করলা আমাদের পরিচিত একটি সবজি। করলা একটি স্বাস্থ্যকর তেতো স্বাদের সবজি। করলার তিতা স্বাদ সবার পছন্দের না হলেও এর অনেক গুণ রয়েছে। এর স্বাদ তিতা হলেও পুষ্টিগুণের দিক থেকে এটি বেশ সমৃদ্ধ। করলায় বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশ রয়েছে, যা শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত করলা খাওয়ার অভ্যাস করলে পাওয়া যায় প্রচুর পুষ্টি উপাদান, সেই সঙ্গে নানান রকমের রোগ বালাই থেকে মুক্তি। করলায় রয়েছে পালং শাকের চেয়ে দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম এবং কলার চেয়ে দ্বিগুণ পটাশিয়াম। তাই আমাদের সুস্থতার জন্য খাদ্য তালিকায় নিয়মিত করলা রাখা ভালো। অনেকেই করলার তিতা স্বাদের জন্য একে এড়িয়ে চলেন। আবার অনেকের কাছে করলা দারুণ পছন্দের। পছন্দ হোক বা অপছন্দের, এই সবজির প্রতিটি অংশে রয়েছে অনন্য পুষ্টিগুণ ও ঔষুধি গুণাবলি। এই সাধারণ সবজিটি শরীরের জন্য প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে। করলা তার তিতা স্বাদের জন্য পরিচিত হলেও এটি মূলত ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ একটি সুপারফুড। এই তিতা সবজিটির মধ্যে লুকিয়ে আছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা। করলা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে, হজমে সহায়তা করতে এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই করলাকে অনেকেই একটি প্রাকৃতিক সুপারফুড হিসেবে বিবেচনা করেন। করলা স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত পরিমাণ মত করলা খেলে স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকায় বৈচিত্র্য আনে।
আমরা নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে করলা খাদ্য তালিকায় রাখলে আমাদের শরীর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পেতে পারে। করলা বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যায়, ভাজি, ভর্তা, তরকারি বা জুস। যদিও এর তিতা স্বাদ সবার পছন্দ নয়, তবে এর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা বিবেচনা করলে করলা দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রাখার গুরুত্ব সহজেই বোঝা যায়। করলা শুধু রুচিবর্ধকই নয়, এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধে কার্যকর একটি প্রাকৃতিক উপাদান। করলায় রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন, পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষ সজীব রাখতে সাহায্য করে। করলায় উপস্থিত চ্যারানটিন ও পলিপেপ্টাইড পি নামক উপাদান রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়। করলার মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর থেকে টক্সিন দূর করে ও কোষকে সুরক্ষা দেয়। করলা লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং হজমে সহায়ক। এটি গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের ফাঁপা ভাব কমায়। করলা নিয়মিত খেলে হজমশক্তি বাড়ায়। তাই বলা যায়, তিতা স্বাদের আড়ালে করলা সত্যিই একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ সুপারফুড। যা স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
করলার পরিচিতি
করলা এক ধরণের ফল জাতীয় সবজি, একে উস্তে, করল্লা, উচ্ছা, উচ্ছে নামেও ডাকা হয়। করলা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Momordica charantia যা Cucurbitaceae পরিবারভুক্ত এক প্রকার লতা জাতীয় উদ্ভিদ। করলার আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশের, যা ১৪শ শতাব্দিতে চীনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ঔষধিগুণে ভরপুর একটি ফলজাতীয় সবজি। এটি কাঁচা অবস্থায় গাঢ় সবুজ বা হালকা সবুজ রঙের হয় এবং পাকা অবস্থায় ধীরে ধীরে হলুদ, তারপর কমলা বা উজ্জ্বল কমলা হলুদ রং ধারণ করে। করলার গাছ লতানো প্রকৃতির এবং এর ফল খাঁজযুক্ত ও লম্বাটে আকৃতির হয়। এর ভেতরে থাকে বীজ। করলা কুমড়া পরিবারভুক্ত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সবজি। একদিকে যেমন পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি, অন্যদিকে এটি একটি উচ্চমূল্যের বাণিজ্যিক ফসল। স্বাদে তিক্ত হলেও বাংলাদেশের সকলের নিকট এটি প্রিয় সবজি হিসেবে বিবেচিত। করলার চাহিদা সারা বছরই থাকে, তাই অল্প পরিশ্রমে ভালো পরিচর্যা করলে চাষি সহজেই পেতে পারেন দারুণ লাভ ও আর্থিক স্বচ্ছলতা, করলার অনেক ঔষধি গুণও আছে। করলার বিভিন্ন
জাত রয়েছে। জালালি করলা হল দিবস
নিরপেক্ষ ও উচ্চ ফলনশীন হাইব্রিড জাত। ফল আকর্ষণীয় সবুজ রঙের। ফলের খাঁজ মৃদু ভুতা, ফল
১০-১২ ইঞ্চি লম্বা। গড় ওজন ২০০-২৫০ গ্রাম। তৃপ্তি করলা হল দিবস নিরপেক্ষ ও উচ্চ ফলনশীল জাত। ফল আকর্ষণীয় সবুজ রঙের, মাংসল ও টাইট। ফলের খাঁজ
মৃদু ভোতা, ফল ১২ ইঞ্চি লম্বা। গড় ওজন ২৫০-২৮০ গ্রাম। চিত্রা করলা হল মাঝারি আকারের, ফল ৬-৮ ইঞ্চি লম্বা, আকর্ষণীয় সবুজ রঙের। ফল মাংসল ও ওজনে ভারী। গড়
ওজন ১৫০- ২০০ গ্রাম। করলা মনি হল আকারে
ছোট, ফল ৩.৫-৪.০ ইঞ্চি লম্বা। ফল আকর্ষণীয় সবুজ রঙের। ফল মাংশল ও টাইট, গড় ওজন ৭০-৮০
গ্রাম। করলা বাবু হল দিবস নিরপেক্ষ হাইব্রিড জাত। ফল আকর্ষণীয় সবুজ রঙের। ফলের আকার মাঝারি, গড় ওজন ৫০-৫৫
গ্রাম। করলা নীহারিকা হল দিবস নিরপেক্ষ হাইব্রিড জাত। ফল সবুজ, ১২-১৩ ইঞ্চি লম্বা, গড় ওজন ৪০০-৫০০ গ্রাম। করল উল্কা হল হাইব্রিড জাত, ফল আকর্ষণীয় গাঢ় সবুজ রঙের ফল মাংসল ও টাইট, গড় ওজন ৫০০ গ্রাম।
করলার পুষ্টিগুণ
করলা তেতো বলে করলার স্বাদ নিতে অনেকেই অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে করলা তেতো হলেও এটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি খাবার। করলা, করলার রস, করলার পাতা শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী। স্বাদে না হলেও গুণ বিচারে করলা সবজিকে গুরুত্ব না দিয়ে কোনো উপায় নেই। করলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান। পুষ্টিগুণের বিবেচনায় করলা অনেক সমৃদ্ধ একটি সবজি। করলা অত্যন্ত পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি। প্রতি ১০০ গ্রাম করলায় ক্যালোরি থাকে মাত্র ১৭-২০ কিলোক্যালরি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিভিন্ন প্রকার রোগের প্রকোপ কমাতে করলার জুড়ি নেই। করলায় থাকা ভিটামিন সি আমাদের দেহে প্রোটিন ও আয়রন যোগায় এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তোলে। ভিটামিন সি ত্বক ও চুলের জন্য একান্ত জরুরি। করলা পাতার রস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, নানা ধরনের ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা প্রধান করে। করলায় যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। এটি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে উপকারী। করলায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। করলা কম ক্যালরি ও উচ্চ ফাইবারযুক্ত একটি সবজি, তাই এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি দেয় এবং চর্বি কমাতে সাহায্য করে। করলায় রয়েছে পালংশাক থেকে দ্বিগুন পরিমাণে ক্যালসিয়াম আর কলা থেকে দ্বিগুণ পরিমাণে পটাশিয়াম। যা আমাদের ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের উভয়ের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। সাধারণত পটাশিয়াম শরীরের রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত ও হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে খুবই উপকারি।
করলা পাতার গুণাগুণ
করলা একটি তেতো স্বাদের পুষ্টিকর সবজি। করলা শুধু সবজি হিসেবেই নয়, এর পাতাও বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। করলার পাতার রস খুব উপকারী। রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা গড়ে তোলা, নানা ধরণের ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা প্রধান করে। এনার্জি ও স্টেমিনা
বাড়িয়ে তুলতেও করলা পাতার রস সাহায্য করে। করলা পাতায় ভিটামিন, খনিজ, খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রয়েছে। অতিরিক্ত এলকোহল খাওয়ার অভ্যাস থেকে লিভার
ড্যামেজড হলে, সে সমস্যায় করলা পাতার রস দারুন কাজ করে। ব্লাড ডিসঅর্ডার সমস্যায় লেবুর
রস ও করলা পাতার রস মিশিয়ে খেতে পারেন। করলা পাতার রসে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। অ্যাজমা,
ব্রঙ্কাইটিস, ফেরেনজাইটিসের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে সোরিয়াসিসের
সমস্যা, ফাংগাল ইনফেকশন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। করলা পাতা ফাইবার ও ভিটামিন সি তে পরিপূর্ণ। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর, ত্বকের জৌলুস বাড়িতে তোলে এবং লিভার থেকে টক্সিন বের করে দেয়।
করলা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
করলা শুধু তিতা স্বাদের একটি সবজি নয়, এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে করলা খেলে আমাদের শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়, এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। করলা শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। করলা যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, তরকারি, ভাজি, জুস, ভর্তা এর গুণাগুণ অসীম। তবে যারা প্রতিদিন সকাল বেলায় করলার রস খান তাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। করলা প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। করলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যা শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়ায় এবং যেকোনো রোগের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। করলাতে রয়েছে ক্যাটেচিন, গ্যালিক অ্যাসিড একং ক্লোরোজেনিক অ্যাসিডের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে লিভার পরিস্কার করে। করলায় থাকা ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ত্বকের ইনফেকশন কমায় এবং চুল মজবুত করতে সাহায্য করে। করলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। করলায় ভিটামিন এ, ফোলেট, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। করলায় থাকা খাদ্য আঁশ হজমে সহায়তা করে এবং অন্ত্রের সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করে। করলায় থাকা কিছু কিছু প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ যৌগ শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও ভালো কাজ করে।
হজমশক্তি বাড়াতে করলার ভূমিকা
করলা একটি পুষ্টিকর সবজি, যা হজম শক্তি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। করলায় থাকা খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। করলার তিতা উপাদন ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ যৌগ হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। প্রতিদিন পরিমাণ মত করলা খেলে খাবার হজমে স্বস্তি পাওয়া এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়তা হতে পারে।
করলার স্বাস্থ্য উপকারিতা
আমাদের শরীরের জন্য করলার স্বাস্থ্য উপকারিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। করলা একটি স্বাস্থ্যসম্মত তেতো স্বাদের সবজি। এর রয়েছে অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্যগুণ। করলার তিতা স্বাদের আড়ালে লুকিয়ে আছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। করলার তেতো স্বাদের কারণে অনেকে খেতে অপছন্দ করেন। তবে সবজিটি পুষ্টিগুণে ভরপুর। নিয়মিত তিতা করলা খাওয়ার অভ্যাস করলে নানা রকমের রোগ বালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে পাওয়া যায় প্রচুর পুষ্টি উপাদান যা শরীরের জন্য অতি প্রয়োজন। যাঁরা নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে করলা খান, তাঁদের সর্দি, কাশি, মৌসুম জ্বর ও অন্যান্য ছোটখাটো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়। করলা একাটি রুচিবর্ধক সবজি। এর তেতো স্বাদের কারণে, এটি প্রায়শই রান্না, ওষুধ ও সৌন্দর্যবর্ধক পণ্যে ব্যবহৃত হয়। আমাদের খাদ্য তালিকায় করলা যোগ করা মানে সাধারণ স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য একটি স্বাভাবিক পদ্ধতি। অর্থাৎ বলা যায়, করলা প্রচুর পুষ্টিসমৃদ্ধ জনপ্রিয় একটি স্বাস্থ্যসম্মত তেতো সবজি। করলার কিছু উপকারিতা রয়েছে। শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।ওজন কমাতে সাহায্য করে। চুল ও ত্বকের উজ্জ্বলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশ উপকারী। খাবার হজম হতে সাহায্য করে ।অ্যালার্জির অ্যাজমা কমাতে সাহায্য করে।করলায় রয়েছে বিটা ক্যারোটিন যা চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বাতের ব্যাথা দূর করতে সহায়তা করে। চর্মরোগ সারাতে করলা বেশ উপকারী। ব্লাড প্রেশার মেনটেন করার জন্য ও হার্ট ভালো রাখতে করলা বেশ উপকারি। করলা নানা ধরণের ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা দেয়। করলা শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে লিভার পরিষ্কার রাখে। শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।
করলা কেন সুপারফুড ?
করলাকে অনেকেই সুপারফুড বলে থাকেন, কারণ এতে কম ক্যালরির পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। সুপারফুড এমন একটি খাদ্য কিংবা বিশেষ উপাদান যাতে অ্যান্থোসায়ানিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেড সব ধরণের উপাদান গুলো থাকতে হবে, তখনই কিন্তু আমরা সেই খাদ্যটিকে সুপারফুড বলতে পারব। সুপারফুড বলার কারণ হলো এই যে এতগুলা পুষ্টি বা উপাদান একই খাবারে আমরা পাচ্ছি , তখন কি না একটা খাবারের মধ্যেই কিন্তু আমাদের দৈনিক চাহিদাটা পূরণ হয়ে যাচ্ছে। এই কারণেই আমরা এটাকে সুপারফুড বলি। ঠিক সেরকমই একটি খারার হচ্ছে করলা। করলা তিতা স্বাদের একটি জনপ্রিয় সবজি হলেও এর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য একে সুপারফুড বলা হয়। করলায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন, মিনারেল, ক্যালসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কার্বোহাইড্রেড, আয়রন, জিংক, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম ও ফলিক অ্যাসিড। করলা সাধারণ খাবারের তুলনার এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। তাই করলাকে একটি সুপারফুড হিসেবে ধরা হয়। করলার সকল পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীরকে সুস্থ্য ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। করলায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের দেহের বৃদ্ধি সাধন করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যেকোনো রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কিন্তু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর ভূমিকা অপরিসীম। সেই ক্ষেত্রে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট টা শরীরে নিশ্চিত করতেই হবে, এতে আমরা সুপারফুড হিসেবে করলাকে খাদ্য তালিকায় রাখতে পারি। সুপারফুড একটি ভাইটাল রুল প্লে করে বডিতে, সেটা হচ্ছে শরীরের যে কোষগুলা থাকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে বিভিন্ন ধরণের জীবাণু থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খুব ভালো ভূমিকা পালন করে। করলায় থাকা পুষ্টি উপাদান আমাদের লিভার পরিষ্কার রাখে, হজম শক্তি বাড়ায়, রক্ত বিশুদ্ধ করে, ত্বক ও চুল সুন্দর করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে এবং কিডনির পাথর দূর করে। তাই সব মিলিয়ে করলার পুষ্টিগুণ বিচার করে করলাকে একটি সুপারফুড বলা হয়।
ওজন কমাতে করলার ভূমিকা
করলায় আছে প্রচুর পুষ্টিগুন। এটি একটি লো ক্যালরি সমপন্ন খাবার। এছাড়া লো ফ্যাটের খাবারও করলা। ওজন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে করলা। করলার কথা ভাবলেই প্রথমেই মাথায় আসে তেতো স্বাদের কথা। আমরা বেশিরভাগ মানুষই করলা খাই না বা খেতে পছন্দ করি না। কিন্তু করলার পুষ্টিগুণের কথা কখনো ভেবে দেখেছেন? একবারে আপনি করলা প্রেমী হয়ে উঠতে পারবেন না। তবে একবার করলার স্বাদ ভালো লাগলে তা জিভে লেগে থাকার মতো। আর করলা তার তেতো স্বাদের জন্যই জনপ্রিয়। করলা পরিচিত এর তিতা স্বাদের জন্য । তাই ইংরেজিতে একে Bitter gourd, Bitter melon, অথবা
Bitter squash নামে ডাকা হয়। তিক্ত স্বাদযুক্ত করলা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও
উপকারী ভিটামিন সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম করলা থেকে মাত্র ১৭ ক্যালরি পাওয়া যায় এবং
এতে পানির পরিমাণ ৮০-৮৫%। এই উভয় কারণেই করলা আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে সাহায্য
করে। করলায় বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের দেহ থেকে অপ্রয়োজনীয় পদার্থ নিষ্কাশনে
সাহায্য করে, যা আমাদের পরিপাক ও বিপাককে সহজ করে। ফলে আমাদের ওজন দ্রুত হ্রাস পায়। অলটারনেটিভ মেডিসিন এর রির্পোট বলছে, নানা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ করলা খুব দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। করলার রস দিয়ে হেলথ ড্রিঙ্ক বানিয়ে খেলে কাজ হয় খুব তাড়াতাড়ি। নিয়মিত করলার রস খেলে বা পান করলে তা শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ঝরাতে এবং বিপাকহার বাড়াতে সহায়তা করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস করলার রস পান করা সবচেয়ে বেশি উপকারি। করলার রস শরীরের অতিরিক্ত চর্বি গলাতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা ফাইবার ক্ষুধা কমিয়ে দেয়, ফলে আপনি কম খাবেন এতে ক্যালরি ইনটেক কমে এবং ওজনও কমে যেতে শুরু করে। অর্থাং পরিশেষে বলা যায়, ওজন কমাতে করলার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বক ও চুলের যত্নে করলা
করলা শুধু খাবার হিসেবেই পুষ্টিকর নয়, করলায় থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ত্বক ও চুলের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ত্বক ও চুলের যত্নে করলার জুড়ি নাই। ত্বক ও চুলের যত্নে করলা অত্যন্ত কার্যকরীি একটি তেতো সবজি। যদিও করলা এক প্রকার তেতো জাতীয় সবজি, তবে এর পুষ্টিগুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। সৌন্দর্য ধরে রাখতে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে সেই প্রাচীনকাল থেকেই। করলার রসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফাইবার। এর উপকার পেতে করলার রস আপনি যেমন পান করতে পারেন তেমনি রূপচর্চায়ও ব্যবহার করতে পারেন। ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে, যা ত্বকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে করলার উপকারিতা আমরা সবাই জানি। তবে রূপচর্চার ক্ষেত্রেও এই সবজির আছে অসীম গুরুত্ব। আবার ত্বক ও চুলের রক্ষায় নানাভাবে ব্যবহার করা হয় এই সবজি। করলায় আছে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি আমাদের ত্বক ও চুলের জন্য একান্ত জরুরি। অসময়ে চুল পেকে গেলে বা চুল উঠতে থাকলে করলার রসেই পেতে পারেন জাদুকরী সমাধান। সে ক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন করলার রসের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। ২০ মিনিট পরে শেম্পু করে নিন। পাশাপাশি খুশকির সমস্যা দূর করে করলার রস। করলার রসের সাথে পাতিলেবুর রস ও মধু মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করুন। এতে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর হবে। সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রভাবে ত্বক পুড়ে গেলে করলার রস দারুণ কাজে লাগে। এটি প্রাকৃতিক ভাবে জাদুর মতো কাজ করে। রোদ থেকে ফিরে করলার রস সারা মুখে মাখুন। তারপর ১০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কয়েকদিন করলেই উপকার বুঝতে পারবেন। করলার রস করে সংরক্ষণ করে রাখুন। প্রয়োজন মতো তুলোয় করে নিয়ে সারা মুখে লাগান। এটা চোখ মুখের ক্লান্তিভাব দূর করবে। পাশাপাশি ত্বকের বলিরেখাও কমবে। ভিটামিন সি, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফাইবারের মতো উপাদানে সমৃদ্ধ করলা, যা হাঁপানি থেকে শুরু করে পেটের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঠান্ডা লাগার মতো নানা রোগ থেকে আপনাকে দূরে রাখবে। নিয়মিত করলার রস পান করতে পারলে ব্রণের সমস্যাও দূর হয়।
দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় করলার গুরুত্ব
তিতায় লুকানো পুষ্টির ভান্ডার
করলার তিতা স্বাদ অনেকের কাছে অপছন্দনীয় হলেও এর ভেতরে রয়েছে নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদন। করলা সাধারণের মধ্যে অসাধারণ একটি সবজি। করলায় ভিটামিন, খনিজ, খাদ্যআঁশ এবং বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যা সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে শরীরের সুস্থতায় সহায়তা করতে পারে। কম ক্যালরিযুক্ত এই সবজিটি নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে খেলে দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা সহায়তা করে। করলায় থাকা খাদ্যআঁশ হজমশক্তি ভালো রাখে। এর বিভিন্ন ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে। করলায় তিতার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে পুষ্টির ভান্ডার।
করলার বিভিন্ন সুস্বাদু রেসিপি
করলা একটি প্রাকৃতিক
ঔষুধের ভান্ডার । করলা শুধু একটি পুষ্টিকর সবজি নয়, এটি দিয়ে তৈরি করা যায় হরেক রকমের
খাবার। এর প্রচুর গুণাবলি রয়েছে। করলা তিতা হওয়ার কারণে অনেকেই এটি খেতে চান না বা
পছন্দই করেন না। তবে সঠিক নিয়মে রান্না করলে করলার তিতা ভাব দূর করা সম্ভব। তবে করলা
তিতা ভাবে খেতে পারলে এটি শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারি। যারা তিতা খেতে পারেন না তারা
করলার সাথে অন্য সবজি যোগ করে বিভিন্ন ধরণের রেসিপি তৈরি করে খেতে পারেন। করলা দিয়ে
অনেক সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর রেসিপি তৈরি করা যায়। সঠিকভাবে তৈরি করতে পারলে প্রতিটি
খাবার হয় অসাধারণ ও আকর্ষণীয়। করলার কয়েকটি রেসিপি হল, করলা ভাজি, প্রথমে করলাকে পাতলা করে কেটে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিব। তারপর এর মধ্যে অল্প পরিমাণে
হলুদের গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, পেঁয়াজ বাটা ও লবণ দিয়ে আলতো করে মেখে নিব। এবার করলাকে
গরম তেলে ভেজে সিদ্ধ করে নিব। এটি গরম গরম ভাতের সঙ্গে খুবই জনপ্রিয়। আলু দিয়ে করলা
ভাজি, আলু ও করলাকে কুচি করে কেটে তাতে পেঁয়াজ কুচি, হলুদের গুঁড়া, অল্প ধনিয়া গুঁড়া
ও লবণ দিয়ে গরম তেলে ভালোভাবে কষিয়ে ভেজে নিন। করলার সঙ্গে আলু যোগ করলে তিতা ভাবটা
কিছুটা কমে যায় এবং স্বাদে ভারসাম্য আসে। পেঁয়াজ দিয়ে
করলা ভাজি, বেশি করে পেঁয়াজ কুচি, হলুদের গুঁড়া ও লবণ দিয়ে করলা ভাজি করলে এটি অনেক সুস্বাদু হয় এবং হালকা মিষ্টি
স্বাদ যোগ হয়।করলা ভর্তা, করলা ভর্তা বাঙালিদের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। এটি সেদ্ধ বা ভাজা করলা, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা
মরিচ, সরিষার তেল ও লবণ দিয়ে মাখিয়ে তৈরি করা হয়। করলা ভর্তা খেতে খুব সুস্বাদু হয়। করলা দিয়ে মাছের
ঝোল, রুই, কাতলা বা যেকোনো বড় মাছ দিয়ে করলা রান্না করা যায়। এর ঝোলে আলাদা একটি স্বাদ
যোগ হয়। এটি খাওয়া শরীরের জন্য খুব উপকারি। ডিম দিয়ে করলা
রান্না, করলাকে কুচি করে কেটে, মসলা দিয়ে এবং বেশি করে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে গরম তেলে কষিয়ে
নিন। কষানোর পর প্যানে ডিম দিয়ে নেড়েচেড়ে নিন এবং ভালো করে সিদ্ধ করে করলা ভেজে নিন। চিংড়ি দিয়ে
করলা: চিংড়ি ও করলার মিশ্রয়ে তৈরি হয় এটি। এটি খেতে খুব সুস্বাদু হয়। সব ধরনের মসলা কষিয়ে চিংড়ি ও করলা দিয়ে এটি রান্না করা হয়।
করলা খাওয়ার সঠিক নিয়ম
করলা খাওয়ার সঠিক নিয়ম জানা থাকলে এবং করলা ঠিকভাবে খেতে শুরু করলেই শরীরের ভেতরের জমে থাকা লুকানো টক্সিন মিলিয়ে যায়। করলা এমন একটি সবজি যেটাকে অনেকেই তেতো বলে দূরে রাখেন। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি এই তেতো সবজিতেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু শক্তি যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান পর্যন্ত অবাক হয়ে ব্যাখ্যা করে। আমরা যেসব সমস্যায় প্রতিদিন ভুগি যেমন রক্তে চিনি বেড়ে যাওয়া, পেটের অস্বস্তি, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ওজন, ত্বক নিস্তেজ হওয়া বা লিভারের দুর্বলতা, তার অনেকটাই শুরু হয় ভেতরের বিপদজ্জনক টক্সিন জমে থাকার কারণে। আর অবাক করা সত্য হলো করলা ঠিক এই জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি কাজ করে। করলা শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতে চমৎকার কাজ করে। আজকাল সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা বলেছেন শরীরের ভেতরের প্রদাহ থাকাই অধিকাংশ বড় রোগের মূল কারণ। করলার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান এই প্রদাহ নীরবে কমিয়ে শরীরকে হালকা রাখে। আমাদেরকে শরীরের জন্য সপ্তাহে কমপক্ষে ২-৩ দিন পরিমিত পরিমাণে করলা খাওয়া ভালো। করলাকে রান্না
করে খাওয়া উওম। ভাজি, ভর্তা, ঝোল বা অন্যান্য সবজির সঙ্গে রান্না করে খেলে সহজে হজম
হয়। অনেকেই বেশি উপকারের জন্য করলার রস পান করেন, তবে অতিরিক্ত কাঁচা রস পান করা সবার
জন্য উপযুক্ত নয়। অন্যান্য খাবার
যেমন ডাল, মাছ, ডিম, আলু বা বিভিন্ন সবজির সঙ্গে করলা খেলে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে। করলা অতিরিক্ত
না খাওয়াই ভালো, করলা বেশি পরিমাণে খেলে কিছু মানুষের পেটে অস্বস্তি, ডায়রিয়া বা গ্যাসের
সমস্যা হতে পারে। করলা বেশি সময়
ধরে রান্না করবেন না, কারণ এতে তাপ সংবেদনশীল পুষ্টি কমে যেতে পারে। করলা খেতে হয়
সকালে বা দুপুরে। দুপুরের খাবারের সঙ্গে করলা খেলে হজমে সুবিধা হয়। একদম খালি পেটে
করলার রস খেলে অনেকেরই অস্বস্তি হতে পারে। শিশু ও গর্ভবতী
মহিলারা নিয়মিত করলা খেতে চাইলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।একসাথে বেশি
করলা না খেয়ে নিয়মিত অল্প অল্প করে খান, এতে উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
করলা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা