বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি সুস্বাদু খাবার পিজ্জা ও তার পুষ্টিগুণ।

পিৎজা বা পিজ্জা হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি খাবার। পিজ্জা খেতে ছোট বড় সবাই ভালবাসেন। গোলাকৃতির একটি রুটি তার উপর সাজানো চিজ, মাংস এবং বিভিন্ন রকমের সুস্বাদু টপিংস। কি? বর্ণনা শুনে জিভে জল চলে এল! হ্যা পিজ্জা এমনই একটি খাবার যা কিনা যেকোনো মানুষের জিভে জল এনে দেয় অনায়াসেই। এই খাবারটির উদ্ভাবন হয়েছে মূলত ইতালির নেপলিয়ন শহরে। পিৎজা মূলত ইতালিয়ান খাবার এবং এর উৎপত্তিস্থলও ইতালিতে। ১৮০০ দশকের শুরুর দিকের কথা তখন ইতালির নেপলিয়ন শহরে সাধারণ মানুষের তুলনায় শ্রমিক, দিনমজুর লোকেদের সমাগম ছিল বেশি। যারা সকালে খাবার খেয়ে বের হতো একেবারে সন্ধায় বাড়ি ফিরে তারপরে দিনের দ্বিতীয় খাবার গ্রহণ করত। লোকজনের এমন অবস্থা দেখে নেপোল শহরের কিছু বেকারি ভ্রাম্যমাণ গাড়ি বসিয়ে এক ধরনের খাবার বিক্রি করা শুরু করে। বিরাট আকৃতির একটি রুটির উপর বিভিন্ন সবজি এবং মাংস ছিটিয়ে গরম চুলিতে বেক করে পিস পিস করে খুবই সামান্য মূল্যে বিক্রি করা হতো সেই সব গাড়িতে। যার নাম দেওয়া হয় নেয়াপলিটিয়ান পাই। স্বাদে অনন্য এবং দামে কম হওয়ার কারণে নেপোলসের সর্বত্র খাবারটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। আর পিৎজার শুরুটা ঠিক এখান থেকেই। বর্তমানে আমরা যে পিৎজার সাথে পরিচিত তার সাথে আকার আকৃতিতে নেয়াপলিটিয়ান পাই এর বেশ পার্থক্য ছিল। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিকরও।


পিৎজার এই আধুনিকায়ন ও পিৎজার নামকরণের পেছনেও রয়েছে বেশ মজার একটি গল্প। সময়ের পাতায় তখন চলছিল ১৮৮৯ সাল। ইতালিতে ছিল রাজা আমবের্তো এর রাজত্ব। রাজা আমবের্তো তার রাণীকে নিয়ে নেয়াপলিটিয়ান পাই খেয়ে মুগ্ধ হয়ে এর নাম দেন মার্গারিতা পিজ্জা। রাজা রাণীর পছন্দেন খাবার শুনার পর অভিজাত মহলে এ পিজ্জার কদর সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায়। এভাবেই ধীরে ধীরে পুরো বিশ্ব জুড়ে পিৎজা একটি জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু খাবার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে কোনো বৈঠকের টেবিলে, পাড়ার কোণের ছোট্ট রেস্তরায় জমে উঠা বন্ধু বান্ধবের আড্ডায় পিজ্জার চাহিদা সর্বত্র। বিশ্বের সবখানেই পিজ্জা নিয়ে মাতামাতি। পিজ্জা ছাড়া আজকাল কোনো অনুষ্ঠান বা পার্টি  সমপূর্ণই হয় না। এর সৌন্দর্য আর দারুণ স্বাদ দেশি বিদেশি মানুষেন নজর কেড়েছে। এর উৎপত্তি ইতালিতে হলেও বর্তমানে প্রায় সব দেশেই এটি সমানভাবে জনপ্রিয়। বর্তমানে ভেজিটেবল, চিকেন, বিফ, সি ফুডসহ নানা ধরণের পিৎজা পাওয়া যায়। বন্ধু বান্ধব বা পরিবারের সাথে আড্ডা, উৎসব  আনন্দ ভাগাভাগি  করার একটি জনপ্রিয় খাবার পিজ্জা। তবে পিৎজা যতই সুস্বাদু হোক, এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো। 

পিজ্জা কী?

পিজ্জা হলো একটি জনপ্রিয় ও সুস্বাদু খাবার, যা মূলত ময়দার তৈরি গোলাকৃতির রুটির ওপর বিভিন্ন উপকরণ সাজিয়ে তৈরি করা যায়। পিজ্জার ওপর সাধারণত টমেটো সস, চিজ, মাংস, মুরগি, মাছ, মাশরুম, ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর উপকরণ ব্যবহার করা হয়। উপকরণ রুটির ওপর সুন্দরভাবে সাজানোর পর পিজ্জাকে ওভেনে বেক করা হয়। তাপে চিজ গলে যায় এবং সব উপকরণের স্বাদ একসঙ্গে মিশে পিজ্জাকে আরও সুস্বাদু করে তোলে। পিজ্জার আকার সাধারণত গোল হলেও বর্তমানে বিভিন্ন আকার ও স্বাদের পিজ্জা পাওয়া যায়।

পিজ্জার উৎপত্তি ও ইতিহাস

পিজ্জার আধুুনিক রূপের উৎপত্তি ইতালির নেপলস শহরে। ১৮ শতকে নেপলসের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি সস্তা স্ট্রিট ফুড হিসেবে প্রথম জনপ্রিয়তা লাভ করে। পিজ্জার এই আধুনিকায়ন ও নামকরণের পেছনে রয়েছে বেশ একটি মজার গল্প। সময়ের পাতায় তখন চলছিল ১৮৮৯ সাল। ইতালিতে ছিল রাজা আমবের্তো এর রাজত্ব। রাজা আমবের্তো তার রাণীকে নিয়ে বেড়াতে এলেন নেপোলসে। নেপোলসে এসে লোকমুখে নেয়াপলিটিয়ান পাই এর কথা শুনে রাণী ইচ্ছা পূষন করলেন, তিনি নেয়াপলিটিয়ান পাই এর স্বাদ নেবেন। তাই রাণীর ইচ্ছা পূরণ করতে ডাকা হল ইতালির বিখ্যাত শেফ রাঁফায়েলকে। তিনি গোলাকৃতির একটি রুটির একপাশে লাল টমেটোর সস, মাঝে সাদা চিজ এবং অপর পাশে সবুজ ক্যাপসিকাম ব্যবহার করে ইতালির পতাকার ঢঙে নেয়াপলিটিয়ান পাই পরিবেশন করেন রাণীর সামনে। রাফায়েলের তৈরি এই খাবার রাজা এবং রাণীর উভয়েরই এত ভালো লেগে যায় যে, রাজা তখনি এর নাম ঘোষণা করেন মার্গারিতা পিজ্জা হিসেবে। রাজা রাণীর পছন্দের খাবারের কথা শুনার পর অভিজাত মহলে এই পিজ্জার কদর সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায়। মানুষ তখন দুপুর কিংবা রাতের খাবার হিসেবে পিৎজা খাওয়া শুরু করে। শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের ক্ষুধা নিবারনের জন্য আবিষ্কৃত এই নেয়াপলিটিয়ান পাই পুরোপুরি রুপান্তরিত হয়  পিজ্জায়। আর এভাবেই ধীরে ধীরে পুরো বিশ্ব জুড়ে ধনী গরিব সকলের কাছে পিৎজা একটি জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু খাবার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পিজ্জা ইতালির সীমানা পেরিয়ে ইউরোপ, আমেরিকা ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন দেশে স্থানীয় স্বাদ ও উপকরণ অনুযায়ী পিজ্জার নানা ধরনের রূপ তৈরি হয়েছে। 

পিজ্জার উপকরণ

ফাস্টফুড প্রেমিকের কাছে এবং আমাদের দেশে ছোট বড় সবার কাছেই পিৎজা অনেক জনপ্রিয় নাম। মুখে জল আসা পিৎজা খেতে চলে যাই রেস্টুরেন্টে। তবে ঘরে বসেই আমরা ফাস্টফুডের মত মুখরোচক পিৎজা বানাতে পারি খুব সহজেই। শুধু হাতের নাগালে কিছু উুপকরণ থাকলেই হয়।  যেকোনো খাবারের উপকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উপকরণের উপর নির্ভর করে খাবার বানানো হয়। পিজ্জা বানাতেও কিছু উপকরণের প্রয়োজন হয়। পিজ্জার উপকরণের তিনটি ধাপ রয়েছে। পিজ্জার ডো বানানো, টমেটো সস এবং টপিং ও মোজারেলা চিজ। পিৎজার ডো এর জন্য উপকরণ হল ১। ময়দা ২কাপ, ২। ইস্ট ২ চামচ, ৩। ডিম ১ টি, ৪। তেল পরিমাণ মতো, ৫। গরম পানি পরিমাণ মতো, ৬। গুঁড়া দুধ ২ চামচ, ৭। চিনি ১/২ চা চামচ, ৮। লবণ পরিমাণ মতো। গরম পানিতে ঈস্ট মিশিয়ে ঢেকে রাখুন ৫ মিনিট। দেখবেন ইস্ট ‍ফুলে উঠেছে। বড় একটি পাত্রে ময়দা, ডিম, তেল, চিনি, লবণ ও দুধ ভালোভাবে মিশান। গরম পানি মিশানো ইস্ট দিন ময়দায়। ময়দা ভালোভাবে ময়ান দিন ১০ মিনিট, ডো টি বেশ আঠালো হবে। ডো এর চারদিকে তেল ‍মিশিয়ে ক্লিং ফিল্ম দিয়ে ঢেকে গরম জায়গায় রেখে দিন। সসের জন্য উপকরণ ১। টমেটো কুচি ২ টি, ২। রসুন কুচি ১টি, ৩। চিনি স্বাদ মতো, ৪। লবণ পরিমাণ মতো, ৫। গোলমরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, ৬। তেল পরিমাণ মতো, ৭। অরিগানো ১/২ চা চামচ, টমেটো সহ সসের সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট রান্না করুন। ঘন হয়ে আসলে নামিয়ে ঠান্ডা করুন।টপিং এবং চিজ এর জন্য উপকরণ  ১। মোজারেলা চিজ, ২। চিকেন বা বিফ কিমা ২ কাপ, ৩। পেঁয়াজ কুচি ২ কাপ, ৪। টমেটো সস ২ কাপ, ৫। আদা বাটা ১/২ চা চামচ, ৬। গুঁড়া দুধ ১ চামচ, ৭। মরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, ৮। তেল ও লবণ পরিমাণ মতো, ৯। টমেটো এবং ক্যাপসিকাম ১ কাপ, ১০। ডিম ১টি, ১১। শুকনা মরিচ স্বাদ মতো, ১২। মাখন পরিমাণ মতো, ১৩। গরম মসলার গুঁড়া ১/২ চামচ, ১৪। সয়াসস ২ চামচ।

পিজ্জার ডো তৈরির পদ্ধতি

পিজ্জা বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত। হরেক রকম নাম, রং ও স্বাদের পিৎজা এখন হাতের নাগালে। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে অনেক কিছুই এখন আমাদের হাতের নাগালে। ঘরে বসে আমরা এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের পণ্য কিনতে পারি। ডাল, ভাত, বই, পত্র ও বিভিন্ন মিশিনারি প্রযুক্তি সামগ্রী থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক নানা ধরনের জিনিসপত্রের ক্রেতা আমরা। দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্যসামগ্রীর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ফাস্টফুড আমাদের খাদ্য তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে। সেরকমই একটি সুস্বাদু খাবার হলো পিজ্জা। পিজ্জা তৈরি করতে তার কিছু উপকরণের দরকার হয় এবং পিজ্জার ডো  তৈরি করা পিজ্জার গুরুত্বপূর্ণ  একটি উপকরণ। পিজ্জার ডো হলো একটি সুস্বাদু পিজ্জার মূল ভিত্তি। ডো ভালো ভাবে করতে পারলে পিজ্জা টি ও অনেক ভালো হবে। ডো তৈরির জন্য সঠিক পরিমাণে এর উপকরণ দিতে হবে। ডো এর জন্য প্রয়োজন হয় ময়দা, ইস্ট, ডিম, তেল,গরম পানি, গুঁড়ো দুধ, চিনি ও লবণ। সঠিক ভাবে প্রস্তুত করা ডো ই পিজ্জাকে নরম, হালকা, সুস্বাদু এবং বাইরের অংশে হালকা মুচমুচে টেক্সচার দেয়। ডো তৈরির জন্য প্রথমে গরম পানিতে ঈস্ট মিশিয়ে ঢেকে রাখুন ৫ মিনিট। দেখবেন ইস্ট ‍ফুলে উঠেছে। বড় একটি পাত্রে ময়দা, ডিম, তেল, চিনি, লবণ ও দুধ ভালোভাবে মিশান। গরম পানি মিশানো ইস্ট দিন ময়দায়। ময়দা ভালোভাবে ময়ান দিন ১০ মিনিট, ডো টি বেশ আঠালো হবে। ডো এর চারদিকে তেল ‍মিশিয়ে ক্লিং ফিল্ম দিয়ে ঢেকে গরম জায়গায় রেখে দিন। 

পিজ্জা তৈরির পদ্ধতি

পিৎজা দেশ ও বিদেশের জনপ্রিয় একটি খাবার। পিৎজার সব উপকরণ থাকলে সহজেই এটি বানানো বা তৈরি করা যায়। আগেই আমরা জেনেছি কীভাবে পিজ্জার ডো তৈরি করা হয়। পিজ্জা তৈরি করতে প্রথমে ডো করতে হবে। এবার আসা যাক পিৎজা কিমা রান্না করার প্রস্তুত প্রণালীতে। ফার্মের  মুরগী সুন্দর করে হাড় ছাড়া ছোট ছোট পিস করে কেটে সেটাকে ব্লেন্ডারে ‍দিয়ে ব্লেন্ড করলেই সুন্দর কিমা হয়ে যায়। বিফও ব্যাবহার করতে পারেন। তারপর চুলায় তেল গরম করে পেঁয়াজ একটু ভেজে তাতে মরিচ গুঁড়া, গরম মসলা গুঁড়া, আদা ও রসুন বাটা ও গোলমরিচ গুঁড়া সয়াসস ও লবণ দিয়ে কষাণ। কষানো শেষ হলে কাঁচা মরিচ ছেড়ে দিন। সামান্য পানি দেন সেদ্ধ হওয়ার জন্য। মাংস সেদ্ধ হয়ে গেলে তার মধ্যে প্রথমে গুঁড়া দুধ দেবেন। তারপর টমেটো সস ঢেলে দিবেন ১ কাপের মতো এবং একটু নাড়াচাড়া দিয়ে নামিয়ে ফেলুন। পিৎজার ডো ২ থেকে ৩ ঘন্টা পর অনেক খানি ফুলে যাবে। হাত দিয়ে ডো এর ভিতর থেকে বাতাস বার করতে হবে। এখন একটি স্টিল এর থালায় প্রথমে তেল ছড়িয়ে দিতে হবে। তার উপর ডো টাকে পিৎজার আকারে বেলুন দিয়ে সেট করতে হবে। পিৎজার ডো সেট হয়ে গেলে ডো এর উপর ডিম ফেটানো ছড়িয়ে দিতে হবে। এর উপর রান্না করা কিমা ঢেলে দিন। তার উপর একস্তর সস ঢেলে দেন। আবার এর উপর সবজি, ক্যাপসিকাম ও টমেমো সাজিয়ে দিন। মোজারেলা চিজ কুচি কুচি করে কেটে পুরো পিৎজাতে ছড়িয়ে দিন। সব শেষে মরিচের ফালি ছিটিয়ে দিন, যে যেমন ঝাল পছন্দ করে। ডেকোরেশন শেষ হলে ইলেক্ট্রিক ওভেনে ১৮০ ডিগ্রী সে. তে ১৫ মিনিট রাখুন। ১৫ মিনিট হয়ে গেলে নামিয়ে ফেলুন সুস্বাদু পিৎজা। ১৫ মিনিট পর না হলে আরও ৫ মিনিট রাখুন।   

শিশু ও কিশোরদের কাছে পিজ্জার জনপ্রিয়তা

পিজ্জা শিশু ও কিশোরদের কাছে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। এর সুস্বাদু স্বাদ ও বিভিন্ন ধরনের মজাদার উপকরণ শিশু ও কিশোরদের মন আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে মাংস, মুরগি, সস, চিজ ও বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি পিজ্জা শিশু এবং কিশোরদের কাছে বেশ পছন্দের। শিশু ও কিশোররা জন্মদিনে, পারিবারিক অনুষ্ঠানে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে ও বিভিন্ন উৎসবে পিজ্জা খেতে পছন্দ করে। বর্তমানে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুডের দোকানে নানা স্বাদের পিজ্জা পাওয়া যায়। পাশাপাশি অনলাইনে সহজে পিজ্জা অর্ডার করা যায় বলে এর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।

পিজ্জায় মাংস ও সবজির ব্যবহার 

পিজ্জার স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বাড়াতে মাংস ও বিভিন্ন ধরনের সবজি ব্যবহার করা হয়। পিজ্জায় সাধারণত মুরুগির মাংস, গরুর মাংস, সসেজ বা অন্যান্য মাংসের উপকরণ ব্যবহার করা হয়। মাংসের মাধ্যমে পিজ্জায় সুস্বাদু স্বাদ ও প্রোটিন যোগ হয়। মাংসের সঙ্গে টমেটো, পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম, মাশরুম ও বিভিন্ন ধরনের সবজি ব্যবহার করলে পিজ্জা আকর্ষণীয় ও সুস্বাদু হয়ে ওঠে। সবজি পিজ্জার স্বাদ ও বৈচিত্র বাড়ায়। বিভিন্ন সবজিতে ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশ থাকে, যা সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পিজ্জা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের হৃদয় জয় করলেও পিৎজার সেকেন্ড হোম কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র । ১৯ শতকের শেষের দিকে ইতালীয় অভিবাসীদের আগমনের সাথে পিৎজা প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত হয়েছিল। সিরিয়াস হটস এর একটি কলামে প্রকাশিত ২০০৯ সালের প্রতিক্রিয়া অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিবেশিত পিৎজা সম্পর্কে প্রথম মুদ্রিত রেফারেন্সটি ১৯০৪ সালের দ্য বোস্টন জার্নালে একটি নিবন্ধ।জওভান্নি এবং জেনারো ব্রুনো ১৯০৩ সালে ইতালির নেপলস থেকে আমেরিকায় আসেন এবং বোস্টনে নেয়াপলিটিয়ান পিৎজার প্রবর্তন করেন। পরে, ভিনসেন্ট ব্রুনো শিকাগোতে প্রথম পিৎজারিয়া খুলতে গিয়েছিলেন। দ্বন্দ্বমূলক গল্পের প্রথম পিৎজারিয়া খোলা হয় ১০৯৫ সালে যখন গেনারো লোম্বার্ডি নিউ ইয়র্কে পিৎজা তৈরি এবং বিক্রি করার জন্য লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিলেন। পিৎজা বিক্রির জন্য সাধারণভাবে স্বীকৃত প্রথম মার্কিন ব্যবসায়ের মধ্যে একটি, লম্বার্ডি এর ১৯৮৭ সালে ৫৩ ১/২ স্প্রিং স্ট্রিটে একটি মুদির দোকান হিসাবে খোলা হয়েছিল, টমেটো পাইগুলো কাগজে মোড়ানো এবং একটি স্ট্রিং দিয়ে বেঁধে দেওয়া হতো দুপুরের খাবারের সময় এলাকার কারখানার শ্রমিকদের কাছে বিক্রি করা। ১৯০৫ সালে, পুটেটিভ প্রতিষ্ঠাতা জেনারো লোম্বার্দি একটি পিৎজারিয়া রেস্তোরাঁ পরিচালনা করার জন্য একটি ব্যবসায়িক লাইসেন্স পান এবং শীঘ্রই একটি ক্লায়েন্ট পেয়েছিলেন যার মধ্যে ইতালীয় টেনার এনরিকো কারুসো অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে তিনি ব্যবসাটি তার ছেলে জর্জের হাতে তুলে দেন। 

পিজ্জার পুষ্টিগুণ

পিজ্জা একটি ফাস্টফুড খাবার হলেও এতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। পিজ্জায় অনেকগুলো উপকরণ দেওয়া হয়। আর প্রত্যেকটি উপকরণের নিজস্ব পুষ্টিগুণ রয়েছে। পিজ্জায় ব্যবহৃত শাকসবজি, মাংস  ‍শুধু স্বাদই বাড়ায় না, পুষ্টিগুণ ও বৃদ্ধি করে। চিকেনে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি৬, বি১২, নিয়াসিস ও ফসফরাসের ভালো উৎস। বিফে রয়েছে প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক। পিজ্জার শাকসবজি ক্যাপসিকাম, টমেটো, পেঁয়াজ, মাশরুম ইত্যাদি এগুলোতে রয়েছে ভিটামিন সি, লাইকোপিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ, স্বাস্থ্যকর চর্বি  ও ভিটামিন ই। পিৎজায় টমেটো সসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। এই পুষ্টি আপনার শরীরে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং মৌসুমী সর্দি বা কাশির মতো অসুস্থতা থেকে বাঁচাতে প্রয়োজন। যদি সসে অরেগনো যোগ করা হয়, তাহলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বাড়বে। ওরেগনোর প্রধান উপাদান, কারভাক্রোল, আপনার লিভারকে সুস্থ রাখতে এবং আপনার রক্তে শর্করাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। পিৎজা তৈরিতে স্বাস্থ্যকর টপিংস চয়ন করতে হবে। পিৎজাতে স্বাস্থ্যকর শাকসবজি, চর্বিহীন মাংস, ফল, একটি ক্রিমি সস এবং প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করা। আপনি যদি পারেন পাতলা ক্রাস্ট ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করুন। এটা আপনার শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করবে না। আপনি যদি একটি হোল গ্রেইন পিজ্জা খান, তাহলে আপনি আপনার প্রতিদিনের অন্তত তিনটি শস্যের চাহিদা পূরণ করবেন।  পিজ্জাতে রয়েছে একপাতে একাধিক উপাদান। এটি আপনার শরীরের জন্য পর্যাপ্ত ফাইবার, ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন সরবরাহ করবে। 

পিজ্জার জনপ্রিয়তা

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় পিজ্জা নামটি যেন খুব সহজেই জায়গা করে নিয়েছে।  আজকাল ছোট থেকে বড় অনেকেরই পছন্দ পিৎজা। যার ফলে পিৎজা খেতে ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বড়ই মুশকিল। গরম গরম পিজ্জায় কামড় দিলে যেন মন ভরে যায় অনেকের। আর তা থেকে যখন বেরিয়ে আসে সুস্বাদু চিজ, তখন হয় সোনায় সোহাগা। পিজ্জা মাঝে মাঝে খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। যদি চিজ পিজ্জা খান, সঙ্গে থাকে চিকেন বা মাটন, তাহলে শরীরে ঢুকবে খনিজ পুষ্টি। পিজ্জার মধ্যে যে টপিংস দেওয়া হয় তা থেকে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম সহ নানা উপাদান থাকে। পিজ্জায় দেওয়া চিজে ভালো পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড় শক্ত করে। পিজ্জা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও সহজলভ্য ফাস্টফুড। এটি খাদ্যতালিকায় শীর্ষের দিকেই অবস্থান করছে। বর্তমান যুগে এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে পিজ্জা খাওয়া হয় না। তবে এই পিজ্জার ইতিবৃত্ত খুঁজতে গিয়ে জানা যায় চমকপ্রদ সব তথ্য। সাধারণভাবে পিজ্জার জন্মস্থান ইতালি বলে মনে করা হয়। তবে পিজ্জা বর্তমানে সব দেশে সব জায়গায় সমান জনপ্রিয়তা অর্জর করছে। অন্য সব দেশের মতোই পিজ্জা এখন আমাদের বাংলাদেশেও  ‍খুব সমাদৃত সবার কাছে। বাইরে খেতে গেলে তো বটেই, ঘরেও বিশেষ মজাদার কিছু বানাতে গেলে আজকাল আমাদের প্রথম পছন্দ পিজ্জা। এর বহুমুখিতা ও স্বাদের জন্য এটি খুবই জনপ্রিয়। পিজ্জায় একসঙ্গে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট থাকে। যার ফলে একবার পিজ্জা খেলে অনেক্ষণ পেট ভরা থাকে। পরিশেষে বলা যায়, পিজ্জা স্বাস্থ্যসম্মত, পছন্দনীয় ও সুস্বাদুর কারণেই এটি সবার কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। 

পিজ্জার স্বাস্থ্য উপকারিতা

পিজ্জা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। আপনি পিজ্জা খেতে পারেন মন প্রাণ ভরে। ফাস্টফুডগুলি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। মানুষ এমনটাই ধারণা করেন। তাই বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই এ জাতীয় খাবার খেতে বারন করেন। কিন্তু গরম গরম চিজ দেওয়া পিজ্জা কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এটি পরিমাণমতো বা মাঝেমধ্যে খেলে স্বাস্থ্যের তেমন খারাপ কিছু হবে না, বরং উপকার হবে। পিৎজা একটি চর্বিযুক্ত খাবার। এতে প্রচুর পরিমাণে চিজ, মাখন, পনির জাতীয় জিনিস থাকে। যা  স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। পিৎজাতে রয়েছে সস, যা ভিটামিন সি এর একটি দুর্দান্ত উৎস। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে প্রভাবিত করতে সাহায্য করে। হজমেও সহায়ক। পিৎজা তৈরি হয় ময়দা দিয়ে, যা প্রোটিনের উৎস। ময়দা এমন একটি খাবার যা তৃপ্ত বোধ করে। তাই পিৎজা অন্ত্রের হরমোনগুলিকে সাহায্য করে। তাছাড়া ময়দা ভিটামিন বি এর উৎস। এটি অন্ত্রের ভাল ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। পিজ্জার টপিং ফাইবার বাড়াতে সাহায্য করে। পিজ্জায় প্রচুর পরিমাণে চিকেন হ্যাম থাকে। ভেজ পিজ্জায় থাকে প্রচুর পরিমাণে সবজি। যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। পিৎজা অন্যান্য ফাস্টফুডের তুলনায় কম মশলাদার। তাই এটি গরম গরম খেলে স্বাস্থ্যের জন্য খুব একটা ক্ষতি করে না। পিৎজায় রং বা ক্যামিকেল ব্যবহার করা হয় না। চিজ এ প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন থাকে, যা হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে। পিৎজায় একসঙ্গে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে, তাই পিজ্জা খাওযা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। 

বিভিন্ন দেশে পিজ্জার জনপ্রিয়তা

ইন্দোনেশিয়ায় পিজ্জা হাট সবচেয়ে বড় পিজ্জা চেইন রেস্তোরাঁ। এটি প্রথম ১৯৮৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় কার্যক্রম শুরু করে। এরপর ডোমিনোজ এবং পাপা রনস পিজ্জা সেখানে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। তবে ইন্দোনেশিয়ায় এশীয় ধাঁচের কিছু ফিউশন পিজ্জাও জনপ্রিয়, যেখানে স্থানীয় প্রিয় খাবারকে পিজ্জার টপিং হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যেমন সাথে (Satay), বালাদো (Balado), রেনডাং (Rendang)।আমেরিকান পিজ্জা চেইনগুলো ১৯৭০ দশকে জাপানে প্রবেশ করে। উদাহারণ হিসেবে শেকিস পিজ্জা এবং পিজ্জা হাট ১৯৭৩ সালে, আর ডোমিনোজ ১৯৮৫ সালে জাপানে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। জাপানের সবচেয়ে বড় দেশীয় পিজ্জা চেইন হলো পিজ্জা লা (Pizza-La)। জাপানে স্থানীয় ধাঁচের পিজ্জা খুবই জনপ্রিয়। এসব পিজ্জায় সাধারণত মোয়ানিজ সস ব্যবহার করা হয় এবং কখনো কখনো ভুট্টা, আলু, অ্যাভোকাডোসহ বিভিন্ন উপাদান টপিং হিসেবে যোগ করা হয়। দ্য পিজ্জা কোম্পানি থাইল্যান্ড ২০১৮ সালে ডুরিয়ান পিজ্জা চালু করে, যা নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। এছাড়াও থাইল্যান্ডে  অনেক স্বাধীন পিজ্জা রেস্তোরাঁ রয়েছে, বিশেষ করে ব্যাংকক এবং পর্যটক এলাকাগুলোতে। সেখানে আমেরিকান ধাঁচের পিজ্জা, যাতে পশ্চিমা বা থাই ধরণের টপিং ব্যবহার করা হয়। এখান থেকে শুরু করে ব্যাংককে পাওয়া বেশ খাঁটি নিয়াপলিটিয়ান এবং রোমান ধাঁচের পিজ্জাও পাওয়া যায়। দক্ষিণ কোরিয়ায় পিজ্জা একটি জনপ্রিয় খাবার, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। উত্তর কোরিয়ায় প্রথম পিজ্জার দোকান পিজ্জারিয়া ২০০৯ সালে দেশটির রাজধানী পিয়ংইয়ং এ চালু হয়। আমেরিকান শাসনামলে (১৯০১-১৯৪৬) প্রথম পিজ্জা ফিলিপাইনে আসে। সাধারণ ফিলিপিনো ধাঁচের পিজ্জা অনেকটাই হাওয়াইয়ান পিজ্জার মতো, কারণ এতে আনারস টপিং হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে কখনও কখনও পেপেরোনির পরিবর্তে হ্যাম বা হটডগের টুকরাও ব্যবহার করা হয়। আমেরিকান পিজ্জা চেইনগুলো ১৯৭০ এর দশকে জাপানে প্রবেশ করে। যেমন Shakey Pizza এবং Pizza Hut ১৯৭৩ সালে, আর Dominos ১৯৮৫ সালে কার্যক্রম শুরু করে। জাপানের সবচেয়ে বড় দেশীয় পিজ্জা চেইন হলো Pizza La।

পিজ্জার কিছু সতর্কতা

পিৎজা খাওয়া ভালো। তবে প্রতিদিন বা বেশি পিৎজা খাওয়া শরীরের জন্য একদমই ভালো না, বরং অনেক ক্ষতি হতে পারে। পিজ্জাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, ক্যালরি, চর্বি, এবং প্রক্রিয়াজাত উপাদান। যার ভালো ও খারাপ উভয় দিকই রয়েছে। এটি মাঝে মাঝে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ নয়, তবে নিয়মিত বা অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আগেকার দিনে ৫০ বয়স পেরোনির পর অসুখ বিসুখ দেখা দিত। বিশেষ করে হার্টের রোগী খুব কমই দেখা যেত। তবে বর্তমানে বয়স মাত্র ২৫ থেকে ৩০ পেরতে না পেরোতেই অনেকই হার্টের রোগী হয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন হৃদরোগে কষ্ট পাচ্ছেন। তাই বিশেষজ্ঞরা ছোট বড় সকলকেই হার্টের স্বাস্থ্যের ‍দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ ‍দিয়ে থাকেন। আর এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে চাইলে সবার আগে ফাস্টফুড খাওয়া ছাড়তে হবে। আর আমাদের পছন্দের পিৎজাও একটি ফাস্টফুড এটি আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এটি আমাদের হার্টকে দুর্বল করে দিতে পারে। পিজ্জায় পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় এটি সহজে হজম হয় না। আর এটি খাওয়ার পর আপনার পিছু নিতে পারে গ্যাস, অ্যাসিডিটি। এমনকি অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে পেটে নানা ধরনের অসুখ বা ডায়রিয়া হতে পারে। তাই পেটের সকল সমস্যা এড়াতে পিৎজা খাাওয়া বন্ধ করুন বা পরিমাণমত মাঝে মধ্যে খান। ফাস্টফুড খাওয়ার ফলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ওজন  বেড়ে যাওয়া। পিৎজা একটি হাই ক্যালরি ফুড, এতে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট রয়েছে। তাই নিয়মিত পিজ্জা খেলে তো ওজন বাড়বেই। তাছাড়া এটি সুগার লেভেল বাড়াতে সাহায্য করে। তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই ক্ষতিকর হতে পারে। 

পিজ্জার সুন্দর পরিবেশন

পিজ্জা একটি মুখরোচক খাবার। সাধারণত ইতালিতে পরিবেশিত পিৎজা, ছুরি ও কাটা চামচ দিয়ে একাই খাওয়া হয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। সন্ধায় অনেকে এটি এক গ্লাস বিয়ারের সঙ্গে উপভোগ করেন। সাধারণত পিজ্জার সাথে কোনো সাইড ডিশ পরিবেশন করা হয় না। তবে পিজ্জা আসতে দেরি হলে এবং খুব ক্ষুধা লাগলে অন্য খাবার খেতে পারেন। পিজ্জা ভালোবাসেন না এমন মানুষ নেই বললেই চলে। পিজ্জা দেখলেই জিভে জল চলে আসে। আর পিজ্জা যতই মজাদার আর সুস্বাদু হোক না কেন, এর আকর্ষণীয় সুন্দর পরিবেশনই কিন্তু মানুষকে আকৃষ্ট করে। পিজ্জার সুন্দর পরিবেশন পিজ্জা খাওয়ার আগ্রহ অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। পিজ্জাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে সুন্দর ডালা, সিরামিক প্লেটে, বিভিন্ন কালারিং সিরামিক প্লেটে, কাঠের প্লেটে ইত্যাদিতে সুন্দর করে পরিবেশন করা যায়। পিজ্জার উপরে তুলসী পাতা, অলিভ ওয়েল, অরিগানো, চিলি ফ্লেক্স ইত্যাদি দিয়ে সাজালে সৌন্দর্য ও স্বাদ দুটোই বাড়ে। তাছাড়া পিজ্জার প্লেটের সামনে বিভিন্ন ধরনের সস, সালাদ বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই রাখলে পরিবেশন আরও অনেক সুন্দর হয়। দেখতে খুব লোভনীয় হয়, দূর থেকেই মন যেন ভরে যায়। পিজ্জা একের ভিতর অনেক। ইতালীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী পিৎজা নিজেই একটি সম্পূর্ণ  খাবার।

পিজ্জা বিশ্বের জনপ্রিয় একটি অন্যতম খাবার। এই খাবারটির উদ্ভাবন হয়েছে মূলত ইতালির নেপোলিয়ন শহরে। পিজ্জা ছোট বড় সবাই খেতে ভালোবাসেন। পিজ্জা শুধু সুস্বাদু নয়, এটির পুষ্টিগুণও রয়েছে। পিজ্জায় সঠিক উপকরণ, মানসম্মত চিজ, তাজা সবজি ও স্বাস্থ্যকর টপিং ব্যবহার করলে এই পিজ্জা খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী। যদি কেই নন ভেজ পিৎজা না খান, তা হলে পনির দিয়ে খেতে পারেন। এটি খেলে শরীরে অনেকটাই পুষ্টি উপাদান প্রবেশ করবে। পিৎজায় থাকা ময়দায় ভিটামির সি রয়েছে। ভিটামিন সি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো করতে সাহায্য করে। তাই মাঝে মধ্যে পিজ্জা খাওয়া খালো। পিৎজায় একসঙ্গে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট থাকে। যার ফলে একবার পিৎজা খেলে অনেক্ষণ পেট ভরা থাকে। খিদে পায় না। সবজি ও কেচাপ দেওয়া পিজ্জা শরীরে প্রোটিনের পাশাপাশি ক্যালোরি জোগাতে সাহায্য করে। কেচাপে লাইকোপিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পিজ্জার মধ্যে যে টপিংস দেওয়া হয়, তা থেকে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম সহ নানা উপাদান থাকে। আর চিজেও থাকে ভালো পরিমাণে ক্যালসিয়াম। পিজ্জা মাঝে মাঝে খাওয়া শরীরের জন্য ভালো, তবে বেশি বা অতিরিক্ত খাওয়া একদম উচিত নয়। এটি একটি ফাস্টফুড তাই অতিরিক্ত খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। পিজ্জা বেশি বেশি খেলে শরীরে নানা ধরনের রোগ দানা বাধতে পারে। ফাস্টফুড পরিমিত খাওয়া ভালো।  

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url