ক্লাউড কম্পিউটিং, আধুনিক প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত।

ক্লাউড কম্পিউটিং (Cloud Computing) হচ্ছে কম্পিউটারের রিসোর্স যেমন কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস প্রভৃতি ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনো সার্ভিস বা সেবা প্রদান করা। ক্লাউড কম্পিউটিং কোনো নির্দিষ্ট টেকনোলজি নয়, বেশ কয়েকটি টেকনোলজিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা একটা ব্যবসায়িক মডেল। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত ধারণা ভার্চুয়ালাইজেশনের জন্ম সেই ষাটের দশকে। সে সময় কোনো একটি কম্পানি Multics নামের একটি অপারেটিং সিস্টেম বানানোর পরিকল্পনা করেছিল, প্রাথমিক ‍দিকে ধারণা ছিল, প্রতি শহরে একটি বা দুইটি মেগা কম্পিউটার থাকবে। আর ইলেকট্রিকের বা ডিশের লাইন নেয়ার মতো সবাই সেখান থেকেই কম্পিউটারের লাইন নিবে। প্রত্যেক ঘরে শুধু থাকবে টিভির মতো একটি যন্ত্র ও কীবোর্ড। বর্তমান যুগ তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। প্রতিদিন নতুন নতুন প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে আরো সহজ ও আধুনিক করে তুলেছে। এখন মানুষ মোবাইল ফোন, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে খুব সহজেই বিভিন্ন কাজ করতে পারে। এসব কাজের জন্য তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

আগে মানুষ তথ্য সংরক্ষণের জন্য কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, পেনড্রাইভ বা সিডি ব্যবহার করত। কিন্তু এসব যন্ত্র হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে তথ্য ও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং প্রয়োজন হলে পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে সহজেই সেই তথ্য ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা, ব্যাংকিং, সরকারি অফিস এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্লাউড কিম্পিউটিং এর ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি শুধু তথ্য সংরক্ষণই নয়, বরং তথ্য ভাগাভাগি করা, সফটওয়্যার ব্যবহার করা এবং একসঙ্গে অনেক মানুষের কাজ করার সুযোগ ও তৈরী করেছে। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে দূরবর্তী  সার্ভারে ডেটা ও অ্যাপ্লিকেশন সংরক্ষণ এবং অ্যাক্সেস করতে পারে, ফলে নিজস্ব হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয় না। এটি ডেটা সংরক্ষণে নিরাপত্তা, খরচ কমানো এবং যেকোনো স্থান থেকে ফাইল ও প্রোগ্রাম ব্যবহারের সুবিধা প্রধান করে।

ক্লাউড কম্পিউটিং কী?

ক্লাউড কম্পিউটিং হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবহার এবং পরিচালনা করার একটি আধুনিক প্রযুক্তি। ক্লাউড শব্দের অর্থ হলো ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা। আর কম্পিউটিং বলতে বোঝায় কম্পিউটারের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করা। তাই ক্লাউড কম্পিউটিং হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তথ্য সংরক্ষণ, সফটওয়্যার ব্যবহার এবং বিভিন্ন কম্পিউটার ভিত্তিক কাজ করা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং (NIST) অনুসারে ক্লাউড কম্পিউটিং এর সংজ্ঞা হলো Cloud computing is a model for enabling ubiquitous, convenient, on demand network access to a shared pool of configurable computing resources (e.g. networks, servers, storage, applications, and services) that can be rapidly provisioned and released with minimal management effort or service provider interaction. অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের রিসোর্স যেমন নেটওয়ার্ক, সার্ভার, স্টোরেজ, প্রোগ্রাম ও সেবা প্রভৃতি সহজে, ক্রেতার সুবিধা মতো, চাহিবামাত্র ও চাহিদা অনুযায়ী ব্যবহার করার সুযোগ প্রদান বা ভাড়া দেয়ার সিস্টেমই হলো ক্লাউড কম্পিউটিং।  ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে ইন্টারনেটের সাহায্যে নিজের তথ্য দেখতে, পরিবর্তন করতে বা অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারেন। এজন্য সবসময় নিজের কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণ করার প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে অনেক পরিচিতি সেবা ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করে। যেমন Google Drive, one Drive, Drop box, iCloud ইত্যাদি। এসব সেবার মাধ্যমে ছবি, ভিডিও, নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা যায়।

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের পরিচিতি

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের প্রথম ধারণা ১৯৬০ এর দশকে উদ্ভুত হয়েছিল। ২০০৬ সালে বিশ্ব বিখ্যাত আমাজন ওয়েব সার্ভিস বাণিজ্যিকভাবে ক্লাউড কম্পিউটিং এর ব্যবহার শুরু করে। এটি হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কম্পিউটারগুলোকে শেয়ার করে কম খরচে কোনো কাজ সম্পন্ন করা যায়, এবং এটি একটি প্রযুক্তিগত ধারণা যা সময়ের সাথে সাথে বিকশিত হয়েছে। ক্লাউড কম্পিউটিং হলো একটি আধুনিক প্রযুক্তি। এটি আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই  অনলাইনে তথ্য সংরক্ষণ, সফটওয়্যার ব্যবহার, ডেটা প্রক্রিয়াকরণ এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারেন। এটি ব্যবসা এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারে উভয়ের জন্যই উন্নত সুবিধা প্রদান করে। ক্লাউড কম্পিউটিং অনলাইনে তথ্য সংরক্ষণ করে রাখতে পারে, এর ফলে নিজের কম্পিউটারে সব তথ্য সংরক্ষণ করার প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে কম্পিউটার রিসোর্স যেমন কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস প্রভূতি ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনো সার্ভিস বা সেবা প্রদান করা। বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং একটি প্রধান প্রযুক্তির অংশ হয়ে ‍উঠেছে, যা ব্যবসার কার্যক্রম থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ব্যবহার পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। ক্লাউড কম্পিউটিং দুই প্রকার। প্রাইভেট ক্লাউড এবং পাবলিক ক্লাউড। প্রাইভেট ক্লাউড হলো এমন একটি ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবস্থা, যা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার নিজস্ব ব্যবহারের জন্য পরিচালিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয়তা তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রাইভেট ক্লাউড ব্যবহার করা হয়। পাবলিক ক্লাউডে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্লাউড সেবা ব্যবহার করতে পারে।                                                                                         

ক্লাউড কম্পিউটিং কীভাবে কাজ করে

ক্লাউড কম্পিউটিং মূলত ইন্টানেটের মাধ্যমে দূরে থাকা শক্তিশালী কম্পিউটার বা সার্ভারের সাহায্যে বিভিন্ন কম্পিউটিং সেবা ব্যবহারের ব্যবস্থা। ক্লাউড কম্পিউটিং একটি সহজ ও আধুনিক পদ্ধতিতে কাজ করে। এর মূল ভিত্তি হলো ইন্টারনেট। যখন একজন ব্যবহারকারী কোনো ফাইল, ছবি, ভিডিও বা অন্য কোনো তথ্য ক্লাউডে সংরক্ষণ করেন, তখন সেই তথ্য সরাসরি নিজের কম্পিউটারে না থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে একটি নিরাপদ সাভারে সংরক্ষিত হয়। প্রথমে ব্যবহারকারী ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্লাউড সেবায় প্রবেশ করেন। এরপর তিনি নিজের তথ্য বা ফাইল আপলোড দেন। সেই তথ্য ক্লাউড কোম্পানির সার্ভারে নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা হয়। সার্ভার হলো এমন একটি শক্তিশালী কম্পিউটার, যেখানে অনেক মানুষের তথ্য একসঙ্গে রাখা যায়। যখন ব্যবহারকারী আবার সেই তথ্য দেখতে বা ব্যবহার করতে চান, তখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্লাউড থেকে তথ্যটি নিজের মোবাইল, কম্পিউটার বা অন্য যেকোনো ডিভাইসে দেখতে পারেন। প্রয়োজন হলে তিনি ফাইল পরিবর্তন করতে, নতুন তথ্য যোগ করতে বা অন্য কারো সঙ্গে ভাগাভাগি ও করতে পারেন। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে তথ্যের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। যেমন পাসওয়ার্ড, এনক্রিপশন এবং দুই ধাপের যাচাইকরণ (Two step verification) । ফলে অন্য কেউ সহজে তথ্য দেখতে বা ব্যবহার করতে পারে না।

শিক্ষাক্ষেত্রে ক্লাউড কম্পিউটিং

ইন্টারনেটে সংযুক্ত হয়ে কিছু গ্লোবাল সুবিধা ভোগ করাকে ক্লাউড কম্পিউটিং বলে। আরও সুন্দরভাবে বলা যায়, ক্লাউড কম্পিউটিং হলো ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি বিশেষ পরিষেবা বা একটি ব্যবসায়িক মডেল, যেখানে বিভিন্ন ধরনের রিসোর্স শেয়ার, কম্পিউটিং সেবা, সার্ভার, স্টোরেজ, সফটওয়্যার প্রভৃতি সেবা সহজে ক্রেতার সুবিধা মতো, চাহিবামাত্র ও চাহিদা অনুযায়ী ব্যবহার করার সুযোগ প্রদান করা বা ভাড়া দেওয়া হয়। আর এই ক্লাউড কম্পিউটিং শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা ইন্টারনেটের সাহায্যে বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী সহজে ব্যবহার করতে পারেন। ক্লাউড কম্পিউটিং শিক্ষাকে আরও সহজ করে তুলেছে। বর্তমানে ডিজিটাল যুগে ক্লাউড কম্পিউটিং শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যবহারে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন েএনেছে। অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল লাইব্রেরি, শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম, নোট, বই সহজে ব্যবহার করতে পারা যাচ্ছে এই ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে।

মোবাইল প্রযুক্তিতে ক্লাউড কম্পিউটিং

মোবাইল প্রযুক্তিতে ক্লাউড কম্পিউটিং হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন তথ্য ও অনলাইন সেবা ব্যবহার করার প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে ছবি, ভিডিও, অনলাইনে তথ্য ও বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন সংরক্ষণ করে রাখা যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে ও নিরাপদে ব্যবহার করা যায়।  এছাড়া মোবাইল ফোনের সীমিত স্টোরেজের ওপর নির্ভরতা কমে। যেকোনো জায়গা থেকে তথ্য ব্যবহার করা যায়। একই ফাইল একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারেন। মোবাইল প্রযুক্তিতে ক্লাউড কম্পিউটিং শিক্ষা, ব্যবসা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি মোবাইল প্রযুক্তিকে খুবই সহজ ও দ্রুত করে তুলেছে। 

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের বৈশিষ্ট্য

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে বর্তমানে সারা বিশ্বে এর ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সহজ ভাষায় এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলে হলো প্রথমত, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করার জন্য ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন। ইন্টারনেট থাকলে পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে তথ্য ব্যবহার করা যায়। দ্বিতীয়ত, তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা যায়। ক্লাউডে সংরক্ষিত তথ্য বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে। তাই তথ্য হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তৃতীয়ত, যেকোনো সময় তথ্য ব্যবহার করা যায়। ব্যবহারকারী দিনে বা রাতে, বাইরে বা বাড়িতে যেকোনো সময় নিজের তথ্য দেখতে ও ব্যবহার করতে পারেন। চতুর্থত, যেকোনো ডিভাইস থেকে ব্যবহার করা যায়। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ বা ট্যাবলেট যে কোনো ডিভাইস থেকে একই তথ্য ব্যবহার করা সম্ভব। পঞ্চমত, তথ্য সহজে ভাগাভাগি করা যায়। ক্লাউডের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী খুব সহজেই অন্য ব্যক্তির সঙ্গে ফাইল বা তথ্য শেয়ার করতে পারেন। এতে একসঙ্গে অনেক মানুষ একই ফাইলে কাজ করতে পারেন। ষষ্ঠত, সংরক্ষণের জায়গা বাড়ানো যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত স্টোরেজ নেওয়া যায়। তাই বেশি তথ্য সংরক্ষণ করতে ও সমস্যা হয় না।ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে রক্ষনাবেক্ষনের ঝামেলা কম থাকে। ক্লাউড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সার্ভার ও সফটওয়্যার পরিচালনা করে। ফলে ব্যবহারকারীকে আলাদা করে এসব দেখাশোনা করতে হয় না। 

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের সুবিধা

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের অনেক সুবিধা রয়েছ। বর্তমানে ব্যক্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অফিসসহ বিভিন্ন জায়গায় এর ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের কয়েকটি সুবিধা হলো তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা যায়। ক্লাউডে রাখা তথ্য বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে  সুরক্ষিত থাকে। ফলে কম্পিউটার নষ্ট হলেও তথ্য সহজে হারিয়ে যায় না। যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থান থেকে তথ্য ব্যবহার করা যায়। ইন্টারনেট থাকলে মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার দিয়ে পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে নিজের ফাইল দেখা ও ব্যবহার করা সম্ভব হয়। তথ্য সহজে ভাগাভাগি করা যায়। একজন ব্যবহারকারী অন্য ব্যক্তির সঙ্গে দ্রুত ফাইল শেয়ার করতে পারেন। এতে একসঙ্গে অনেক মানুষ একই নথিতে কাজ করতে পারেন। সময় ও খরচ সাশ্রয় হয়। আলাদা হার্ডডিস্ক বা বড় স্টোরেজ ডিভাইস কেনার প্রয়োজন কম হয়  ফলে অর্থ সাশ্রয় হয় এবং কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। স্টোরেজ বাড়ানো সহজ। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত স্টোরেজ নেওয়া যায়। তাই বেশি তথ্য সংরক্ষণ করলেও সমস্যা হয় না।  ক্লাউড কম্পিউটিং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, ব্যবসা, সরকারি অফিস এবং ব্যক্তিগত কাজে ক্লাউড কম্পিউটিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। 

ক্লাউড কাম্পউটিংয়ের অসুবিধা

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের অনেক সুুবিধা থাকলেও এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে। যেকোনো প্রযুক্তির মতো এরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তাই ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করার আগে এর অসুবিধাগুলোও জানা প্রয়োজন। প্রথমত, ইন্টারনেট ছাড়া ক্লাউড ব্যবহার করা যায় না। ক্লাউডে সংরক্ষিত তথ্য দেখতে বা ব্যবহার করতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন। ইন্টারনেট না থাকলে ব্যবহার করতে সমস্যা হয়। ইন্টারনেট ধীরগতিতে হলে কাজেও সমস্যা হয়। ইন্টারনেটে গতি কম হলে ফাইল আপলোড বা ডাউনলোড করতে বেশি সময় লাগে। এতে কাজের গতি কমে যায়। তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে। ক্লাউড কোম্পানি তথ্য নিরাপদ রাখার চেষ্টা করলেও দূর্বল পাসওয়ার্ড বা অসাবধানতার কারণে তথ্য অন্যের হাতে চলে যেতে পারে। তাই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা জরুরী। বেশি স্টোরেজ ব্যবহার করলে খরচ বাড়তে পারে। অনেক ক্লাউড সেবা কিছু পরিমাণ স্টোরেজ বিনামূল্যে দিলেও অতিরিক্ত জায়গার জন্য টাকা দিতে হয়। সার্ভারে সমস্যা হলে সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। কোনো প্রযুক্তির ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কিছু সময়ের জন্য ক্লাউড সেবা ব্যবহার করা সম্ভব নাও হতে পারে। সবার তথ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে। তাই ব্যবহারকারীকে সেই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও সবার ওপর নির্ভর করতে হয়।

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ধরন

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের কয়েকটি প্রধান ধরন রয়েছে। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ক্লাউড ব্যবহার করা হয়। প্রথমত, পাবলিক ক্লাউড (Public Cloud)। এই ধরনের ক্লাউড সাধারণত মানুষের জন্য উন্মুক্ত। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কেউ এই সেবা ব্যবহার করতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠান এই ধরনের ক্লাউড সেবা প্রদান করে। ব্যক্তিগত ব্যবহার এবং ছোট ব্যবসার জন্য এটি খুবই জনপ্রিয়।দ্বিতীয়ত, প্রাইভেট ক্লাউড (Private Cloud)। এই ক্লাউড একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য তৈরী করা হয়। অন্য কেউ এটি ব্যবহার করতে পারে না। এতে তথ্যের নিরাপত্তা বেশি থাকে। তাই বড় প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং সরকারি সংস্থাগুলো প্রায়ই এ ধরনের ক্লাউড ব্যবহার করে। তৃতীয়ত, হাইব্রিড ক্লাউড (Hybrid Cloud)। এটি পাবলিক ক্লাউড এবং প্রাইভেট ক্লাউড দুটির সমন্বয়ে তৈরী হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের কিছু তথ্য প্রাইভেট ক্লাউডে এবং কিছু তথ্য পাবলিক ক্লাউডে সংরক্ষণ করা হয়। এতে নিরাপত্তা ও সুবিধা দুটোই পাওয়া যায়। চতুর্থত, কমিউনিটি ক্লাউড (Community Cloud)। এই ধরনের ক্লাউড একই ধরনের কাজ করে এমন একাধিক প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করে। যেমন কয়েকটি হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠান একই ক্লাউড ব্যবহার করতে পারে। এতে খরচ কমে এবং তথ্য ভাগাভাগি করা সহজ হয়। 

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের সেবা (IaaS, PaaS ও SaaS)

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সেবা হলো IaaS, PaaS এবং SaaS। IaaS (Infrastructure as a Service)। এখানে ব্যবহারকারী ইন্টারনেটের মাধ্যমে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার, সার্ভার, স্টোরেজ এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা পান। এতে নিজস্ব সার্ভার কেনার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন অনুযায়ী যতটুকু দরকার ততটুকু সেবা ব্যবহার করা যায়। PaaS (Platform as a Service)। এই সেবায় সফটওয়্যার তৈরী ও পরীক্ষা করার জন্য একটি প্রস্তুত প্লাটফর্ম দেওয়া হয়। এতে প্রোগ্রামার রা সহজে নতুন সফটওয়্যার অ্যাপ তৈরী করতে পারেন। আলাদা করে সার্ভার বা অন্যান্য যন্ত্র পরিচালনা করতে হয় না।  SaaS (Software as s Service)। এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ক্লাউড সেবা। এতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি বিভিন্ন সফটওয়্যার করা যায়। সফটওয়্যার কম্পিউটারে ইনস্টল না করেও অনলাইনে কাজ করা সম্ভব। যেমন-অনলাইন অফিস সফটওয়্যার, ই মেইল সেবা এবং অনলাইন মিটিং অ্যাপ। এই তিনটি সেবা মানুষের কাজকে আরও সহজ, দ্রুত ও কম খরচে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার

ক্লাউড কম্পিউটিং এমন একটি প্রযুক্তি, যেখানে ডেটা সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও প্রসেস করার কাজটি হয় দূরে অবস্থিত সার্ভারে। এই সার্ভারগুলো সাধারণত বড় বড় কোম্পানির (Google, Amazon, Microsoft) ডেটা সেন্টারে থাকে। আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোন স্থান থেকে এই ডেটা ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং বিশ্বের প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ, আদান প্রদান এবং বিভিন্ন কাজ দ্রুত ও সহজভাবে করা যায়। তাই ব্যক্তি থেকে শুরু করে বড় বড় প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সবাই ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে ক্লাউড কিম্পিউটিংয়ের ব্যবহার অনেক বেড়েছে, শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় এসব তথ্য দেখে পড়াশোনা করতে পারেন। ব্যবসা ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, হিসাব, নথি এবং গ্রাহকের তথ্য ক্লাউডে সংরক্ষণ করা হয়। এতে তথ্য নিরাপদ থাকে এবং প্রয়োজন হলে সহজে ব্যবহার করা যায়। ব্যাংকিং ক্ষেত্রে ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করে গ্রাহকের তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা হয়। অনলাইন ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা পরিচালনায় ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে রোগীর রিপোর্ট, চিকিংসার তথ্য এবং হাসপাতালের বিভিন্ন নথি ক্লাউডে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে চিকিৎসক প্রয়োজন হলে দ্রুত এসব তথ্য দেখতে পারেন। সরকারি অফিসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথি এবং অনলাইন সেবা পরিচালনার কাজে ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কাজের গতি বাড়ছে এবং তথ্য সংরক্ষণ সহজ হচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তিগত কাজেও ক্লাউড কম্পিউটিং খুবই উপকারি। মানুষ ছবি, ভিডিও, নথি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ক্লাউডে সংরক্ষণ  করে যেকোনো সময় ব্যবহার করতে পারে।

তথ্য সংরক্ষণে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের গুরুত্ব

ক্লাউড কম্পিউটিং মানে হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে কম্পিউটার সার্ভিস ব্যবহার করা। এখানে ক্লাউড শব্দটি আসলে ইন্টারনেটকে বোঝায়। আমরা আমাদের তথ্য ইন্টারনেটে সংরক্ষণ করি এবং সেই তথ্য যেকোনো ডিভাইস থেকে এক্সেস করতে পারি। তথ্য সংরক্ষণে ক্লাউড কম্পিউটিং অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সময়ে তথ্য খুবই মূল্যবান একটি সম্পদ। ব্যক্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং সরকারি অফিস সব জায়গায় প্রতিদিন অনেক তথ্য তৈরি করা ও সংরক্ষণ করা হয়। এসব তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করার জন্য ক্লাউড কম্পিউটিং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে তথ্য ইন্টারনেটভিত্তিক নিরাপদ সার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে কম্পিউটার, মোবাইল বা হার্ডডিস্ক নষ্ট হলেও তথ্য হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। প্রয়োজনে আবার সেই তথ্য সহজেই ফিরে পাওয়া যায়। ক্লাউডে সংরক্ষিত তথ্য যেকোনো সময় এবং যেকোনো স্থান থেকে ব্যবহার করা যায়। শুধুু ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের মাধ্যমে নিজের তথ্য দেখা, সম্পাদন করা বা অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করা সম্ভব। ক্লাউড কম্পিউটিং তথ্যের নিরাপত্তা ও বৃদ্ধি করে। পাসওয়ার্ড, এনক্রিপশন এবং অত্যান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য সুরক্ষিত রাখা হয়। ফলে অনোমুদিত ব্যক্তি সহজে তথ্য ব্যবহার করতে পারে না। এছাড়া ক্লাউডে তথ্যের ব্যাকআপ রাখা যায়। ভুল করে কোনো ফাইল মুছে গেলে অনেক ক্ষেত্রে তা পুনরুদ্ধর করা সম্ভব হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারানোর ঝুঁকি কমে যায়।

বাংলাদেশে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার

বাংলাদেশে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির কারনে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এখন ক্লাউডভিত্তিক বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে তথ্য সংরক্ষণ, আদান প্রদান এবং বিভিন্ন কাজ আগের তুলনায় সহজ ও দ্রুত হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করা হচ্ছে। শিক্ষকেরা অনলাইনে নোট, প্রশ্ন, ফলাফল এবং অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী সংরক্ষণ করেন। শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় এসব তথ্য ব্যবহার করতে পারে। ব্যাংকিং ক্ষেত্রে গ্রাহকের তথ্য সংরক্ষণ, অনলাইন ব্যাংকিং এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবা পরিচালনার জন্য ক্লাউড প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এর ফলে লেনদেন আরও দ্রুত ও নিরাপদ হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লাউড ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ নথি, হিসাব এবং গ্রাহকের তথ্য সংরক্ষণ করেছে। এতে তথ্য নিরাপদ থাকে এবং কর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে একই তথ্য ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া সরকারি অফিসে ও বিভিন্ন অনলাইন সেবা পরিচালনা এবং তথ্য সংরক্ষণের কাজে ক্লাউড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে জনগণ অনেক সরকারি সেবা ঘরে বসেই গ্রহণ করতে পারছে। বাংলাদেশে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার এখনো উন্নয়নের পথে থাকলেও  এর গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে এবং দেশের ডিজিটাল উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

প্রযুক্তির যুগান্তকারী আর্শীবাদ ক্লাউড কম্পিউটিং বদলে দিয়েছে আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য থেকে শুরু করে গোটা ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যবহার দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্যক্তি, শিক্ষা, প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ব্যাংক এবং সরকারি অফিসসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই ক্লাউড কম্পিউটিং আরো বেশি ব্যবহার করা হবে। ভবিষ্যতে আরো বেশি মানুষ তাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ক্লাউডে সংরক্ষণ করবেন। কারণ এতে তথ্য নিরাপদ থাকে এবং যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থান থেকে সহজেই ব্যবহার করা যায়। ফলে হার্ডডিস্ক বা প্রেনড্রাইভের ওপর নির্ভরশীলতা কমে যাবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস, নোট, পরীক্ষার ফলাফল এবং অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী ক্লাউডের মাধ্যমে আরও সহজে পরিচালনা করা যাবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ও তাদের তথ্য আরও নিরাপদ ভাবে সংরক্ষণ করতে পারবে এবং কর্মীরা পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, কৃষি, শিল্প এবং সরকারি সেবায় ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে কাজের গতি বাড়বে, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং মানুষের সময় ও খরচ কমবে। বাংলাদেশও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার আরো বাড়বে। নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে এবং দেশের ডিজিটাল উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে কম্পিউটারের রিসোর্স যেমন কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস প্রভূতি ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনো সার্ভিস বা সেবা প্রদান করা। ক্লাউড কম্পিউটিং আধুনিক তথ্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। এটি মানুষের তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ, ব্যবহার এর আদার প্রদান করার কাজকে অনেক সহজ করেছে। আগে মানুষ তথ্য সংরক্ষণের জন্য কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, পেনড্রাইভ বা সিডি ব্যবহার করত। কিন্তু এসব যন্ত্র হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে তথ্য ও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। বর্তমানে ব্যক্তি, শিক্ষা, ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, হাসপাতাল এবং সরকারি অফিসসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থান থেকে তথ্য ব্যবহার করা যায়। এতে তথ্য নিরাপদ থাকে, সময় ও খরচ কমে এবং এক সঙ্গে অনেক মানুষ একই তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারে। তাই বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ক্লাউড কম্পিউটিং একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হয়ে উঠেছে। তবে এই প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়ার জন্য তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা এবং সাইবার নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলা জরুরী। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা ও প্রয়োজন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url