি পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য সমানভাবে কল্যাণকর। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ সুগম ও সহজলভ্য হয়েছে।
প্রোগ্রামিং ও কোডিংয়ে নারীদের ভূমিকা
প্রোগ্রামিং ও কোডিংয়ের ইতিহাস গঠনে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গৌরবের। প্রোগ্রামিং ও কোডিংয়ে নারীদের ভূমিকা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পৃথিবীর প্রথম প্রোগ্রামার ছিলেন একজন নারী, অ্যাডা লাভলেস। বর্তমানে নারীরা সফটওয়্যার তৈরি, কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা, ওয়েবসািইট ও মোবাইল অ্যাপ উন্নয়ন, ডেটা সায়েন্স ও সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। নারীদের প্রোগ্রামিং ও কোডিং শেখার সুযোগ আরো বাড়লে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।
তথ্য প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব
তথ্য প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ বর্তমান সময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য নারী ও পুরুষ উভয়ের দক্ষতা কাজে লাগানো দরকার। নারীরা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এগিয়ে এলে দেশের মোট দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী যদি প্রযুক্তি খাতে কাজ করে, তাহলে দেশের উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে। তাই তথ্য প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহন বাড়ানো অত্যান্ত প্রয়োজন। প্রথমত, তথ্য প্রযুক্তি নারীদের নিজের আয় করার সুযোগ করে দেয়। একজন নারী চাকরি, ফ্রিল্যাংসিং বা অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এতে তিনি নিজের প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতেও সাহায্য করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, তথ্য প্রযুক্তি নারীদের আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করে। আগে অনেক নারী অন্যের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। এখন প্রযুক্তির সাহায্যে তারা নিজের ক্ষমতা দিয়ে কাজ করে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে পারছেন। এতে তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়ছে। তৃতীয়ত, নারীদের অংশগ্রহন দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। যখন বেশি মানুষ কাজ করে, তখন দেশের উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি পায়। অনেক নারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইনে কাজ করেন। এতে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য উপকারী। চতুর্থত, তথ্য প্রযুক্তি নারীদের ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেয়। অনেক নারী পারিবারিক দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি অনলাইনে কাজ করতে পারেন। পঞ্চমত, তথ্য প্রযুক্তিতে সফল নারীরা অন্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন। তাদের সাফল্য দেখে আরও অনেক মেয়ে প্রযুক্তি শিখতে এবং এই খাতে কাজ করতে উৎসাহিত হয়। এতে ধীরে ধীরে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। ষষ্ঠত, নারীরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন। তারা অনলাইনে শিক্ষা গ্রহন করতে পারেন, স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জানতে পারেন এবং নিজের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, তবে নারীদের অংশগ্রহন আরও বাড়াতে শিক্ষা, প্রশিক্ষন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহন
তথ্য প্রযুক্তিতে সফল হতে হলে প্রথমে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করতে হয়। তাই তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন মেয়ে যদি ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটার ও প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষা পায়, তাহলে ভবিষ্যতে সে সহজেই তথ্য প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে পারবে। আগে প্রযুক্তি শিক্ষায় মেয়েদের সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে সেই সংখ্যা বাড়ছে। অনেক মেয়ে ভালো ফলাফল করে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহন করছে। তারা দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে। বর্তমানে অনলাইন শিক্ষার কারনে প্রযুক্তি শেখা আরও সহজ হয়েছে। একজন মেয়ে ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন কোর্স করতে পারে। ইউটিউব, অনলাইন ক্লাস এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট থেকে নতুন নতুন বিষয় শেখা যায়, এতে সময় ও খরচ দুটিই কম লাগে। সরকার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও নারীদের জন্য তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। অনেক জায়গায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যাংসিং প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের কোর্স চালু হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক নারী নতুন দক্ষতা অর্জন করছেন। এতে পরিবারেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবারের উচিত মেয়েদের প্রযুক্তি শিক্ষা নিতে উৎসাহ দেওয়া। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, দ্রুত ইন্টারনেট এবং দক্ষ শিক্ষকের ব্যবস্থা থাকা দরকার। শিক্ষার্থীদের শুধু বই পড়ালেই হবে না, তাদের হাতে কলমে কাজ শেখাতে হবে। এতে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। গ্রামের মেয়েদের জন্য প্রযুক্তি শিক্ষা আরও সহজলভ্য করা প্রয়োজন। অনেক গ্রামে প্রযুক্তি শিক্ষা আরও সহজলভ্য করা প্রয়োজন। অনেক গ্রামে এখনো কম্পিউটার, ইন্টারনেট এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ কম। তাই শহর ও গ্রামের মধ্যে এই পার্থক্য কমিয়ে আনতে হবে। তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা শুধু চাকরি পাওয়ার জন্য নয়, নিজেন দক্ষতা বাড়ানোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষিত ও দক্ষ নারী সহজেই নতুন প্রযুক্তি শিখতে পারেন এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে পরিবর্তন করতে পারেন। তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহন যত বাড়বে, তত বেশি নারী দক্ষ হয়ে উঠবেন।
চাকরি ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ
বর্তমান সময়ে চাকরি ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। আগে নারীরা বেশি ঘরের কাজেই সীমাবদ্ধ থাকতেন। কিন্তু এখন তারা শিক্ষা গ্রহণ করে বিভিন্ন পেশায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। একজন নারী এখন শিক্ষক, ডাক্তার, নার্স, বিচারক, সাংবাদিক, উদ্যোক্তা এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখে। নারীরা নিজের আয় দিয়ে পরিবারকে সাহায্য করেন এবং দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখেন। অনেক নারী নিজেদের ব্যবসা শুরু করে অন্য মানুষের জন্য ও কর্মস্থানের সুযোগ তৈরি করছেন। এছাড়া তৈরি পোশাক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে নারীদের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কর্মক্ষেত্রে নারীরা এখনও কিছু সমস্যার মুখোমুখী হন। অনেক সময় তারা সমান কাজের জন্য সমান বেতন পান না। কিছু জায়গায় নিরাপত্তার অভাব, হয়রানি, দীর্ঘ কর্মঘন্টা এবং পরিবার ও চাকরির দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করার কারনে তাদের অনেক কষ্ট হয়। এসব সমস্যা দূর করতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সমান সুযোগ, ন্যায্য বেতন এবং নারীদের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করছে। সমাজের সবাই যদি নারীদের কাজের প্রতি সম্মান দেখায় এবং তাদের এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করে, তাহলে তারা আরও ভালোভাবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। চাকরি ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহন একটি দেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। নারী ও পুরুষ একসঙ্গে কাজ করলে সমাজ ও দেশ আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হবে। তাই নারীদের জন্য সমান অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সম্মান নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
সাইবার নিরাপত্তায় নারীদের ভূমিকা
সাইবার নিরাপত্তায় নারী বলতে সাইবার জগতে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদানকে বোঝায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আরও বেশি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও ডিজিটাল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। আর সমাজের অংশ হিসেবে ডিজিটাল প্রযুক্তির সব ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ থাকবে এটাও স্বাভাবিক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউএন উইমেন বাংলাদেশ পরিচালিত এক গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা যায়, দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ২১ দশমিক ২৫ শতাংশই নারী। নারীরা সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা বিশ্লেষণ, সাইবার অপরাধ তদন্তকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
ফ্রিল্যাংসিং ও অনলাইন কাজে নারীদের অংশগ্রহণ
বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যাংসিং ও অনলাইন কাজে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নতির কারনে এখন অনেক নারী ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরনের কাজ করে আয় করতে পারছেন। এতে তারা পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের কর্মজীবন ও গড়ে তুলতে পারছেন। ফ্রিল্যাংসিং এমন একটি কাজ, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট অফিসে না গিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করা যায়। বর্তমানে অনেক নারী গ্রাফিক ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও এডিটিং, ডাটা এন্ট্রি, অনুবাদ, ভার্চুয়াল অ্যাসিসটেন্ট এবং অনলাইন টিউটরিংয়ের মতো বিভিন্ন কাজে যুক্ত আছেন। এছাড়া অনেক নারী ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম বা নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসাও পরিচালনা করছেন। এসব কাজের মাধ্যমে তারা নিজের আয় বাড়াচ্ছেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে সাহায্য করছেন। ফ্রিল্যাংসিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিজের সুবিধা মতো সময় বেছে নিয়ে কাজ করা যায়। এতে পড়াশোনা, সংসার এবং কাজ একসঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হয়। অনেক নারী চাকরির সুযোগ না পেলেও অনলাইন কাজের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সফল হচ্ছেন। এর ফলে নারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তারা আরো স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন। তবে এই খাতে কিছু সমস্যা ও রয়েছে। অনেক নারীর পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতা নেই, কোথাও কোথাও ভালো ইন্টারনেট সংযোগের অভাব রয়েছে। আবার অনলাইনে প্রতারণা, ভুয়া কাজের প্রস্তাব এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি ও দেখা দেয়। সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নারীদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যাংসিং কোর্স এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এসব উদ্যোগের ফলে আরও বেশি নারী অনলাইন কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সবশেষে বলা যায়, ফ্রিল্যাংসিং ও অনলাইন কাজে নারীদের অংশগ্রহন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের ভূমিকা
বর্তমান সময়ে উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের ভূমিকা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং সচেতনতার প্রসারের ফলে অনেক নারী এখন নিজ উদ্যোগে ছোট বড় ব্যবসা শুরু করছেন। এতে তারা শুধু পরিবারের আয়েই অবদান রাখছেন না, বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। উদ্যোক্তা হওয়া মানে হলো নিজের দক্ষতা ও পরিকল্পনা দিয়ে নতুন ব্যবস্থা বা সেবা শুরু করা এবং তা সফলভাবে পরিচালনা করা। বর্তমানে অনেক নারী হস্তশিল্প, বুটিক ব্যবসা, অনলাইন শপ, কসমেটিক্স বিক্রয়, খাদ্যপণ্য উৎপাদন, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ, বিউটি পার্লার, ফ্যাশন ডিজাইন এবং বিভিন্ন সেবা খাতে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া অনেক নারী ফেসবুক পেইজ, ইনস্টাগ্রাম এবং ই কমার্স প্লাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তারা নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন এবং অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করছেন। উদ্যোক্তা হওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিজের ইচ্ছা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার স্বাধীনতা পাওয়া। এতে নারীরা পরিবার ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আত্মনির্ভনশীল হতে পারেন। অনেক নারী চাকরির সীমিত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও উদ্যোক্তা হয়ে সফলতা অর্জন করছেন। এর ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সমাজে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তবে এই ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক নারীর পর্যাপ্ত মূলধন বা আর্থিক সহায়তা নেই। ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার অভাবও দেখা দেয়। তবে সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নারীদের উদ্যোক্তা উন্নয়নের জন্য ঋণ সহায়তা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা করছে। এসব উদ্যোগের ফলে আরো বেশি নারী উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন। অবশেষে বলা যায়, উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের ভূমিকা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সুযোগ এবং সহযোগীতা পেলে নারীরা ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা খাতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবেন।
তথ্য প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণের সুবিধা
বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহন অনেক বেড়েছে। এর ফলে শুধু নারীরাই নয়, পরিবার, সমাজ ও দেশ উপকৃত হচ্ছে। শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি নারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তথ্য প্রযুক্তিতে কাজ করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নারীরা নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারেন এবং সহজে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। অনেক নারী কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে চাকরি ফ্রিল্যাংসিং এবং অনলাইন ব্যবসা করছেন। এতে নিজের আয় করতে পারছেন এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। নিজের আয় থাকলে একজন নারী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং পরিবারের প্রয়োজনেও সাহায্য করতে পারেন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসেই কাজ করার সুযোগ পান। তাই তারা সংসার বা পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে চান, তাদের জন্য এটি খুবই সুবিধাজনক। এছাড়া অনলাইন প্রশিক্ষণ, ভিডিও ক্লাস এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট ব্যবহার করে নতুন নতুন দক্ষতা শেখা যায়। এর ফলে নারীরা নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা আরও উন্নত করতে পারেন। তথ্য প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দক্ষ নারী কর্মী বাড়লে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং দেশের আয় ও বাড়ে। অনেক নারী নতুন ব্যবসা শুরু করে অন্য মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেন। পাশাপাশি তারা নতুন নতুন উদ্ভাবনী কাজেও অংশ নিতে পারেন। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, নতুন তথ্য জানতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পান। এতে তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পায়। তথ্য প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহন, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই নারীদের তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় আরও উৎসাহিত করা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা খুবই প্রয়োজন।
নারীদের অংশগ্রহণের পথে বাঁধা
বর্তমান সময়ে শিক্ষা, চাকরি, তথ্য প্রযুক্তি, ব্যবসা এবং বিভিন্ন পেশায় নারীদের অংশগ্রহন আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। তবুও অনেক নারী বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারনে সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অংশগ্রহন করতে পারে না। এসব বাধা ধূর করা হলে নারীরা আরও বেশি উন্নতি করতে পারবেন এবং দেশের উন্নয়নে ও বড় ভূমিকা রাখবেন। নারীদের অংশগ্রহণের অন্যতম বড় বাধা হলো সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্য। অনেক জায়গায় এখনো মনে করা হয় যে, নারীদের শুধু ঘরের কাজ করা উচিত। ফলে অনেক নারী নিজের ইচ্ছা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা বা চাকরির সুযোগ পান না। আরেকটি বড় সমস্যা হলো শিক্ষার অভাব। অনেক নারী প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। ফলে তারা ভালো চাকরি বা তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কাজে অংশ নিতে পারেন না। অর্থনৈতিক সমস্যাও একটি বড় বাধা। অনেক পরিবারের পক্ষে কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ইন্টারনেট বা প্রশিক্ষণের খরচ বহন করা সম্ভব হয় না। তাই অনেক নারী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হারিয়ে ফেলেন। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব, হয়রানি এবং বৈষম্য ও নারীদের জন্য বড় সমস্যা। অনেক নারী নিরাপদ পরিবেশ না পাওয়ার কারনে কাজ করতে ভয় পান বা চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। একই কাজ করার পরও অনেক ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ সমান সুযোগ বা সমান সম্মান পান না। এছাড়া পরিবারের দায়িত্ব ও অনেক সময় নারীদের জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। সংসারের কাজ, সন্তান লালন পালন এবং পরিবারের অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক নারী নিজের কর্মজীবনে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। এসব সমস্যা দূর করতে প্রয়োজন সবার সচেতনতা, নারীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সমান অধিকার এবং পারিবারিক সহযোগিতা। সরকার, পরিবার এবং সমাজ একসঙ্গে কাজ করলে নারীরা আরো বেশি সুযোগ পাবেন এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। নারীদের অংশগ্রহনের পথে থাকা বাধাগুলো দূর করা গেলে তারা নিজেদের দক্ষতা ও মেধা কাজে লাগিয়ে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।
পরিবার ও সমাজের ভূমিকা
নারীদের শিক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি, চাকরি, ফ্রিল্যাংসিংং ও উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়ার জন্য পরিবার ও সমাজের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারী যদি পরিবারের সমর্থন ও সমাজের সহযোগিতা পান, তাহলে তিনি তার মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সহজেই সফল হতে পারেন। পরিবার হলো একজন নারীর প্রথম শিক্ষার জায়গা। পরিবারের সদস্যরা যদি মেয়েদের শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেন এবং তাদের পড়াশোনা ও দক্ষতা অর্জনে উৎসাহ দেন, তাহলে তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো কাজ করতে পারবেন। মেয়েদের ছেলেদের মতোই সমান সুযোগ দেওয়া উচিত। পরিবার যদি তাদের ওপর বিশ্বাস রাখে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে, তাহলে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করবে। সমাজের ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। সমাজে নারী ও পুরুষের সমান মর্যাদা দিতে হবে। নারীদের প্রতি বৈষম্য, কুসংস্কার এবং নেতিবাচক মনোভাব দূর করতে হবে। সমাজের মানুষ যদি নারীদের সম্মান করে এবং তাদের কাজকে মূল্যায়ন করে, তাহলে আরো বেশি নারী শিক্ষা, চাকরি, তথ্য প্রযুক্তি এবং ব্যবসায় অংশগ্রহন করতে উৎসাহিত হবেন। এছাড়া নারীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও বৈষম্য বন্ধ করতে হবে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যম ও নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবার ও সমাজ একসঙ্গে কাজ করলে নারীরা প্রযুক্তি শিক্ষা, ফ্রিল্যাংসিং, অনলাইন ব্যবসা এবং অন্যান্য পেশায় আরো বেশি সফল হতে পারবেন। এতে তারা নিজেদের উন্নতির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর করণীয় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বর্তমান সময়ে নারীরা শিক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি, চাকরি, ফ্রিল্যাংসিং, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় গুরুত্বপূ্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তবে তাদের অংশগ্রহন আরো বাড়ানোর জন্য পরিবার, সমাজ, সরকার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। প্রথমত, নারীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের পড়াশোনা ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতি উৎসাহ দিতে হবে। কম্পিউটার, ইন্টারনেট এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তি, ফ্রিল্যাংসিং এবং উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নারীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, বৈষম্য এবং অন্যায় আচরণ বন্ধ করতে হবে। একই কাজের জন্য নারী ও পুরুষকে সমান সুযোগ ও ন্যায্য সম্মান দিতে হবে। পরিবারকে ও নারীদের কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখতে হবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। তৃতীয়ত, নারীদের সহজ শর্তে ঋণ, আর্থিক সহায়তা এবং ব্যবসা শুরু করার সুযোগ দিতে হবে। যারা নতুন উদ্যোক্তা হতে চান, তাদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে আরো বেশি নারী সফল হতে পারবেন। পাশাপাশি গ্রামের নারীদের জন্যও ইন্টারনেট সুবিধা এবং প্রযুক্তি শিক্ষা সহজলভ্য করতে হবে। ভবিষ্যতে নারীদের জন্য সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করতে হবে। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে অনলাইন চাকরি, ফ্রিল্যাংসিং, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা, ই-কমার্স এবং অনলাইন শিক্ষার মতো নতুন নতুন কাজের সুযোগ তৈরী হচ্ছে। প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করলে নারীরা দেশে এবং বিদেশে সমানভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এতে তাদের আয় বাড়বে, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতি ও আরো শক্তিশালী হবে।
বর্তমান যুগে তথ্য প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, চাকরি, ফ্রিল্যাংসিং, অনলাইন ব্যবসা এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নারীরা নিজেদের দক্ষতা ও মেধার পরিচয় দিচ্ছেন। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করে তারা শুধু নিজের জীবন ই পরিবর্তন করছে না, বরং পরিবার, সমাজ এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে এখনো অনেক নারী বিভিন্ন সমস্যার কারনে তথ্য প্রযুক্তি খাতে সমানভাবে অংশগ্রহন করতে পারে না। শিক্ষার অভাব, প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতি, সামাজিক কুসংস্কার, অর্থনৈতিক সমস্যা, নিরাপত্তার অভাব এবং পারিবারিক বাধা তাদের অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাই এসব সমস্যা দূর করতে সরকার , পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নারীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, দ্রুত ইন্টারনেট সুবিধা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবারকে মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মজীবনে উৎসাহ দিতে হবে এবং সমাজে নারী পুুরুষের সমান মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এতে আরো বেশি নারী তথ্য প্রযুক্তি খাতে যুক্ত হতে পারবেন এবং নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সফলতা অর্জন করবেন। ভবিষ্যতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার আরো বৃদ্ধি পাবে। তাই নারীরা যদি প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেন, তাহলে তারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস, আয় এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। সবশেষে বলা যায়, নারীদের অংশগ্রহন ছাড়া একটি দেশের পূণাঙ্গ উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই তথ্য প্রযুক্তিতে নারীদের সমান সুযোগ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। নারী ও পুরুষ একসঙ্গে কাজ করলে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।