সজনে পাতার ভর্তা তৈরির সহজ রেসিপি, স্বাদ ও পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার

বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকায় ভর্তার রয়েছে বিশেষ জায়গা। অল্প কিছু উপকরণেই তৈরি করা যায় ভর্তা। গ্রামবাংলা থেকে শুরু করে শহরের খাবারের তালিকায়ও বিভিন্ন ধরনের ভর্তা জনপ্রিয়। তার মধ্যে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী একটি ভর্তা হলো সজনে পাতার ভর্তা। সজনে পাতার নাম আমরা ছোটকাল থেকেই শুনেছি। সজনে খেতে খেতে বড় হয়েছি। সজনে পাতার ভর্তা খেয়েছি, শাক খেয়েছি এর মধ্যে এমন কিছু কি নতুনত্ব রয়েছে, আসলে সজনে পাতাকে এখন বলা হয় অলৌকিক পাতা। কারণ সজনে পাতার যে ফুড ভ্যালু, নিউট্রিশন ও এর কনটেন্ট যেকোনো মানুষকে বিস্মিত করবে, তাই সজনে পাতাকে বিজ্ঞানিরা এ সময়ের একটি অলৌকিক পাতা বলেন। কি এমন আছে এই সজনে পাতায়, সজনে পাতায় রয়েছে আমিষ ২৭%, শর্করা ৩৮%, ফ্যাট ২%, আঁশ ১৯%। সজনে পাতায় আরও রয়েছে এসেনসিয়াল এমিনো এসিড ৮ টি, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিংক, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই কারণেই বৈজ্ঞানিরা এই সময়ের একটি অলৌকিক পাতা বলেছেন সজনে পাতাকে। এটি যদি তুলনা করা হয় কোনো খাবারের সাথে, তাহলে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি খাবারের সাথে তুলনা করা যায় সেটি হলো গরুর দুধ। বিজ্ঞানিরা বলছেন গরুর দুধের পুষ্টি আর সজনে পাতার পুষ্টি প্রায় কাছাকাছি। সজনে পাতায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও আমিষ রয়েছে, যা পাওয়া যায় গরুর দুধে। তাছাড়া সজনে পাতায় কিছু ঔষধি গুণও রয়েছে। এটি শরীরকে ডিটক্সিফাই করে, আর্থাইটিস নিরাময়ে কার্যকর। আমরা সজনে পাতার জুস খেতে পারি বা ভর্তা খেতে পারি অথবা শাক খেতে পারি। তবে সজনে পাতা সিদ্ধ না করে বা না ভেজে কাঁচা খাওয়া বেশি উপকার। সজনে পাতার ভর্তা আমরা পাটায় বেটে বা ব্লেন্ড করে খেতে পারি। 

সজনে পাতা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। সজনে গাছ আমাদের দেশের অতি পরিচিত ও সহজলভ্য একটি গাছ। সজনে পাতা বর্তমানে দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে তার গুণাবলির জন্য। সজনে পাতাকে অনেকেই সুপার ফুড বলে আখ্যায়িত করেন। সজনে পাতা আসলেেই একটি সুপার ফুড। সজনে পাতা নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেতে পারলে, এটি আমাদের শরীরের জমানো সকল বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে পারে। সজনে পাতার সিজনে এটিকে আমরা জুস করে খেতে পারি। সজনে পাতাকে ভালো করে ধুয়ে ব্লেন্ড করে কিছু পানি যোগ করে তার সাথে টেস্টের জন্য আদা, জিরা যোগ করা যেতে পারে ও একটু বিট লবণও যোগ করুন এবং ভালো করে ব্লেন্ড করে চেকে নিন আর খাওয়ার সময় একটু মধু দিয়ে খেয়ে নিন। এতে আপনার পৃথিবীর শ্রেষ্ট জুস টি খাওয়া হয়ে গেল। এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারি। আর জুসের মতোই উপকারি সজনে পাতার কাঁচা ভর্তা। এটি খুবই সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর একটি ভর্তা। এটি বানানো হয় সজনে পাতা,পেঁয়াজ, রসুন,কাঁচা মরিচ,সরিষার তেল ও লবণ দিয়ে। 

সজনে পাতার পরিচিতি

 সজনে পাতা বিশ্বের অত্যন্ত পরিচিত ও পুষ্টিকর একটি শাক। সজনে গাছ বাড়ির আশেপাশে, গ্রামাঞ্চলে ও বিভিন্ন জায়গায় সহজেই জন্মাতে দেখা যায়। বর্তমানে সজনে পাতার সবচেয়ে বড় পরিচয় এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সুপার ‍ফুড বা অলৌকিক পাতা। সজনে পাতার বৈজ্ঞানিক নাম Moringa oleifera যা Moringaceae পরিবারের Moringa গণের একটি বৃক্ষ জাতীয় গাছ। এটি খুবই উপকারি একটি গাছ। সজনের কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। আর পাতা খাওয়া হয় শাক, ভর্তা, জুস হিসেবে। সজনে হলো খরা সহিষ্ণু ও গীষ্মপ্রধান অঞ্চলের একটি উদ্ভিদ। এটি ডাল ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করলেও আমাদের দেশে সাধারণত ডালের মাধ্যমে বা অঙ্গজ জননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করানো হয়। সজনে একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ। এটি সপুষ্পক উদ্ভিদের একটি বড় দল। এদের বীজে সাধারণত দুটি বীজপত্র থাকে। সজিনা গাছের পাতাকে বলা হয় অলৌকিক পাতা। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব। গবেষকরা সজিনা পাতাকে বলে থাকেন নিউট্রিশন্স সুপার ফুড, এবং সজিনা গাছকে বলা হয় মিরাকেল ট্রি। সজনে পাতায় বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। সজনে পাতা পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বেশ পরিচিতি রয়েছে। আমাদের দেশে অনেক পরিবারে সজনে পাতা দিয়ে ভর্তা তৈরি করে গরম ভাতের সঙ্গে খাওয়ার প্রচলন আছে।

সজনের বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ

উদ্ভিদ

শেণীবিহীন

সপুষ্পক উদ্ভিদ

শ্রেণীবিহীন

Eudicots

শ্রেণীবিহীন

Roside 

বর্গ

Barssicales

পরিবার

Moringaceae

গণ

Moringa

প্রজাতি

M. oleifera

সজনে পাতার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে যা অনেকেই জানেন না, তথ্য গুলো হল সজিনা পাতায় কমলা লেবুর তুলনায় সাত (৭) গুণ ভিটামিন সি রয়েছে। দুধের তুলনায় চার (৪) গুণ ক্যালসিয়াম এবং দুই (২) গুণ আমিষ রয়েছে। গাজরের তুলনায় চার (৪) গুণ ভিটামিন এ পাওয়া যায়। কলার চেয়ে তিন (৩) গুণ পটাশিয়াম বিদ্যমান।

সজনে পাতার ভর্তার পরিচিতি

সজনে পাতার ভর্তা বাংলাদেশের গ্রামবাংলার একটি পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। সজনে এমন একটি গাছ যার সবই খাওয়া যায়। এর ডাটা, পাতা, ফুল, ছাল সবই খাওয়া যায় এবং এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। সজনে গাছের কচি পাতা সংগ্রহ করে ভালো করে পরিষ্কার করে সিদ্ধ বা হালকা ভেজে বিভিন্ন উপকরণের সঙ্গে মিশিয়ে এই ভর্তা তৈরি করা হয়। সজনে আমরা তরকারি হিসেবে খাই এবং পাতাকে শাক, জুস, ভর্তা করে খাওয়া যায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারটি হলো সজনে পাতার ভর্তা। সজনে পাতার ভর্তা খুবই স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু হয়। তবে এই ভর্তা বিভিন্ন ভাবে করা যায়। এই ভর্তায় সজনে পাতা, পেয়াজ, রসুন, কাঁচা ও শুকনা মরিচ, লবণ ও পরিমাণমতো তেল প্রয়োজন হয়। সজনে পাতার ভর্তাকে কেউ কাঁচা কেউ ভেজে আবার কেউ সিদ্ধ করে ভর্তা তৈরি করেন। তবে বিজ্ঞানিরা বলেন সজনে পাতাকে কাঁচা হিসেবে খাওয়া সবচেয়ে বেশি উপকারি। ভর্তা যেভাবেই করা হোক না কেন, সজনে পাতার ভর্তা কিন্তু খুবই মজাদার হয়। ফলে খাওয়ার স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়। এই পাতার মান ভালো থাকায় শরীরকেও রাখে সুস্থ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সজনে পাতার ভর্তা দিয়ে অনায়াসেই এক প্লেট ভাত খাওয়া যায়। বাজারে এখন এই সজনে পাতা, সজনে ডাঁটা বেশ দামি হলেও স্বাদে এর কোনো তুলনা হয় না। রোজকার মাছ, ডিম, মাংস, ডাল, ভাত তরকারির বদলে মুখের স্বাদ বদলাতে মাঝে মাঝে খেতে পারেন সজনে পাতার অসাধারণ ভর্তা। সজনে পাতার ভর্তা অল্প উপকরণে সাধারণের মধ্যে একটি অসাধারণ খাবার। সজনে পাতাকে ধুয়ে সব উপকরণ ‍দিয়ে একসাথে পাটায় বেটে নিয়ে তৈরি হয় অসাধারণ স্বাদের ভর্তা। অনেকে আবার সজনে পাতাকে সিদ্ধ বা ভেজেও ভর্তা তৈরি করেন। সজনে পাতার ভর্তা শুধু স্বাদের জন্য নয়, সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবেও খাবার টেবিলে রাখা যেতে পারে।

সজনে পাতার ভর্তা তৈরির উপকরণ

আমাদের দেশে সজনে একটি জনপ্রিয় সবজি। সজনের পাশাপাশি সজনে পাতাও খাওয়া হয় ভর্তা করে, শাক করে, চিংড়ি দিয়ে বা ডাল দিয়ে । সজনে পাতার সবগুলো রেসিপিই সুস্বাদু হয়। তার মধ্যে অন্যতম একটি রেসিপি হলো সজনে পাতার ভর্তা। সজনে পাতার অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে, তাই সজনে পাতাকে বিজ্ঞানিরা বলেছেন সুপার ফুড। এই পাতার প্রচুর গুণাবলি রয়েছে। সজনে পাতার ভর্তার কিছু সাধারণ উপকরণের দরকার হয়। উপকরণ গুলো হল সজনে পাতা, সজনে পাতা কাঁচা বা সিদ্ধ করে অথবা হালকা তেলে ভেজে নিতে পারেন। তবে সবচেয়ে ভালো এবং উপকার পাবেন সজনে পাতার কাঁচা ভর্তায়। তবে সব ধরণের ভর্তাই খেতে অনেক সুস্বাদু হয়। পেঁয়াজ কুচি, সজনে পাতার ভর্তায় পেয়াজ কুচি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কাঁচা পেঁয়াজ কুচি ভর্তার স্বাদ বাড়ায়। ভাতের সাথে পেঁয়াজের মুচমুচে আওয়াজ ভর্তার স্বাদকে যেন দ্বিগুন করে দেয়। তাছাড়া কাঁচা পেঁয়াজ কুচি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চমৎকার উৎস, যা হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। শুকনা বা কাঁচা মরিচ, সজনে পাতা ভর্তায় শুকনা বা কাঁচা মরিচ দুটোই ভর্তায় অসাধারণ স্বাদ ও গন্ধ নিয়ে আসে। কাঁচা মরিচ ভর্তায় এক ধরণের সতেজ বা ঝাঁঝ নিয়ে আসে এবং কাঁচা মরিচে রয়েছে ভিটামিন সি, যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারি। শুকনা মরিচ ভেজে বা পুড়িয়ে দিলে আলাদা একটা সুন্দর পোড়া পোড়া গন্ধ আসে ভর্তায়। শুকনা মরিচ ভর্তায় অনেক বেশি স্বাদ আনে। রসুন, সজনে পাতা ভর্তায় রসুন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। রসুন ভর্তার স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে দেয়। খাঁটি সরিষার তেল, খাঁটি সরিষার তেলের ঝাঁঝালো গন্ধ ভর্তার স্বাদ দ্বিগুন করে তোলে। এর গন্ধ ভর্তাটিকে লোভনীয় করে তোলে। লবণ, যেকোনো খাবারে লবণ ছাড়া স্বাদ হয় না, একটা কথা আছে লবণবিহীন ঘি মাটি। আর এই লবণ ভর্তাটিকে স্বাদযুক্ত করে তোলে। 

সজনে পাতা পরিষ্কার ও প্রস্তুত করার নিয়ম

সজনে পাতা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সুপারফুড। সজনে পাতা রান্না করা, সংরক্ষণ করে রাখা বা ভর্তা তৈরির আগে ভালোভাবে পরিষ্কার ও প্রস্তুত করা দরকার। সজনে পাতাকে পরিষ্কার করে প্রস্তুত করা খুবই সহজ। প্রথমে সজনে পাতাগুলোকে ডাঁটা থেকে ছাড়িয়ে, ভালোভাবে ধুয়ে হালকা রোধে শুকিয়ে ব্লেন্ড করে প্রস্তুত করা যায়। এ পাতা অনেকদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়। এটি পানি, সালাদ বা স্যুপের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। সজনে পাতার পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে পাতাকে বেশি রোদে শুকানো বা খুব বেশি ভাজা যাবে না। পরিষ্কার করা, পরিষ্কার করার শুরুতে সজনে ডাঁটা থেকে সজনে পাতাগুলোকে আলাদা করে নিতে হবে। শক্ত ডাঁটাগুলো এবং হলুদ বা শুকনা পাতাগুলো ফেলে ‍দিয়ে একটি বড় পাত্র বা বালতির মধ্যে সজনে পাতাগুলো ভালো করে পরিষ্কার পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। এতে পাতার গায়ে লেগে থাকা ধুলাবালু বা ময়লা নিচে তলানি হিসেবে জমা হবে। আর আলতো করে সহজেই পাতাগুলো তুলে নিতে হবে এবং জালি বা জারিতে রেখে অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে ফেলতে হবে। প্রস্তুত করা, সজনে পাতাকে সাধারণত ভাজার জন্য, রান্না বা স্যুপের জন্য, জুসের জন্য বা গুড়া করার জন্য প্রস্তুত করা হয়। পরিষ্কার পাতা, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ, শুকনা মরিচ ও সামান্য তেলে ভেজে সুস্বাদু ভাজি তৈরি করা হয়। ধোয়া পাতাগুলো হালকা রোদে শুকিয়ে পাতা মচমচে হলে গুঁড়া করে বয়ামে সংরক্ষণ করে রাখা যায়। সজনের এই গুড়া, পানি এবং মধু দিয়ে জুস বানিয়ে খেতে পারেন। ডাল, মাছ, চিংড়ি ও মাংসের সাথে সজনে পাতা ‍দিয়ে দারুণ রেসিপি তৈরি করা যায়।

সজনে পাতার মজাদার ভর্তা তৈরির সহজ পদ্ধতি

সজনে পাতার মজাদার ভর্তা পুষ্টিগুণে ভরপুর  একটি খাবার। আমাদের দেশে সজনে একটি জনপ্রিয় সবজি। সজনের পাশাপাশি সজনে পাতারও বিভিন্ন রেসিপি তৈরি করা যায়। তার মধ্যে মজাদার একটি রেসিপি হলো সজনে পাতার ভর্তা। সজনে পাতায় রয়েছে প্রচুর ঔষুধি গুণাবলি। তাই দেশি বিদেশি বিজ্ঞানিরা এই গাছকে Miracle Tree বা অত্যাশ্চর্য বৃক্ষ বলে অভিহিত করেন। সজনে ডাটা ও পাতা খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় একটি জায়গা দখল করে আছে বাঙালির হেঁশেলে। সজনে পাতার ভর্তা বাঙালির খুবই প্রিয় একটি খাবার। এই ভর্তা গরম গরম ভাতের সঙ্গে খেতে অসাধারণ লাগে। সজনে পাতার ভর্তা সাধারণের মাঝে অসাধারণ একটি খাবার। সজনে পাতার ভর্তা অনেক স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু হয়। সজনে পাতার ভর্তায় সাধারণ কিছু উপকরণের প্রয়োজন হয়। উপকরণ, সজনে পাতা ২-৩ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ২টি, কাঁচা মরিচ ৪ টি, শুকনা ভাজা মরিচ ৪ টি, রসুনের কোয়া ৭থেকে৮ টি, লবণ স্বাদমতো, তেল পরিমাণমতো। ভর্তা তৈরির পদ্ধতি, প্রথমে সজনে পাতাগুলো ভালো ভাবে ধুয়ে নিয়ে সরিষার তেলে বা হালকা পানি দিয়ে ভেজে নিতে হবে। তারপর শুকনা মরিচ ও রসুনের কোয়াও ভেজে নিতে হবে। এবার সজনে পাতার সাথে সবগুলো উপকরণকে একসাথে শিল পাটায় বা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এবার কড়াইয়ে পেঁয়াজ কুচি ভেজে নিতে হবে। পেঁয়াজ হালকা লাল হয়ে আসলে ব্লেন্ড করা পাতা ডেলে ভেজে নিতে হবে। স্বাদবুঝে লবণ দিয়ে দিন এবং নেড়েচেড়ে ভালো মতো ভাজা হলে উঠিয়ে নিতে হবে। ব্যস হয়ে গেল মজাদার ভর্তা। আপনি চাইলে না ভেজে শুধু শিল পাটায় বেটে নিয়েও কাঁচা ভর্তা তৈরি করতে পারেন।

সজনে পাতা ভর্তার স্বাস্থ্য উপকারিতা

সজনে পাতা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি সবুজ শাক। এতে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশ থাকে। আসলে সজনে পাতাকে এখন বলা হচ্ছে অলৌকিক পাতা। সজনে পাতার যে খাদ্যমান, পুষ্টি ও এর কনটেন্ট যেকোনো মানুষকে বিস্মিত করবে। সজনে পাতায় প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। আর এই সজনে পাতা দিয়ে ভর্তা বানালে তো আরও বেশি উপকারিতা থাকে, কারণ এখানে ভর্তার উপকরণের মধ্যেও পুষ্টিগুণ থাকে। সজনে পাতায় আমিষ আছে ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক কেজি সজনে পাতা যদি আপনি খান, তাহলে এর ২৭ শতাংশ মানে ২৭০ গ্রাম হচ্ছে আমিষ। ৩৮ শতাংশ হচ্ছে শর্করা, ২ শতাংশ হচ্ছে ফ্যাট। ১৯ শতাংশ হচ্ছে ফাইবার বা আঁশ। আমরা জানি যে, এখন ফাইবার বা আঁশকে খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট হিসেবে ধরা হচ্ছে। আঁশ কোনো ঐচ্ছিক খাবার নয় যে, ইচ্ছা হলে খেলাম আর ইচ্ছা না হলে খেলাম না। এটা আবশ্যিক উপাদান। প্রত্যেক দিন আমাদের খাদ্যতালিকায় যেন পর্যাপ্ত আঁশ থাকে এবং সেই  সজনে পাতায় আঁশ আছে ১৯ শতাংশ। তাই আঁশ হিসেবে আমরা সজনে পাতার ভর্তা খেতে পারি। সজনে পাতাকে দুধের সাথে তুলনা করা হয়। সজনে পাতার ভর্তা নিয়মিত খেতে পারলে আমাদের শরীরের দুধের ঘাটতি অর্থাৎ দুধে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও আমিষ, এগুলোর ঘাটতি পূরণ হবে। সজনে পাতার প্রচুর ঔষুধি গুণাবলি রয়েছে, তাই সজনে পাতার ভর্তা খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারি। সজনে পাতা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। হজমশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে।চোখের স্বাস্থ্য, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। সজনে পাতার বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে স্ট্রেস মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। সজনে পাতা ত্বকের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সজনে পাতার ভর্তা একটি উপকারী খাবার, তবে এটি কোনো রোগের ঔষধের বিকল্প নয়।

ত্বক ও চুলের যত্নে সজনে পাতা

সজনে পাতা শুধু পুষ্টিকর সবজি হিসাবেই পরিচিত নয়, এতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের পাশাপাশি ত্বক ও চুলের যত্নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত সুষম খাবার সজনে পাতা খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে এবং ত্বক ও চুলের স্বাভাবিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। সজনে পাতায় থাকা ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ চাপ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণ ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও সতেজতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। চুলের জন্যও পুষ্টিকর খাবার গুরুত্বপূর্ণ। চুলের বৃদ্ধি ও সুস্থ্যতার জন্য শরীরে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের প্রয়োজন হয়। সজনে পাতা এসব পুষ্টি উপাদানের কিছু সরবরাহ করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সজনে পাতার উপকারিতা

সজনে পাতা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি সবুজ পাতা। এই পাতায় খাদ্যআঁশ, বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। সজনে পাতায় অনেক ঔষুধি গুন বিদ্যমান। এটি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। সজনে পাতা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি পাতা, তাই সজনে পাতাকে বিজ্ঞানিরা অলৌকিক পাতা বলেছেন। এতে দুধের চেয়ে ৪ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম, কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি, এবং গাজরের চেয়ে ৪ গুণ বেশি ভিটামিন এ রয়েছে। সজনে পাতা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সজনে পাতার ঔষুধি গুণাবলির জন্য গবেষকরা একে সুপার ফুড বলে থাকেন। সজনে গাছের বৈজ্ঞানিক নাম মরিঙ্গা ওলিফেরা। সজিনার মূল, চাল, ফুল, ফল, বীজ, পাতা সবকিছুতেই মহা ঔষধি গুণ বিদ্যামান। এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, প্রোটিন ও চর্বি জাতীয় পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। বিশেষ করে সজনে পাতা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এটি ম্যালেরিয়া জ্বর, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য অনেক রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। সজনে পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আইসোথিয়োকাইনেটস নামের উপাদানগুলো রক্তে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিদিন মাত্র ৫০ গ্রাম সজনে পাতা খেলে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য আদর্শ সজনে পাতার চা। এই পাতার মধ্যে ফাইটোকেমিক্যাল নামের একটি যৌগ রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এই পাতার চা পান করলে কোলেস্টেরলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অক্সিডেটিভ চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

হজমশক্তি ভালো রাখতে সজনে পাতা

সজনে পাতা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি শাক, যা সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে হজমশক্তি ভালো রাখতে সহায়ক হয়। সজনে পাতায় খাদ্যআঁশ রয়েছে আর খাদ্যআঁশ হজমশক্তি ভালো রাখে। খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং মলত্যাগ নিয়মিত রাখতে ভূমিকা রাখে। পরিমিত পরিমাণে সজনে পাতা খেলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে উপকার পাওয়া যায়। তবে সজনে পাতা কোন হজমের চিকিৎসা নয়। কারও বেশিদিন পেটব্যথা, অতিরিক্ত গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সজনে পাতা

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সজনে পাতার ভূমিকা অপরিহার্য। প্রকৃতির এক জাদুকরী পাতা সজনে পাতা। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সজনে পাতার পুষ্টিগুণের কোনো বিকল্প নেই। সজনে পাতা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এটি ম্যালেরিয়া জ্বর, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য অনেক রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। নিয়মিত সজনে পাতা খেলে  আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সজনে পাতার ভিটামিন ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং গুরুত্বপূর্ণ  অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে। এসব উপাদানে বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। সজনে পাতা যেকোনো ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। সজনে পাতা শরীরের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে দারুণ সহযোগিতা করে। এটি হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে খুবই কার্যকরী। এটি শরীরে প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে, যা দীর্ঘদিনের বিভিন্ন শারীরিক ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। সজনে পাতা পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা দূর করে, খাবার সহজে হজম করায় এবং পেটে অতিরিক্ত গ্যাস ও বুকজ্বালার মতো অস্বস্তি থেকে দ্রুত মুক্তি দেয়। সজনে পাতায় কোলেস্টেরল কমানোর বৈশিষ্ট রয়েছে। এতে হৃদরোগের ঝুকি কমে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সজনে পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিসেপটিক রয়েছে। অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সজনে পাতার মতো শক্তিশালী খাবার প্রয়োজন। সজনে পাতা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। 

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার

সজনে পাতার ভর্তা গ্রামবাংলার মানুষের কাছে জনপ্রিয়, পরিচিত, সহজ ও ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার গ্রামীণ পরিবার গুলোতে বিভিন্ন শাকপাতা ও দেশীয় উপকরণ দিয়ে ভর্তা তৈরির প্রচলন ছিল। তার মধ্যে সজনে পাতার ভর্তা খুবই জনপ্রিয়। বাড়ির আশেপাশে সহজেই এই পাতা পাওয়া যায়। আর অল্প কিছু উপকরণের মাধ্যমেই সজনে পাতার ভর্তা করা যায়। আগে গ্রামের মানুষ নিজেদের বাড়ির আশপাশে থাকা সজনে গাছ থেকে প্রয়োজনমত পাতা সংগ্রহ করে রান্না করতেন। এতে বাজার থেকে অতিরিক্ত কিছু কেনার প্রয়োজন হতো না। ফলে অল্প খরচে পরিবারের জন্য মজাদার খাবার তৈরি করা সম্ভব হতো। সজনে পাতা ভর্তা শুধু খাবার নয়, এটি গ্রামীণ মানুষের সহজ, সরল জীবনযাপন ও দেশীয় খাদ্য সংস্কৃতির একটি অংশ। 
 

সজনে পাতার পুষ্টিগুণ

সজনে আমাদের দেশের জনপ্রিয় একটি পুষ্টিকর সবজি। সজনের রয়েছে হরেক রকমের পুষ্টিগুণ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Moringa oleifera। সজনের পাশাপাশি সজনে পাতারও অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। গবেষকরা সজনে পাতাকে সুপার ফুড বলে থাকেন। পুষ্টিবিদ তাসরিয়ার রহমান জানান, সজনে পাতার মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণে খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন। পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটও আছে সজনে পাতায়। অনেকগুলো পুষ্টি একসঙ্গে থাকার কারণে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। প্রতি ১০০ গ্রাম সজনে পাতাতে পাওয়া যায় শর্করা ৮.২৮ গ্রাম, ফাইবার ২.০ গ্রাম, স্নেহ ১.৪০ গ্রাম, প্রোটিন ৯.৪০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৮৫ মিলিগ্রাম, লৌহ ৪.০০ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৪৭ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ৩৭৮ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন সি ৫১.৭ মিলিগ্রাম। সজনে পাতার পুষ্টিগুণ গুলা হল, এটি রোগ প্রতিরোধে সহযোগিতা করে। হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে অর্থাৎ শরীরের বিভিন্ন ব্যাথা দূর করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। সজনে পাতায় রয়েছে ভিটামিন সি, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। যার ফলে এটি ত্বকে বয়সের ছাপ দ্রুত পড়তে দেয় না। হাড় ও দাঁতের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। সজনে পাতায় রয়েছে ভিটামিন এ, যা চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা যেমন খাবার সহজে হজম না হওয়া, পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমে থাকা, বুকজ্বালা ইত্যাদি সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।  

ভর্তা পরিবেশন

সজনে পাতার ভর্তা সাধারণত গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করা হয়। যেকোনো খাবার সুন্দর ভাবে পরিবেশন করলে খাবারের প্রতি আগ্রহ অনেক গুণ বেড়ে যায়। সজনে পাতার ভর্তা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি খাবার। ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়ামে ভরপুর সজনে পাতা রক্তশূন্যতার সমস্যা কমায়। এই পাতা ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে এই সজনে পাতা। আর এই সজনে পাতা বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। এটি মাছ, ডাল. মাংস. ভাজি ও ভর্তা করে খাওয়া যায়। এর মধ্যে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু একটি মজাদার খাবার হলো সজনে পাতার ভর্তা। এই মজাদার ভর্তা তৈরি করা হয় পেঁয়াজ, মরিচ, তেল ও রসুন দিয়ে। সজনে পাতার ভর্তা খেতে খুবই সুস্বাদু হয়। আর এই ভর্তার সুন্দর পরিবেশন ভর্তা খাওয়ার আগ্রহ অনেকগুণ বাড়িয়ে তোলে। খেতে না চাইলেও সুন্দর পরিবেশন খাওয়ার ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে। গরম ভাতের সাথে সজনে পাতার ভর্তা পরিবেশন করা সবেচেয়ে আদর্শ। ভর্তাকে লোভনীয় করে তুলার জন্য ভর্তার উপর খাঁটি সরিষার তেল দিয়ে পরিবেশন করলে দেখতে বেশ ভালো দেখাবে। প্লেটে গরম ভাতের সাথে এক টুকরো পাতিলেবু আর সজনে পাতার ভর্তা রাখুন। সুন্দর পরিবেশন ভর্তাকে আরও বেশি স্বাদযুক্ত করে তোলে। তাছাড়া মাটির পাত্রে গরম ভাতের সাথে সজনে পাতার ভর্তা রাখুন, এটি বাঙালির ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সজনে পাতা ভর্তার উপর পেঁয়াজ গোল করে এবং আস্ত ভাজা মরিচ রেখে দিন, এতে ভর্তাটি দেখতে খুবই লোভনীয় হবে। একটি পরিষ্কার বাটিতে নিয়ে উপরে সামান্য কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ কুচি ও ধনেপাতাদিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করা যায়।

সজনে পাতা খাওয়ার সতর্কতা

সজনে পাতায় প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে সজনে পাতা খাওয়া সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সজনে পাতার অনেক উপকারিতা থাকলেও এটি অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে কিছু অপকারিতাও দেখা দিতে পারে। সজনে পাতা অতিরিক্ত খাওয়া হলে বমি বমি ভব, পেটের সমস্যা, ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। ব্লাড প্রেসারের ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত সজনে পাতার গুড়া, রস বা ভর্তা খেতে থাকলে ব্লাড প্রেসার কমে যেতে পারে। সজনে পাতা সংলগ্ন ডালগুলো আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর। এ ডালগুলোতে ক্ষতিকর উপাদান থাকে, যেগুলো আমাদের দেহের ইমিউনিটি সিস্টেমকে ক্ষতি করে। গর্ভাবস্থায় সজনে পাতা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। সজনের পাতা সংলগ্ন ডালে যে বিষাক্ত উপাদান রয়েছে সেটি এ সময় শরীরে প্রবেশ করলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা অনেক। সজনে পাতা গুঁড়া বা রসের ক্ষেত্রে এর ডাল মিশ্রিত থাকতে পারে। তাই গর্ভকালীন সময়ে এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো। হাইপোথাইরয়েড বা কিডনিতে সমস্যা আক্রান্তরা সজনে পাতাকে একমাত্র প্রতিষেধক হিসেবে বিবেচনা করবেন না। ডায়াবেটিস রোগীদের অনেকেই মনে করেন, শুধু সজনে পাতা খেলে ডায়াবেটিস অর্থাৎ রক্তের সুগার ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু বিষয়টি আসলে এরকম না। ডায়াবেটিস রোগীদের ঔষধ খাওয়ার পাশাপাশি সজনে পাতার জুস বা গুঁড়া খেলে এটি সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখবে। যাদের প্রি ডায়াবেটিস তারা সজনে পাতা খাওয়াের মাধ্যমে এবং সঙ্গে অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেহে সুগারের মাত্রা ঠিক রাখার চেষ্টা করতে পারেন।

সজনে পাতার ভর্তা একটি সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার। অল্প কিছু উপকরণ দিয়ে খুব সহজেই এই ভর্তা তৈরি করা যায়। সজনে পাতার ভর্তার স্বাদ যেমন খাবারের বৈচিত্র্য আনে, তেমনি সজনে পাতার বিভিন্ন পুষ্টিগুণও আমাদের খাবার তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এখন শুধু বাংলাদেশে নয় পুরো বিশ্ব জুড়ে এই পাতার কদর রয়েছে। সজনে পাতা দিয়ে শুধু ভর্তা নয় এ পাতা দিয়ে মাছ, মাংসের তরকারি, শাক ও ভাজি খাওয়া যায়। এ পাতাকে গুঁড়া করে শরবত খাওয়া যায়। সজনে পাতার ঔষুধি গুণাবলি প্রচুর। এতে থাকা ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশ শরীরের বিভিন্ন পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে সজনে পাতার ভর্তা খেলে আমাদের সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা সহজ হয়। গরম ভাতের সাথে সজনে পাতার ভর্তা  দৈন্দনিন খাবারের স্বাদ আরও বাড়িয়ে তোলে। এই ভর্তা মুখে রুচি বাড়ায় এবং এর স্বাস্থ্য গুণও অনেক। সজনে পাতা পরিমিত পরিমাণে খেলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম,পটাসিয়ামে ভরপুর সজনে পাতা রক্তশূন্যতার সমস্যা কমায়। এই পাতা ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। সজনে পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বকের যত্নের জন্য আদর্শ। বিশেষ করে সজনে পাতা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এটি ম্যালেরিয়া জ্বর, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য অনেক রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। নিয়মিত সজনে পাতা খেলে আরও অনেক উপকারিতা পাওয়া যায়। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url