আধুনিক বিশ্বে বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও মানুষের ভবিষ্যৎ জীবন।

বিজ্ঞানের অগ্রগতি মানে নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও গবেষণার মাধ্যমে মানুষের জীবন যাত্রাকে আরও উন্নত ও সহজ করে তোলা। বিজ্ঞানের অগ্রগতি মানে যুগগে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য যুগান্তকারী ঘটনা। প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিজ্ঞানের অগ্রগতি মানুষের জীবন যাত্রায় বড় পরিবর্তন এনেছে। বিজ্ঞানের অগ্রগতি মানব জাতিকে নতুন ভাবে চিন্তা করার সুযোগ দিয়েছে, পৃথিবী ও মহাবিশ্বের রহস্য উদঘাটনের পথ দেখিয়েছে। এই অগ্রগতি কেবল  মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পরিবর্তন আনেনি, বরং মানুষের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ নতুন দিকে পরিচালিত করেছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের অগ্রগতি পরস্পরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির রহস্য উন্মোচন করতে চেয়েছে। প্রচীনকালে মানুষ প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করত। তখন যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি, যাতায়াত এবং প্রতিদিনের কাজকর্মে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। আজকের দিনে বিজ্ঞানের অগ্রগতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘটেছে, যা মানব জীবনের প্রতিটি দিককে প্রভাবিত করেছে।

বিজ্ঞান মানব সভ্যতাকে যুগে যুগে এগিয়ে নিয়ে গেছে। অতীতের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস আর অনগ্রসরতা দূর করে আজ আমরা বিজ্ঞানের আলোায় আলোকিত। একসময় যা ছিল কল্পনার অতল গহবরে, আজ বিজ্ঞান তাকে করেছে বাস্তব। অসম্ভব শব্দটি যেন বিজ্ঞানের অবিধানে স্থানই পায় না। আজকের পৃথিবীতে বিজ্ঞানই সভ্যতার প্রাণশক্তি। বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে চিকিৎসাক্ষেত্রে নতুন নতুন রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতির ফলে অধিক পরিমাণ খাবার উৎপাদন করা হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে ঘরে বসে অনলাইন ক্লাস করা যাচ্ছে। ডিজিটাল বই এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীরা সহজে জ্ঞান অর্জন করতে পারছে। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানের অগ্রগতি মানুষের জীবনকে আরও উন্নত ও আধুনিক করে তুলবে। বিজ্ঞানের অগ্রগতি শুধু বর্তমান পৃথিবীকে পরিবর্তন করছে না, বরং মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনকেও নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করছে।

বিজ্ঞানের সূচনা

আদিম অরণ্যচারী মানুষ আকাশে বিদ্যুতের ঝলক দেখে চমকে উঠেছিল। বোধ করি সেদিনই তার চেতনার গভীরে  জ্বলে উঠেছিল আলো। সেই আলোর নিশানা ধরেই তার অনন্ত যাত্রা শুরু হল সভ্যতার পথে। পাথরে পাথরে ঘষাঘষি করে যে আগুন জ্বালাতে শিখল, তৈরি করল পাথর দিয়েই অস্ত্র, বনের ডালপালা দিয়ে তৈরি করল মাথা গোঁজাবার ঠাঁই। বোধ করি সেদিনই বিজ্ঞানের  পথে মানুষের পদসঞ্চার ঘটল।


বিজ্ঞানের অগ্রগতি

স্মরণাতীত কালের সেই যাত্রা আজও থামেনি। মানুষের অনন্ত কৌতূহল আর অদম্য অধ্যবসায় তাকে একদিন সত্যি সত্যিই পৌছে দিল বিজ্ঞান লক্ষীর প্রাসাদে। সভ্যতা হলো তিলোত্তমা। আজ বিশ্বজগৎ বিজ্ঞানের উচ্চ মিনারে  চড়ে ঘোষণা করছে মানুষেরই জয়ধ্বনি। বিজ্ঞান যেন সত্যি সত্যিই আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। সেই প্রদীপ হাতেই মানুষের বন্ধ্যামাটির বুক চিরে ফলিয়েছে সোনার ফসল। আকাশ অন্তরীক্ষে, সমুদ্রের অতল তলে, দুর্গম হিমালয়ের সুউচ্চ চূড়ায় আজ মানুষেরবিজয়।

বিজ্ঞানের আধুনিক বিস্ময়

আজকের বিশ্ব বিজ্ঞানের আলৌকিক শক্তিতে ভরপুর। বিদ্যুৎ, টেলিফোন, রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ইন্টারনেট সবই  বিজ্ঞানের দান। আধুনিক সভ্যতা বিজ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল সম্পূর্ণভাবে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে শয্যাগমন পর্যন্ত আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বিজ্ঞানের ছোঁয়া। একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমরা যেন সপ্নবাস্তবের জগতে বাস করছি। বিদ্যুৎ আমাদের ঘরে এনেছে  সূর্যর বিকল্প আলো। রেডিও, টেলিভিশন এনেছে দূরদূরান্তের খবর ঘরের মধ্যে। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট জুঁড়ে দিয়েছে গোটা পৃথিবীকে এক অদৃশ্য জালে। মোবাইলের মাধ্যমে মানুষ আজ একে অপরের কাছে। স্যাটেলােইটের দ্বারা পৃথিবী এখন ছোট্ট গ্রাম গ্লোবাল ভিলেজ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আশ্চর্য সাফল্যে মৃত্যুকে কিছুটা হলেও পরাজিত করে গেছে। টিকা, সার্জারি, রোবট চিকিৎসা, অঙ্গঁ প্রতিস্থাপন এ সবই বিজ্ঞানের বিস্ময়কর সৃষ্টি। যেখানে একসময় মহামারি মানেই মৃত্যু, আজ সেখানে বিজ্ঞান দাঁড়িয়েছে মানবতার প্রহরী হয়ে। 

বিজ্ঞানের আশীর্বাদ

বিজ্ঞার আমাদের জীবনকে করে তুলেছে আরামদায়ক, গতি দিয়েছে প্রতিটি পদক্ষেপে। অনলাইন শিক্ষা, স্মার্টফোন, রোবট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট ব্যবহার মানুষের জীবনকে আরো সহজ ও দ্রুত করেছে। কৃষিক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফলন বেড়েছে, উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবহার চাষের কাজকে  সহজ করে তুলেছে। শিল্পক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবহার উৎপাদন শক্তি বাড়িয়েছে। এছাড়াও গৃহস্থালী জীবনে বিদ্যুৎ, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোভেন ইত্যাদি ব্যবহার কর্মে দ্রুততা যেমন  এনেছে তেমনি সময় ও পরিশ্রম দুই এরই সাশ্রয় করেছে। বিজ্ঞান রেল, মোটর গাড়ি, জাহাজ, বিমান আবিষ্কার করে মানুষের চলাচলকে দ্রুত স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে বিভিন্ন ঔষুধ, ভ্যাকসিন, এক্সরে এমআরআই। এছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষা নির্ণায়ক যন্ত্র, প্রযুক্তি যা প্রতিনিয়ত অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করেছে।সর্বোপরি আজ পুরো বিশ্ব ইন্টারনেটের জালে একত্রিত, যা সম্ভবপর হয়েছে শুধুমাত্র বিজ্ঞানের আশীর্বাদে।

শিক্ষাক্ষেত্রে বিজ্ঞান

প্রাচীন শিক্ষা পদ্ধতির তুলনায় বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে শিক্ষকরা চক, ডাস্টার, ব্ল্যাকবোর্ডের পরিবর্তে মাল্টিমিডিয়া রুমে ক্লাস নিচ্ছেন। বর্তমানে অতি সূক্ষ্ম গাণিতিক হিসাব ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে সহজেই করা যায়। টেলিভিশন, বেতার যেমন বিজ্ঞানের আবিষ্কার তেমনি শিক্ষার উপকরণ কম্পিউটারও বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। এটি শিক্ষাক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য নিয়ে এসেছে। শিক্ষার্থীরা কম্পিউটারের মাধ্যমে নিজেরাই বিভিন্ন  বিষয় শিখতে পারছে যা পূর্বে কখনোই করা যেত না। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারাবিশ্বের বিখ্যাত লেখকদের বই, বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে মুহূর্তের মধ্যেই জানা যায়। আধুনিক বিজ্ঞান নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকরা যেমন পেয়েছে স্বস্তি ছাত্র ছাত্রীরাও হয়ে উঠেছে স্ব নির্ভর। এই অবস্থাকে আরো গতিশীল করতে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন এবং অনলাইন শিক্ষার প্রসার ঘটেছে। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  আরও উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। যত দিন যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছে পড়াশোনা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে বিজ্ঞানের দৌলতে।

চিকিৎসাক্ষেত্রে বিজ্ঞান

বিজ্ঞান বিশ্বসভ্যতায় অনেক বিস্ময়কর উপহার দিয়েছে।  এ বিস্ময়ের অন্যতম হলো আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। হেনরি ডেভিড প্রাচীন গ্রিসের উনান প্রদেশে সনাতন চিকিৎসা পদ্ধতি চালু হয়। ইউনানি নামের এ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পরিচিত করে তোলে গ্রিসের হাকিম ইসকালিবাস। ১৮১০-১৯৩৯ এ উপমহাদেশে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এর উদ্ভাবক চিলেন জার্মান চিকিৎসক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান। বিজ্ঞানের আশীর্বাদে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের ফলে মানুষ ঝাড় ফুঁক, অন্ধবিশ্বাস থেকে বেরিয়ে এসে হোমিওপ্যাথি ও অ্যালোপ্যাথিকের উপর নির্ভর করে। আগে বসন্ত, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া প্রভূতি রোগের কারণে মহামারী দেখা দিত যা বিজ্ঞানের প্রভাবে দূর করা সম্ভব হয়েছে।বর্তমানে বিজ্ঞানের কল্যাণে দূরারোগ্য ব্যাধিতে ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেকাংশে কমেছে। এক্সরে , পেনিসিলিন, রঞ্জন রশ্মি, ইসিজি, সিটি স্ক্যান, আল্টাসনোগ্রাফি এমআরআই প্রভূতি যন্ত্রের মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞান অসম্ভবকে সম্ভব করেছে।

কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান

বিজ্ঞান কৃষিক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন সাধন করেছে। কৃষিকাজে এখন আর কাঠের লাঙ্গল ব্যবহৃত হয় না, তার পরিবর্তে কলের লাঙ্গল, ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার ইত্যাদি দিয়ে জমি চাষের উপযুক্ত করা হয়। সেচ কাজের জন্য বৈদ্যুতিক শক্তিচালিত পাম্প ব্যবহার করা হয়। কৃষিবিজ্ঞানীরা নতুন নতুন বীজ আবিষ্কারের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন বাড়িয়ে দিচ্ছে। উন্নত মানের সময়োপযোগী এবং উচ্চ ফলনশীল জাত আবিষ্কারের ফলে সারা বছরই ধান, শাক সবজি ফলানো সম্ভব হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশে যদিও কৃষিক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি নির্ভরতা কম তবুও অনেক উন্নতি সাধিত হয়েছে। বিজ্ঞাননির্ভর গবেষণামূলক, প্রমান্য অনুষ্ঠান যেমন কৃষি দিবানিশি, মাটি ও মানুষ ইত্যাদির মাধ্যমে কৃষকদেরকে কৃষিক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য সঠিক পরামর্শ ও জ্ঞান দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব

আমরা এমন এক যুগে বসবাস করছি, যাকে আধুনিক বিজ্ঞান যুগ বলা হয়। বিজ্ঞান শিক্ষা হলো প্রকৃতি, বস্তু, প্রাণী, শক্তি ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে ‍যুক্তিভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অনুসন্ধানী মন গঠন, যুক্তি ও বিশ্লেষণমূলক চিন্তা তৈরি এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা গড়ে তোলা। বিজ্ঞান শিক্ষা মানুষকে কুসংস্কার মুক্ত ও বাস্তববাদী করে তোলে। প্রতিদিনের জীবনযাত্রা, শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসা, কৃষি, প্রযুক্তি, শিল্প ও পরিবেশ সবক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের প্রত্যক্ষ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি দিয়েছে উন্নতির সোপান। আর এই উন্নতির পথ তৈরি করে বিজ্ঞান শিক্ষা। তাই বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বিজ্ঞান ছাড়া আধুনিক জীবন কল্পনাও করা যায় না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কাজেই বিজ্ঞানের উপস্থিতি আছে।

বিজ্ঞানের অপব্যবহার

বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করেছে। কিন্তু বিজ্ঞানের সঠিক ব্যবহার না করে ভুল কাজে ব্যবহার করলে তাকে বিজ্ঞানের অপব্যবহার বলা হয়। বিজ্ঞান যেমন আশীর্বাদ, তেমনি তার অপব্যবহার বিপর্যয় ডেকে আনে, পারমাণবিক অস্ত্র, রাসায়নিক বোমা, দূষণ, পরিবেশের ক্ষয় প্রভূতি মানবজীবনের জন্য হুমকিস্বরুপ। কিছু মানুষ বিজ্ঞানকে মানুষের ক্ষতি করার জন্য কাজে ব্যবহার করছে। যেমন অস্ত্র তৈরিতে, পরিবেশ দূষণে, ব্যক্তিগত তথ্য চুরিতে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রতারণা করা বিজ্ঞানের অপব্যবহারের উদাহরণ। এছাড়াও অতিরিক্ত মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহার করলে লেখোপড়া ও প্রতিদিনের কাজে সমস্যা হাতে পারে। বিজ্ঞানের অপব্যবহারের কারণে মানুষের জীবন ও পরিবেশের ক্ষতি হয়।  তাই বিজ্ঞানের ব্যবহার যেন মানবকল্যাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে,  তবেই বিজ্ঞানের প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল  হবে। 

মানব কল্যাণে বিজ্ঞান

বিজ্ঞান মানব সভ্যতার অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান আধুনিক যুগ পর্যন্ত বিজ্ঞানের অবদান মানুষের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করেছে। মানুষের চিন্তা চেতনা ও জীবন ধারায় বিজ্ঞান এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আধুনিক সভ্যতার  প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রভাব  সুস্পষ্ট। বিজ্ঞান মানুষের অজানাকে জানার পথ উন্মুক্ত করেছে। এটি মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে উন্নতির  ভিত্তি স্থাপন করেছে। বিজ্ঞানের মাধ্যমে মানুষ প্রকৃতিকে জয় করতে সক্ষম হয়েছে। তাই বিজ্ঞান মানব কল্যাণের এক অপরিহার্য শক্তি হিসেবে বিবেচিত। বিজ্ঞান মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প ও যোগাযোগ সবই বিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল। মানুষের জীবন হয়েছে সহজ ও আরামদায়ক। আধুনিক প্রযুক্তি জীবনমান উন্নত করেছে।

মানুষের কর্মজীবনে বিজ্ঞানের প্রভাব

বিজ্ঞান মানুষের কর্মজীবনকে সহজ, দ্রুত ও আরামদায়ক করেছে। বিজ্ঞার আবিষ্কারের ফলে মানুষের কর্মজীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আগে মানুষ বেশির ভাগ কাজ হাতে করতো। এতে অনেক সময় ও শ্রম লাগত। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে বিভিন্ন যন্ত্র ও প্রযুক্তির সাহায্যে খুবই কম সময়ে অকের কাজ করা যাচ্ছে। কৃষি কাজ, চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা বাণিজ্য, কলকারখানা ও অফিসের কাজে বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার কম্পিউটার, মোবাইল ও ইন্টারনেটের সাহায্যে মানুষ সহজেই একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে। ঘরে বসে মানুষ অনলাইনে কাজ করতে পারছে। এতে মানুষ টাকা উপার্জন করতে পারছে। বিজ্ঞান মানুষের জন্য নতুন নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞানের অপপ্রয়োগ ও মানুষের ভবিষ্যৎ

নব নব অত্যাশ্চর্য আবিষ্কারের পশ্চাৎ ধারন করেই একদিন প্রফুল্ল কমলে কীট বাসের মতো বিজ্ঞানের কালসাপ ঢুকে পড়ল আমাদের ঘরে। আত্মঅহংকারী মানুষ বিজ্ঞানকে স্বার্থ সিদ্ধির মাধ্যমে হিসেবে ব্যবহার করে পৃথিবীতে ডেকে আনল হিংসা বিদ্বেষ। মানুষের পৃথিবীতে তৈরি হল মানুষ মারার কল। ১৯৪৫সালে হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে পড়ল বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত পরমানু বোমা। লক্ষ লক্ষ প্রাণের আর্তনাদ আর মৃত্যুর বীভৎসতা সেদিন মানুষের মনে একে দিয়েছিল জিজ্ঞাসার চিহ্ন। বিজ্ঞান কোন পথে চলেছে? তারপর থেকে মানুষের আগ্রাসী মনোভাব মহাকাশ গবেষণার নামে আবিষ্কার করেছে আকাশ যুদ্ধের কলা কৌশল, পরমাণু গবেষণার নামে তৈরি করেছে পারমাণবিক বোমা। এইভাবে বিজ্ঞানের অপব্যবহার করে মানুষ তৈরি করে চলেছে মরণ যন্ত্র। তাই বিজ্ঞান আজ অভিশাপ রুপে প্রতীয়মান হয়েছে মানুষের কাছে।

মানবকল্যাণে বিজ্ঞানের সঠিক ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ

বিজ্ঞান মানুষের জীবনে আশীর্বাদ। বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ, সুন্দর ও উন্নত হয়েছে। মানুষের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান রয়েছে। তবে বিজ্ঞানের ভালো ফলাফল পেতে হলে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিজ্ঞানকে মানুষের ক্ষতি করার কাজে ব্যবহার না করে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত। বিজ্ঞানের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মানুষ আরও উন্নত জীবন লাভ করতে পারবে। মানুষের জীবন সহজ থেকে আরও সহজ হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কঠিন রোগের চিকিৎসা, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষাক্ষেত্র ইত্যাদি আরও সহজ হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত যন্ত্রের সাহায্যে মানুষের অনেক কঠিন কাজ সহজে শেষ করা হবে। বিজ্ঞান নতুন নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং মানুষের জীবনের মান আরও উন্নত করবে।

আমরা বিজ্ঞানের এই ধ্বংসাত্মক মূর্তি দেখতে চাই না। যে বিজ্ঞানের হাত ধরে আমরা আলোয় এসেছিলাম সেই বিজ্ঞান আমাদের উত্তীর্ণ করুক আরও প্রজ্ঞানের মহাতীর্থে। মানবতা হোক বিজ্ঞানের ভূষণ। কল্যাণ মুর্তি হোক বিজ্ঞানের গোপন কথা। এজন্য মানুষকে অন্তর থেকে বিদ্বেষের বিষ নাশ করে মানবতাকে দীক্ষা নিতে হবে। প্রকৃত জ্ঞানময় বিজ্ঞান যেন আমাদের শুভ চেনার বিকাশে হয়ে ওঠে জিয়নকাঠি। তবেই তার অভিশাপ মূর্তির খোলস ঝরে গিয়ে কল্যাণ মূর্তির জ্যোতির্ময়তায় উদ্ভাসিত  হবে বিশ্বজগৎ। 
Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url