আধুনিক জীবনে কম্পিউটার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা।
বর্তমান জীবন একান্ত ভাবেই বিজ্ঞান নির্ভর। বিজ্ঞানের আবিষ্কার ও উদ্ভাবন জীবনের প্রতি ক্ষেত্রেই মানুষের নানা প্রয়োজন মেটাচ্ছে। কেবল তাই নয়, বিজ্ঞান মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতেও আমূল পরিবর্তন এনেছে। বিজ্ঞান শুধু মানুষের দৈনন্দিন জীবনকেই সমৃদ্ধ করে নি, তার চিন্তা জগৎকেও প্রভাবিত করেছে। উন্নতির দিকে নিয়ে গেছে মানবসভ্যতাকে। এ উন্নতির মূলে কাজ করেছে তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নতি। মানুষের জীবনে বৈচিত্র্যপূর্ণ কাজে কর্মে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তথ্যপ্রযুক্তির এক পরম, বিস্ময়কর আবিষ্কার কম্পিউটার। মানুষের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে, প্রয়োজনীয় কাজে কর্মে, বিনোদনসহ সকল ক্ষেত্রেই কম্পিউটার অতুলনীয় সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। যান্ত্রিক সভ্যতার চালিকাশক্তি হিসেবে কম্পিউটার আজ ঘরে ঘরে স্থান করে নিয়েছে। কম্পিউটারের উপযোগিতা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এর ব্যাপক ব্যবহার এখন সর্বজন স্বীকৃত। কম্পিউটার আধুনিক বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক যন্ত্র। কম্পিউটার খুব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে। এটি মানুষের সময় ও শ্রম বাচায়।
বর্তমান যুগকে কম্পিউটারের যুগ বলা হয়। এই যুগে কম্পিউটারের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। শিক্ষা ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার ব্যাপক। শিক্ষার্থীরা কম্পিউটারের মাধ্যমে সহজে পড়াশোনা করতে পারে। অফিস আদালেতে কম্পিউটর ছাড়া কাজ কল্পনা করা কঠিন। ব্যাংকে হিসাব নিকাশের কাজে কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তা অনেক। হাসপাতালে ও রোগীর তথ্য সংরক্ষণে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। ব্যবসা বাণিজ্যে কম্পিউটারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার কাজেও কম্পিউটার অনেক সাহায্য করে। অনেক মানুষ কম্পিউটারের মাধ্যমে ঘরে বসে কাজ করেন। কম্পিউটার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে কম্পিউটারের অপব্যবহার করা উচিত নয়। অতিরিক্ত ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পরিমিত ও সচেতনভাবে কম্পিউটার ব্যিবহার করা দরকার। কম্পিউটার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন বর্তমান সময়ে খুবই প্রয়োজন। দক্ষভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করলে জীবনে সফল হওয়া সহজ হয়। আধুনিক বিশ্বে কম্পিউটার ছাড়া উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। এটি মানুষের জীবনকে সহজ, দ্রুত ও উন্নত করেছে। তাই কম্পিউটারকে আধুনিক সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার বলা হয়।
কম্পিউটার কী?
কম্পিউটার বলতে এমনি একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রকে বোঝায় যা অগণিত উপাত্ত গ্রহণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্লেষণ করে খুব দ্রুত সিদ্বান্ত নিতে পারে। কম্পিটার হিসাবের যন্ত্র হিসেবে যোগ বিয়োগ, গুণ ও ভাগ জাতীয় অঙ্ক কষতে পারে। এছাড়া তথ্যাদির বিশ্লেষণ ও তুলনা করা এবং সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কম্পিউটার যন্ত্রটির। গণিত, যুক্তি ও সিদ্ধান্তমূলক কাজের সঙ্গে কম্পিউটারের সংযোগ। কাজের গতি, বিশুদ্ধতা ও নির্ভরশীলতার দিক থেকে কম্পিউটারের ক্ষমতা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। কম্পিউটার বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম। কম্পিউটার শব্দটি গ্রিক শব্দ কম্পিউট থেকে এসেছে। এর অর্থ হিসাব বা গণনা করা। কিন্তু বর্তমানে কম্পিউটার শুধু গণনাকারী যন্ত্রই নয়, এটি এমন এক যন্ত্র যা তথ্য গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন করে। কম্পিউটার মানুষের সাহায্য ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় কাজ করতে পারে। দ্রুত এবং সঠিকভাবে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। তাছাড়া কম্পিউটার বড় পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ করতে সক্ষম।
আধুনিক জীবনে কম্পিউটার
বর্তমান সময়ে কম্পিউটার আধুনিক মানুষের সবচেয়ে বড় বন্ধু। আধুনিক বিজ্ঞানের এক অনন্য ও বিস্ময়কর আবিষ্কার হলো কম্পিউটার। বর্তমানে আধুনিক জীবনের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে কম্পিউটারের ব্যবহার পৌছে যায়নি। এটি কেবল গণনা করার যন্ত্র নয়, বরং এটি মানুষের বুদ্ধি ও শ্রমের এক শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। কম্পিউটারের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কম্পিউটারের ব্যবহার রয়েছে। বর্তমান জীবন কম্পিউটার ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। বহু বহু অঙ্কের হিসাব সহজেই কম্পিউটার করে দিতে পারে। সরকারি, বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান সব স্থানেই কম্পিউটারের ব্যবহার রয়েছে। কাজের সুবিধার্থে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষার ফল থেকে শুরু করে অপরাধী শনাক্তকরণের সব কাজেই কম্পিউটারে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের নকশা তৈরি, বহুতল ভবনের ডিজাইন, শিশুদের অঙ্কন শিক্ষাসহ বিনোদনমূলক নানা বিষয়ে কম্পিউটারের ব্যবহার হচ্ছে। কম্পিউটার মানুষের জীবনকে সহজ, দ্রুত ও উন্নত করে তুলেছে। আধুনিক জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে তৈরি করতে কম্পিটারের গুরুত্ব অসীম।
কম্পিউটারের ব্যাপক ব্যবহার
জন্মলগ্নের অত্যল্পকালের মধ্যেই কম্পিউটারের কার্যগুণে ও উপযুক্ততার নিরীক্ষে সকল প্রকার বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার গুলোকে পেছনের সারিতে ঠেলে দিয়ে অতি সামনের আসনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব সাফল্যের অন্যতম এক আবিষ্কার আজকের কম্পিউটার, যা মানুষ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে দেখছে বা উপলব্ধি করছে। বিজ্ঞানের হাজারো উদ্ভাবনের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে তার কার্য প্রয়োজনীয়তা গুণে মানুষকে অবাক করে দিয়েছে। এখন মানুষ গৃহের অন্দর থেকে শুরু করে অফিস পাড়ায় বিশাল কর্মজগতের সবখানেই কম্পিউটার এক বিস্ময়কর পদচারণা করছে, যা মানুষ তার কাজের একটি অংশ বা নিজ শরীরের একটি অত্যাবশ্যকীয় প্রত্যঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করতেও স্বীকৃতি দিচ্ছে। মানুষের প্রাত্যাহিক জীবনের বিচিত্রতর কাজকর্মের সাথে যেমন কম্পিউটারকে সম্পৃক্ত করছে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ তত্ব বা তথ্য সংগ্রহে বা নিজের তথ্য ভান্ডার গড়ে তুলতে, অত্যাধনিক বিনোদন কর্মকান্ডে, অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে গতিশীল করতে, নিজের ব্যবসায়িক সাফল্যকে পরিকল্পিত উপায়ে পরিচালনা করতে, সম্যক ধারণার সৃষ্টিতে প্রভূতি খুঁটিনাটি কাজ থেকে শুরু করে বৃহৎ কর্মপরিসরে কম্পিউটারকে অপ্রতিহত গতিতে বা প্রয়োজনে কম্পিউটারকে সম্পৃক্ত করছে মানুষ তার নিজের তাগিদেই। কম্পিউটারের প্রতি মানুষ এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, সে কম্পিউটার ছাড়া তার উন্নততর আধুনিক জীবন কল্পনা করতেও রাজি হচ্ছে না। শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে তো কম্পিউটার একক রাজা। অর্থাং দেখা যাচ্ছে, কম্পিউটারকে মানুষ এখন হাতের কাছে পেতে উদগ্রীব হচ্ছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটার
আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির অনন্য বাহন কম্পিউটার। আজকের উন্নত বিশ্বে কম্পিউটারের ব্যবহার ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থা কল্পনা করা অসম্ভব। শিক্ষার প্রসারে কম্পিউটার এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে ছাত্র ছাত্রীরা ইন্টারনেটের সাহায্যে যেকোনো কঠিন বিষয় সহজে বুঝতে পারে। অনলাইন ক্লাস, ই বুক এবং গবেষণার কাজে কম্পিউটার এখন অপরিহার্য। এটি শিক্ষার জগতকে চার দেয়ালের বাইরে বিশ্বের দরবারে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কম্পিউটরের মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা এবং জ্ঞান বিজ্ঞানের রাজ্যে বিচরণ করা সহজ হয়ে গেছে। প্রকাশনা শিল্পে বিপ্লব ঘটিয়েছে কম্পিউটার। যার ফলে জ্ঞান চর্চার অন্যতম উপকরণ বই ঠিক সময়ে আমাদের হাতে পৌছে। বইয়ের বিষয়াবলি এখন কম্পিউটারের ডিস্কে জমা রাখা যাচ্ছে। কী বোর্ডের বোতাম টিপলেই এখন বিশ্বের সমস্ত জ্ঞান ভান্ডার আমাদের সামনে মনিটরের পর্দায় ভেসে উঠছে। কম্পিউটারের আশীর্বাদে যেকোনো বিষয় এখন হাতের কাছে অবস্থান করে মানুষের জ্ঞান ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করছে। এটি যেমন গ্রন্থাগারের ভূমিকা পালন করছে, তেমনি অভিজ্ঞ শিক্ষকের ভূমিকাও পালন করছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা আমাদের যেকোনো শিক্ষণীয় বিষয়কে চোখের সামনে পাচ্ছি। পৃথিবীর সমস্ত গ্রন্থাগার এখন আমাদের ঘরেই যেন অবস্থান করছে।
জনস্বাস্থ্যে কম্পিউটার
মানুষের রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ে কম্পিউটার এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। রোগের কারণ ও প্রভূতি বিশ্লেষণ করে এর প্রতিরোধ এবং প্রতিকারে কম্পিউটার এখন সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। কম্পিউটার প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ জটিল ব্যাধি থেকে নিরাময়ের পথনির্দেশ খুঁজে পাচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন জটিল রোগের প্রতিষেধক ও নিরাময়ের ওষুধ আবিষ্কারে কম্পিউটারের সাহায্য নিচ্ছে। কম্পিউটারের এই সহযোগিতা যথার্থ শিক্ষার মাধ্যমেই কাজে লাগানো সম্ভব। জনস্বাস্থ্য বলতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং সুস্থ জীবনের জন্য গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমকে বুঝায়। আগে বা কম্পিটার ব্যবহারের আগে স্বাস্থ্য সেবা এতটা সহজ ছিল না। স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করতে, রোগীর তথ্য সংগ্রহ করতে ও বিভিন্ন রোগের তথ্য বিশ্লেষণ করতে অনেক সময় ও শ্রম লাগত। কিন্তু আজকের দিনে কম্পিউটারের সাহায্যে এসব কাজ খুবই তাড়াতাড়ি ও সহজে করা যাচ্ছে। কম্পিউটারের সাহায্যে হাসপাতালে রোগীদের ব্যক্তিগত বিষয়, চিকিৎসার ইতিহাস, পরীক্ষার ফলাফল এবং ঔষুধের বিষয় সংগ্রহ করা যায়। এর মাধ্যমে ডাক্তরবাবু সহজেই রোগীর আগের চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে পারেন ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইনে স্বাস্থ্য বিষয়ে তথ্য প্রচার করা যায় এবং সাধারণ মানুষকে নানা ধরণের রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন করা যায়।
বাণিজ্যে কম্পিউটার
গবেষণায় কম্পিউটার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় কম্পিউটার অন্যতম সহায়ক। গবেষণা হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে নতুন তথ্য, জ্ঞান ও ধারণা অর্জনের জন্য নিয়ম মেনে অনুসন্ধান করা। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করতে, তথ্য সংরক্ষণ করতে এবং নতুন আবিষ্কারের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করেন। এটি গবেষণাকে আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল করেছে। জ্যোতির্বিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ প্রযুক্তির উন্নয়নেও এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। কম্পিউটারের মাধ্যমে গবেষকরা বই, পত্রিকা, গবেষণা পত্র এবং ইন্টারনেট থেকে দরকারি তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, গণিতের হিসাব নিকাশ এবং পরীক্ষার ফলাফল তুলনা করা যায় কম্পিউটারের সহায়তায়। ফলে গবেষকরা কম সময়ে বেশি তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারেন। বিজ্ঞান, কৃষি, চিকিৎসা, পরিবেশ এবং মহাকাশ গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটারের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকরা একে অপরের সাথে তথ্য ও গবেষণার ফলাফল বিনিময় করতে পারেন।
বিনোদনে কম্পিউটার
কম্পিউটার এখন বিনোদনের অন্যতম উৎস। গান শোনা, সিনেমা দেখা, গেম খেলা, ছবি আঁকা, ভিডিও তৈরি করা সব কিছুই কম্পিউটারের মাধ্যমে করা যায়। এটি মানুষের একঘেয়েমি দূর করে আনন্দ দেয়। বর্তমানে ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, স্পটিফাইয়ের মতো প্ল্যাটফর্মে মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করে বিনোদন নিচ্ছে। এটি সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করেও সমাজে নতুন ধারার জন্ম দিচ্ছে।
কম্পিউটারের সুফল ও সুবিধা
তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কম্পিউটার
কম্পিউটার এখন তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক অবাক করা ভূমিকায় অভিনয় করছে। আধুনিক তথ্য যোগাযোগের জগতে ই মেইল, ফ্যাক্স, ফোন, ইন্টারনেট প্রভূতির প্রাণবায়ু হয়ে বিরাজ করছে কম্পিউটার। বিশ্বের আন্তর্জাতিক তথ্য প্রবাহের যুগে, অবাধ বিচরণের ক্ষেতকে কম্পিউটার অভাবিত প্রসারণ ঘটিয়ে বিপুল বিস্ময়ে কাজ করে যাচ্ছে। সাথে সাথে মানুষ স্ফীত করে তুলছে তার জ্ঞান ভান্ডারকে। মানুষ তার অসীম আকাঙ্কাকে বাস্তবায়ন করতে এখন একক ভাবে নির্ভর করছে কম্পিউটারের ওপর এবং যথার্থ ভাবেই সে সাফল্য কুড়িয়ে নিচ্ছে। কম্পিউটার মানুষের দৈনন্দিন তথ্য আদান প্রদানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কম্পিউটারের একচ্ছত্র আধিপত্য এতটাই ব্যাপক ও দৃঢ়তার আস্থায় অধিষ্ঠিত যে, মানুষের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সে জড়িত হচ্ছে। হয়ে উঠেছে মানব সভ্যতার সিড়িতে সিড়িতে বিছানো লাল গালিচা বা কার্পেট। হয়ে উঠেছে মানুষের এক পরম সুহৃদ। কম্পিউটারের এ ভূমিকাকে দ্বিমত পোষণ করতে বোধ হয় এখনকার জগতে আর কেই নেই
কম্পিউটার শিক্ষার গুরুত্ব
বর্তমান যুগ কম্পিউটার যুগ। এই আধুনিক বিশ্বে কম্পিউটার শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিতে হলে কম্পিউটার শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই জাতীয় উন্নতির কথা বিবেচনা করে প্রত্যেক শিক্ষিত ব্যক্তিকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা এবং তা প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের কল্যাণ সাধন করা উচিত। কম্পিউটার শিক্ষা বলতে কম্পিউটার ব্যবহার করা, বিভিন্ন সফটওয়্যার পরিচালনা করা, ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য খোঁজা এবং প্রযুক্তির সাহায্যে বিভিন্ন কাজ করার জ্ঞান ও দক্ষতাকে বোঝায়। কম্পিউটারের কর্মক্ষেত্র প্রসারণের সাথে সাথে কিম্পিউটার শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বেড়েই চলেছে। কম্পিউটার শিক্ষার মাধ্যমেই এর উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। কম্পিউটার শিক্ষার অভাব থাকলে এর কার্যকারিতা ব্যাহত হবে। তাছাড়া কম্পিউটারের কার্যক্ষেত্র সম্প্রসারণের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রমিক্ষণপ্রাপ্ত জনশক্তির চাহিদাও বাড়ছে। তাই কম্পিউটার শিক্ষার ব্যাপক সম্প্রসারণ অত্যাবশ্যক।
কম্পিউটার শিক্ষাব্যবস্থা
কম্পিউটার এখন মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে শুধু করে অফিস আদালত, কলকারখানা প্রভূতি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দীক্ষা গুরুর ভূমিকা পালন করছে, সে জন্য কম্পিউটার শিক্ষা ব্যাপক ও সামগ্রিক হওয়া প্রয়োজন। সে সরকারি প্রচেষ্টাতেই হোক আর বেসরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্য্যাগ বা ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাতেই হাক। এখনকার দিনের চাহিদা তথা যুগের দাবি মেটাতে কম্পিউটার শিক্ষাকে মানুুষের হাতের নাগালে বা মানুষের দোর গোড়ায় পৌছে দিতে ব্যাপক আয়োজন দরকার। সেজন্য প্রয়োজন বিপুল জনশক্তি নিয়োগ। একটি জাতির দক্ষ জনশক্তি যখন কাজ নিয়োজিত থাকে, তখন জাতি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। প্রতিটি মানুুষের মাঝে কম্পিউটারের জ্ঞানকে সম্প্রসারিত করা এখনকার দিনের দাবি বা যুগের দাবি। এ লক্ষ্যে কম্পিউটার শিক্ষাকে ব্যাপকভাবে ছড়িতে দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সমস্ত বিশ্বে কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে ব্যাপক তোড়জোড় চলছে, ফলে তারা এক্ষেত্রে বিপুল সাফল্যকে করায়ত্ত করে ফেলেছে। তাবৎ বিশ্বে এ ব্যাপারে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ইদানিং আমাদের দেশে অবশ্যই বিদ্যালয় পর্যায়ে পৌছে গেছে কম্পিউটার শিক্ষা। দেশের কারিগরি শিক্ষাবোর্ড অবশ্য প্রথম থেকেই তাদের শিক্ষা কারিকুলামে কম্পিউটারকে বাধ্যতামূলক করেছে। কম্পিউটার শিক্ষাকে শুধু মাধ্যমিক পর্যায়ে পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না, উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় মান পর্যন্ত ও চালু করা দরকার। বর্তমান বিশ্বে যা চলছে, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যন্ত কম্পিউটার শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হলে তা জাতির জন্য মঙ্গলই বয়ে আনবে বলে সকল বিদ্ব্যানজন বিশ্বাস করেন। কম্পিউটার শিক্ষাকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার সরকারি প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানানো যায় এ চেষ্টা যাতে ফলবতী হয় সেজন্য আমাদের সকলকে জাতীয়ভাবে সচেষ্ট হতে হবে।
কম্পিউটার ও ভবিষ্যৎ
ভবিষ্যতে কম্পিউটার আরও উন্নত ও শক্তিশালী হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট, মেশিন লার্নিং সবই কম্পিউটারের মাধ্যমে সম্ভব হবে। এটি মানবজীবনকে আরও আরামদায়ক ও দ্রুতগতি সম্পন্ন করে তুলবে। চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন শিল্প সবক্ষেত্রেই কম্পিউটারের ব্যবহার বহুগুণে বাড়বে। মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় এটি নেতৃত্ব দেবে। ভবিষ্যতে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা বাণিজ্য, যোগাযোগ, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এর মাধ্যমে মানুষ অল্প সময়ে অনেক কাজ করতে পারবে। কঠিন কাজগুলো আরও সহজে ও দ্রুত সম্পন্ন করতে পারবে। ভবিষ্যতে শিক্ষা ব্যবস্থায় কম্পিউটারের ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে। ছাত্র ছাত্রীরা ঘরে বসেই অনলাইনে পড়াশোনা করবে। রোগ নির্ণয়, রোগীর তথ্য সংরক্ষণ, চিকিৎসা গবেষণা এবং হাসপাতাল পরিচালনার কাজে কম্পিউটারের ব্যবহার আরও বাড়বে। ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও কম্পিউটার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। তবে কম্পিউটারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভশীল না হয়ে এর সঠিক ব্যবহার করতে হবে। ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। কম্পিটার ভবিষ্যৎ পৃথিবীর উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ায় হয়ে উঠবে।
কম্পিউটার মানব সভ্যতার বিকাশে যে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এতে যেমন কোনো দ্বিমত নেই, ঠিক তেমনি তা অর্থবহ হবে ব্যাপকভাবে কম্পিউটার শিক্ষা লাভের মধ্যে এর বিপরীতে কোনো মন্তব্য নেই। এর শিক্ষা ও ব্যবহার বৃদ্ধি করে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সম্মুখপানে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো উন্নতির চরম শিখরে পৌছে উন্নত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি লাভ করতে পারে কম্পিউটার শিক্ষা ও ব্যবহারের মাধ্যমে। উন্নত ও আধুনিক জীবন প্রণালির প্রতিটি স্তরে কম্পিউটার সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাই এ ব্যাপারে শিক্ষা গ্রহণ ও প্রয়োগের জন্য সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। আজকের দিনে কম্পিউটার ছাড়া আমাদের জীবন প্রায় অচল। বর্তমানে ভারতবর্ষে বহু ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। আধুনিক ও উন্নত জীবনযাপন করতে হলে কম্পিউটারের কোনো বিকল্প নেই। তাই কম্পিউটারকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা দরকার।


