ইলিশ মাছ বাঙালির সংস্কৃতি ও স্বাদের প্রতীক এবং এর জনপ্রিয় দশটি (১০) রেসিপি।


বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এখানে অসংখ নদী ও খাল বিল রয়েছে। এসব নদীতে নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ইলিশ মাছ সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সুস্বাদু। এটি বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। ইলিশকে মাছের রাজা বলা হয়। ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়, এটি আমাদের আবেগ, স্মৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ইলিশ একটি মাঝারি আকারের চকচকে রুপালি রঙের মাছ। এর শরীর চ্যাপ্টা ও পেটের অংশ গোল। ইলিশের আঁশ ছোট এবং পিচ্ছিল। এটি মিঠা ও নোনা পানি দুই জায়গাতেই বাস করতে পারে। এটি মূলত পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, তেঁতুলিয়া ও পায়রা নদীতে বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া বঙ্গোপসাগরেও ইলিশ ধরা হয়। বর্ষাকাল ইলিশ মাছ ধরার প্রধান মৌসুম। এ সময়ে নদী ও বাজারে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায়। ইলিশ সাধারণত ছোট মাছ, পোকামাকড়, শৈবাল ও পানিতে থাকা ক্ষুদ্র প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে। এটি নদী ও সাগরের স্বাভাবিক খাদ্য থেকেই পুষ্টি সংগ্রহ করে। ইলিশেল স্বাদ ও ঘ্রাণ অতুলনীয়। পদ্মার ইলিশ সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু বলে খ্যাত। ভাজা, ঝোল, সরিষার তেলে রান্না, ভাপা ইলিশ, দই ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, ইলিশ পোলাও, ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে ডাল, নারকেলের দুধে ইলিশ, ইলিশ মাছের ভোনা, সবজি দিয়ে ইলিশ, ইলিশ খিচুড়ি সব ভাবেই ইলিশ রান্না অসাধারণ স্বাদের হয়।

আমাদের উৎসব, অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক আনন্দে ইলিশ অপরিহার্য। একে রুপালি ইলিশ বলা হয়। এরা সমুদ্রের নোনা পানিতে থাকে এবং শুধু ডিম পাড়ার সময় নদীতে চলে আসে। ইলিশ আমাদের জাতীয় গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। তাছাড়া বাংলাদেশে ইলিশ মাছ রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। তাই ইলিশ সংরক্ষণ ও প্রজনন রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই সুস্বাদু জাতীয় মাছের স্বাদ উপভোগ করতে পারে। ইলিশ মাছের অনন্য স্বাদ, মনোমুগ্ধকর সুবাস এবং নরম মাংসের জন্য এটি দেশ বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। এই ইলিশ দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পদ রান্না করা যায়। স্বাদের পাশাপাশি ইলিশ মাছ পুষ্টিগুণেও সেরা। ইলিশ মাছ খাওয়ার ফলে ব্রেন ফাংশন উন্নত হয়, স্মৃতি শক্তি বাড়ে। ওমেগা ৩ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর, যা হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে, ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বাড়ায়, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, মানসিক চাপ কমায় এবং শরীরের শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সব মিলিয়ে, ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং খাদ্যাভ্যাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ইলিশ মাছের পরিচয় ও বৈশিষ্ট

ইলিশ মাছ আমাদের দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত,সুস্বাদু ও জনপ্রিয় একটি মাছ। ইলিশের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha। এটি মূলত নদী ও সাগরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মাছ। ইলিশ সাধারণত সমুদ্রে বসবাস করলেও ডিম ছাড়ার সময় নদীর মিঠা পানিতে চলে আসে। তাই বিভিন্ন নদীতে বিশেষ করে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও উপকূলীয় নদ নদীতে ইলিশের দেখা পাওয়া যায়। ইলিশ মাছের শরীর সাধারণত রুপালি রঙের এবেং দেখতে বেশ চকচেকে। এর দেহ কিছুটা চাপা ও লম্বোটে। রান্নার পর ইলিশের মাংস নরম ও রসালো হয়ে ওঠে যা খেতে খুবই সুস্বাদু হয়। ইলিশ মাছে ছোট বড় অনেক কাঁটা থাকে। এর স্বাদ ও ঘ্রাণের কারণে মানুষ ইলিশ আগ্রহেরসঙ্গে খায়। ইলিশ দিয়ে নানা ধরনের রান্না তৈরি করা যায়। ইলিশ মাছ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে উন্নত মানের প্রোটিন, চর্বি এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। ইলিশে থাকা ওমেগা ৩ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ইলিশ মাছ খাওয়ার উপকারিতা

ইলিশ মাছ কেবল অসাধারণ স্বাদের জন্যই নয়, বরং এর রয়েছে প্রচুর উপকারিতা। ইলিশ মাছে রয়েছে প্রচুর ওমেগা ৩ফ্যাটি অ্যাসিড, উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি ১২ এবং খনিজ। যা আমাদের শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইলিশ মাছ মানবদেহের হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ রাখে। হাড় ও দাঁত মজবুত করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। রক্তসল্পতা দূর করে। হজম শক্তি উন্নত করে। শক্তি সরবরাহ করে ক্লান্তি দূর করে। দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখে।

ঘরোয়া উপায়ে ঐতিহ্যবাহী সর্ষে ইলিশ রান্না

সর্ষে ইলিশ বাঙালির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় খাবার। ইলিশ মাছের নিজস্ব সুগন্ধ ও স্বাদের সঙ্গে সর্ষের ঝাঁঝালো স্বাদ চমৎকারভাবে মিশে যায় এবং এই রান্নাকে করে তোলে অত্যন্ত সুস্বাদু। গরম গরম ভাতের সঙ্গে জিভে জল আনা সর্ষে ইলিশ রান্নার খুব সহজ একটি পদ্ধতি জেনে নিন। উপকরণ ইলিশ মাছ ৪ থেকে ৫ টুকরা (৫০০) গ্রাম, সরিষার তেল ৪ টেবিল চামচ, মরিচের গুঁড়া আধা চা চামচ, হলুদের গুড়া ১/৪ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৪ টি ( মাঝখান থেকে চেরা), আদা ও রসুন বাটা ১ চা চামচ, লবণ আধা চা চামচ বা পরিমাণমতো। সরিষার পেষ্ট তৈরির উপকরণ কাঁচা মরিচ ৪ টি, পেঁয়াজ ২ টি (মাঝারি), লবণ আধা চা চামচ, সরিষা ২ টেবিল চামচ (৪ টেবিল চামচ পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে), সরিষা বাটার আগে আদা ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তরকারিতে তেতো ভাবটা থাকে না। কালো ও হলুদ সরিষা মিলিয়ে পেষ্ট করলে তরকারিতে পরিমাণ মতো ঝাঁঝ হয়। রান্নার প্রস্তুত প্রণালি প্রথমে ইলিশ মাছের টুকরোগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন। সরিষার পেষ্ট তৈরির সব উপকরণ একসাথে ব্লেন্ড করে নিন। একসাথে ব্লেন্ড করলে সরিষার তেতো ভাব থাকে না। ব্লেন্ড করার সময় একটু পানি দিয়ে দিবেন। আপনি চাইলে পাটায় ও বেটে নিতে পারেন। মাঝারি আঁচে চুলায় কড়াই বসিয়ে সরিষার তেল দিন। তেল সামান্য গরম হলে ব্লেন্ড করে রাখা সরিষার পেষ্ট দিয়ে দিন। নেড়েচেড়ে আদা বাটা, রসুন বাটা, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে আবার নাড়ুুন। মাঝারি আঁচে ২ থেকে ৩ মিনিট সময় নিয়ে মসলা কষান। মসলা কষানোর উপর নির্ভর করে তরকারির স্বাদ। এবার চুলার আঁচ কমিয়ে মিডিয়াম লো করে মাছের টুকরা দিয়ে দিন। চামচ দিয়ে মসলা উঠিয়ে মাছের উপর দিন। ৪ থেকে ৫ মিনিট পর সাবধানে উল্টে দিন মাছের টুকরোগুলো। পরিমাণ মতো গরম পানি দিয়ে সামান্য নেড়ে ৫ মিনিটের জন্য ঢেকে দিন প্যান। ৫ মিনিট পর ঢাকনা তুলে আরেকবার উল্টে দিন মাছগুলো। এবার কড়াইয়ে কাঁচা মরিচ দিয়ে আরও ৫ মিনিট ঢেকে রাখুন কড়াই। তেল উঠে আসলে নামিয়ে পরিবেশন করুন। 

ইলিশ মাছের ভুনা

আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ দেখতে যেমর সুন্দর খেতেও খুবই সুস্বাদু। ইলিশ মাছ খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুবই কম আছে। ইলিশ মাছের ভুনা বাঙালিদের অত্যন্ত প্রিয় এবং সুস্বাদু একটি খাবার। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইলিশ মাছ ভুনা করা যায়। ইলিশ মাছে বেশি উপকরণের প্রয়োজন হয় না বা বাড়তি মসলার প্রয়োজন হয় না, কারণ ইলিশ মাছের নিজস্ব একটা সুস্বাদু গন্ধ আছে। ইলিশ মাছ দিয়ে বিভিন্ন রকমের তরকারি রান্না করা যায়। ইলিশ মাছ ভুনার সহজ রান্নার রেসেপির উপকরণ ইলিশ মাছ ৫ টুকরা, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১/৩ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৫ থেকে ৬ টি, সরিষার তেল ৪ থেকে ৫ চামচ, লবণ পরিমাণমত। রান্নার প্রস্তুত প্রণালী, প্রথমে ইলিশ মাছের আঁশ পরিষ্কার করে কেটে নিব। মাছ কাটা হয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিয়ে অল্প পরিমাণ হলুদ গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া এবং লবণ ‍দিয়ে মাখিয়ে নিব ইলিশ মাছের টুকরার সাথে। চুলায় একটি প্যানে চার থেকে পাঁচ চামচ পরিমাণ সরিষার তেল দিয়ে দিব। তেল গরম হলে হলুদ, মরিচ, লবণ মাখিয়ে রাখা ইলিশ মাছের টুকরাগুলো প্যানে দিয়ে দিব। তারপর চুলার মাঝারি আঁচে ইলিশ মাছের টুকরাগুলো ভেজে নিব। ইলিশ মাছের টুকরাগুলো যখন লাল হয়ে আসবে, তখন প্যান থেকে টুকরাগুলো তুলে নিব। এবার কুচি করে রাখা পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ প্যানে দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে নিব। পেঁয়াজ কুচি হালকা ভাজা হলে, পেঁয়াজ বাটা ও রসুন বাটা দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে নিব। আর এগুলো ভাজা হয়ে গেলে একে একে সব মসলার গুড়া এবং লবণ প্যানে দিয়ে চামচ দিয়ে নেড়েচেড়ে এক কাপ পরিমাণ পানি দিব মসলাগুলো কষানোর জন্য। মসলা কষানো হলে, ভেজে রাখা ইলিশ মাছের টুকরাগুলো প্যানে দিয়ে ৮ থেকে ১০ মিনিট রান্না করবো চুলার মাঝারি আচে। ঝোল শুকিয়ে, পেঁয়াজ এবং ইলিশ মাছ ভুনা ভুনা হলে, চুলা বন্ধ করে দেব। তারপর সুন্দর করে পরিবেশন করুন। 

চাল কুমড়ো দিয়ে ইলিশ মাছ রান্না

চাল কুমড়ো ‍দিয়ে ইলিশ মাছ একটি সুস্বাদু ও ঘরোয়া বাঙালি রান্না। বাঙালির জীবনের সঙ্গে আষ্টে পৃষ্ঠে জড়্রিয়ে আছে যে মাছটি তার নাম হলো ইলিশ। হটডগ  ছাড়া যেমন একজন মার্কিনির জীবন চিন্তাই করা যায় না ঠিক তেমনি ইলিশ মাছ ছাড়া বাঙালির জীবন চিন্তা করা সম্ভব নয়। গ্রামের চাল কুমড়া যখন প্রত্যেকের বাড়ির চালে ঝুলতে শুরু করে, ঠিক তখনই বাজার থেকে নিয়ে আসা হয় পদ্মার ইলিশ। সেই ইলিশ মাছ দিয়ে যখন চাল কুমড়ো রান্না করা হয়, সেটা দিয়ে গরম গরম ভাত খাওয়ার যে কী স্বাদ, সেটা যারা খেয়েছেন তারাই বলতে পারবেন। চাল কুমড়ো রান্নার একটি সহজ ও ঘরোয়া পদ্ধতি জেনে নেওয়া যাক। উপকরণ ইলিশ মাছ ৫ থেকে ৬ টুকরা, চাল কুমড়ো ৫০০ গ্রাম (ছোট বা মাঝারি করে কেটে), পেঁয়াজ কুচি ২ টি, পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ৫ থেকে ৬ টি, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া  ১/২ চা চামচ, লবণ পরিমাণ মতো, সরিষার তেল ৪ থেকে ৫ টেবিল চামচ, ধনে পাতা সামান্য। রান্নার প্রস্তুত প্রণালী, প্রথমে ইলিশ মাছের টুকরাগুলোকে ভালোভাবে ধুয়ে নিব, এবং কুমড়োও ছোট করে কেটে নেব। এবার চুলায় প্যান বসিয়ে সরিষার তেল দিব। তেল গরম হলে দিব পেঁয়াজ কুচি। পেঁয়াজ কুচি নেড়েচেড়ে হালকা লাল হলে দেব স্বাদমতো লবণ, পেঁয়াজ বাটা, হলুদের গুঁড়া ও লাল মরিচের গুঁড়া এবং সবগুলো মসলা চামচ দিয়ে নেড়েচেড়ে মিক্স করব। এবার মসলাটি ভালোভাবে কষানোর জন্য পরিমাণমতো পানি দেব এবং চুলার মাঝারি আঁচে ৫ থেক ৬ মিনিট মসলা কষিয়ে নিব। প্যানের তেলটা ভালোভাবে উঠে আসার পর আগে থেকে কেটে রাখা ইলিশ মাছগুলো দিয়ে দিব। এবার প্যানে সামান্য পানি দিয়ে নেড়েচেড়ে মাছগুলোকে ৫ থেকে ৭মিনিট সময় নিয়ে কষিয়ে নিব। ভালোভাবে কষানোর পর মাছগুলো প্যান থেকেে একটি প্লেটে তুলে নিব। এবার প্যানে যে মসলা রয়েছে তাতে দিয়ে দেব আগে থেকে কেটে রাখা কুমড়োর টুকরোগুলো। প্যানের মসলার সাথে কুমড়োর টুকরাকে ভালোভাবে নেড়েচেড়ে নিব। তারপর কুমড়োকে কষানোর জন্য সামান্য পানি ‍দিয়ে ৮ থেকে ১০ মিনিট ঢাকনা ‍দিয়ে ঢেকে রাখব। কষিয়ে নেওয়ার পর প্যানে পরিমাণমতো পানি দিব। পানি ফুটে যাওয়ার পর দিয়ে দিব কষিয়ে রাখা ইলিশ মাছের টুকরাগুলো। মাছগুলো প্যানে দিয়ে আলতো আলতো করে নেড়েচেড়ে দিব, যাতে মাছগুলো ভেঙে না যায়। এখন দিয়ে দিব ৫ থেকে ৬ টা আস্ত কাঁচা মরিচ। লবণ হয়েছে কি না চেক করে নিব। তারপর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ১০ থেকে ১২ মিনিট রান্না করে নেব। তারপর চুলা বন্ধ করে নেব এবং সুন্দর করে পরিবেশন করে নেব।  

ইলিশ মাছের পাতুরি 

ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। ইলিশ মাছের নাম শুনলেই আমাদের জিভে জল চলে আসে। গরম ভাত ও তার সঙ্গে ইলিশ মাছ, ইলিশের পাতুরি হোক বা সর্ষে ইলিশ, এর থেকে সুস্বাদু খাবার আর কিছুই হতে পারে না। বর্ষাকালে সাধারণত ইলিশ মাছটি পাওয়া যায়। তবে আজকাল বাজারে বছরের সব সময়ই কম বেশি পেয়ে যাবেন এই মাছটি। ইলিশ মাছ বিভিন্ন দেশে খাওয়া প্রচলিত থাকলেও এই মাছটি বাঙালিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। ইলিশ মাছ দিয়ে বিভিন্ন ধরণের রেসিপি বানানো যায়। ইলিশ মাছের পাতুরি হলো সর্ষে, পোস্ত ও নারিকেলের পেষ্টে মাখানো ইলিশ মাছ, যা কলাপাতা দিয়ে পেঁচিয়ে হালকা আঁচে রান্না করা হয়। উপকরণ ইলিশ মাছ ৪ টুকরা, সর্ষে বাটা পরিমাণমতো বা ২ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ৬ টি (বাটা ২ টি চেরা ৪ টি), সরিষার তেল ৪ থেকে ৫ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, মরিচের গুঁড়া ১/২ চা চামচ, নারকেল কোরা ৩ চা চামচ, চিনি ১/২ চা চামচ, পোস্ত বাটা ২ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, কলাপাতা ও সূতা। রান্নার প্রস্তুত প্রণালী, প্রথমে একটি পাত্রে সর্ষে বাটা, কাঁচা মরিচ বাটা, সরিষার তেল, হলুদ গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া, নারকেল কোরা, চিনি, পোস্ত বাটা সব উপকরণ মিলিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে নিন। এবার একটি পাত্রে ইলিশের সাথে এই মিশ্রণটি ভালো করে মাখিয়ে নিন। তারপর পাত্রটিকে ২০ মিনিট ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন। একটি কলাপাতাকে চারটি বড় টুকরা করে কেটে নিন। এমনভাবে কাটতে হবে যাতে প্রতি টুকরা ‍দিয়ে ইলিশ মাছের টুকরাগুলোকে পেঁচিয়ে নেওয়া যায়। কলাপাতাগুলোকে আগুনের তাপে রাখতে হবে যাতে ওগুলো নরম হয়ে যায় এবং সহজেই মোড়ানো যায়। এবার একটি কলাপাতার টুকরো নিন, তাতে ভালো করে তেল মাখিয়ে নিন। তারপর তাতে আগে থেকে সব উপকরণ দিয়ে মাখিয়ে রাখা একটি ইলিশ মাছের টুকরা রাখুন। এখন একটি কাঁচা মরিচ কেটে রেখে দিন। এবার  কলাপাতাটিকে  ভালো করে পেঁচিয়ে সূতা বেঁধে নিন। একই ভাবে বাকি মাছের টুকরাগুলোকেও পেঁচিয়ে নিন। তারপর একটি তাওয়া বা পাত্র গ্যাসে বসিয়ে গরম করে নিন এবং তাতে অল্প সর্ষের তেল দিয়ে এক একটি করে কলাপাতায় পেঁচানো ইলিশ রাখুন। এবার তাওয়া বা পাত্রটি ঢেকে দিন। তারপর অল্প আঁচে রান্না হতে দিন। ১০ মিনিট পর ঢাকনা সরিয়ে কলাপাতা পেঁচানো অবস্থায় ইলিশগুলো উল্টে দেখুন। যদি একদিক কালো হয়ে যায় তবে তা উল্টে দিন। আরও ৫ মিনিট রান্না হওয়ার পর গ্যাস বন্ধ করুন। এবার ইলিশ মাছের পাতুরি পরিবেশন করুন।    

ইলিশ মাছের ভর্তা

আমরা হলাম মাছে ভাতে বাঙালি। আমরা যে খাবারই খাই না কেন বাঙালির পাতে ভাতের সাথে ভর্তা না থাকলে চলেই না। ভর্তা খেতে সবাই পছন্দ করেন। কারও পছন্দ আলু ভর্তা কারও আবার টমেটো। আবার অনেকে মাছ ভর্তা খেতেও পছন্দ করেন। বিশেষ করে ইলিশ মাছের ভর্তা গরম ভাতের সাথে খাওয়ার মজাই আলাদা। মাওয়া ঘাটে গিয়ে অনেকেই নিশ্চই ইলিশ মাছের লেজ ভর্তা খেয়েছেন? এর স্বাদ নিশ্চই  আপনার মুখে লেগে আছে এখনও। আপনি চাইলে ঘরেও এটি তৈরি করে নিতে পারবেন। ইলিশ মাছের ভর্তা সাধারণত লেজ বা পেটি দিয়ে তৈরি করা হয়। জেনে নিন রেসিপিটি উপকরণ, ইলিশ মাছের লেজ ১ টি, পেঁয়াজ কুচি ১/২ কাপ, কাঁচা মরিচ ২ টি, শুকনো ভাজা মরিচ ৩ টি, সরিষার তেল ১/২ চা চামচ, লবণ পরিমাণমতো, ধনেপাতা পরিমাণমতো। প্রস্তুত প্রণালী, মাছের লেজের টুকরোটি সামান্য হলুদ, লবণ ও মরিচ গুঁড়া দিয়ে মাখিয়ে নিন। প্যানে সরিষার তেল গরম করে লেজটি লাল করে ভালোভাবে ভেজে নিন। লেজ ঠান্ডা হওয়ার পর কাটা গুলো ছারিয়ে নিন। এবার একটি পাত্রে ভর্তার সব উপকরণ যেমন পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ, শুকনো ভাজা মরিচ ও লবণ ‍দিয়ে চটকে নিন। এরপর সরিষার তেল ও ধনেপাতা দিয়ে আলতো করে আবার মেখে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে ইলিশ মাছের সুস্বাদু ভর্তা। ইলিশ মাছের লেজের ভর্তাটি খেতে খুবই মজাদার হয়। এই ভর্তাটি যারা একবার খান তারা বারবার খেতে চান। গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করলে জিভে জল চলে আসে।

টমেটো দিয়ে ইলিশ মাছ রান্না

টমেটো যেকোনো মাছের সাথে সুন্দর ভাবে মানিয়ে যায়। আর মাছটি যদি হয় বাঙালির জাতীয় ইলিশ মাছ, তাহলে তো আর কোনো কথাই নাই। এটি নিঃসন্দেহে খুবই মজাদার হয়। টমেটো দিয়ে ইলিশ রান্না করার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হলো হালকা মসলায় টমেটো ইলিশের পাতলা ঝোল বা টমেটোর ইলিশ ভুনা। টমেটোতে রয়েছে প্রাকৃতিক টক মিষ্টি স্বাদ। টমেটো দিয়ে ইলিশ রান্না হালকা টক মিষ্টি স্বাদের জনপ্রিয় বাঙালি রেসিপি। টমেটোর প্রাকৃতিক টক স্বাদ ইলিশ মাছের স্বাদকে আরও বাড়িয়ে দেয়। খুবই সল্প সময়ে টমেটো দিয়ে ইলিশ মাছ রান্না করা যায়। টমেটো দিয়ে ইলিশ মাছের রেসিপিটি ভাতের সাথে খেতে দারুণ লাগে। এটি তৈরি করার উপকরণ, ইলিশ মাছের টুকরা ৬ টি, টমেটো ২ টি, পেঁয়াজ কুচি ৪ টি, কাঁচা মরিচ ৫ টি, হলুদের গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরার গুঁড়া পরিমাণমতো, ধনিয়ার গুঁড়া ১/২ চা চামচ, আদা ও রসুন বাটা ১ চা চামচ (ঐচ্ছিক), লবণ পরিমাণমতো, সরিষার তেল ৪ থেকে ৫ টেবিল চামচ। প্রস্তুত প্রণালী, প্রথমে ইলিশ মাছের টুকরাগুলোতে হলুদের গুঁড়া ও মরিচের গুঁড়া এবং লবণ মাখিয়ে নিন। তারপর প্যানে পরিমাণমতো সরিষার তেল ঢেলে নিয়ে মাছের টুকরা গুলো ভালোভাবে ভেজে নিন। এবার ভেজে নেওয়া মাছগুলো আলাদা একটি পাত্রে তুলে রাখুন। তারপর প্যানে তেল কমে গেলে পরিমাণ মতো তেল দিয়ে দিন। তেল গরম হওয়ার পর, আগে থেকে কেটে রাখা পেঁয়াজ কুচি ও পরিমাণ মতো লবণ দিয়ে দিন। পেঁয়াজ হালকা বাদামি কালার হওয়ার পর মরিচের গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া, ধনিয়ার গুঁড়া, জিরার গুঁড়া এবং আদা ও রসুন বাটা দিয়ে ভালো করে নেড়েচেড়ে মসলা কষিয়ে নিন। কষানো হয়ে গেলে আগে থেকে কেটে রাখা টমেটো এবং কাঁচা মরিচ গুলো দিয়ে দিন। তারপর এগুলো মসলার সাথে কষিয়ে নিন। কষানোর পর ভেজে রাখা ইলিশ মাছের টুকরা গুলো প্যানে দিয়ে নেড়েচেড়ে নিন। এবার পরিমাণ মতো পানি দিয়ে দিন। পানি দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন ৫ থেকে ৬ মিনিটের জন্য। তারপর ঢাকনা খুলে দেখুন হয়ে গিয়েছে টমেটো ইলিশ রান্না। এখন চুলা বন্ধ করে ‍দিন।

দই ইলিশ রান্না

ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। আর ইলিশ মাছের নাম শুনলেই যেন পেটে ক্ষুধা বেড়ে যায়। বাঙালির রসনা বিলাসে ইলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উৎসব, অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক আনন্দে ইলিশ অপরিহার্য। ইলিশ মাছ খান না এমন মানুষ নেই বললেই চলে। ইলিশ আমাদের বাঙালিদের একটি পছন্দের মাছ। আর পছন্দের মাছের সাথে যদি পছন্দের রান্না হয়ে যায়, তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই। তেমনি একটি রান্না হলো দই ইলিশ রান্না। দই ইলিশ অত্যন্ত সুস্বাদু একটি ঐতিহ্যবাহী বাঙালি রান্না। এটি খুব কম সময়ে এবং সল্প উপকরণে তৈরি করা যায়। এটি খেতে যেমর সুস্বাদু দেখতে তেমন লোভনীয় হয়। দই ইলিশ রান্নার উপকরণ, ইলিশ মাছের টুকরা ৪টি, দই ১/২ কাপ, সরিষা বাটা ২ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ বাটা ১ টেবিল চামচ, পোস্ত বাটা ১/২ চা চামচ, টক দই ১/২ কাপ, রসুন ২ কোয়া, কাঁচা মরিচ ৪টি, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, হলুদ গুড়া ১ চা চামচ, সরিষার তেল পরিমাণ মতো, লবণ স্বাদমতো। প্রস্তুত প্রণালী, প্রথমে চুলায় একটি পাত্রে সরিষার তেল দিয়ে দিন। তেল গরম হলে পেঁয়াজ কুচি দিন। পেঁয়াজ কুচি বাদামি হয়ে আসলে একে একে বেটে রাখা মসলা সরিষা, কাঁচা মরিচ বাটা, পোস্ত বাটা এবং টক দই, হলুদ গুড়া ও লবণ দিয়ে ভালো করে মিলিয়ে নিন। এবার চুলায় মাঝারি আঁচে মসলাটা ভালো করে কষিয়ে নিন। ভালোভাবে কষানোর পর এতে ইলিশ মাছের টুকরা গুলো দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন কিছু সময়। এবার মাছগুলো আস্তে করে উল্টে দিয়ে আবার ঢাকনা দিন। তারপর এতে সামান্য পানি দিন মাছটা সেদ্ধ হওয়ার জন্য। পানি কিছুটা কমে এলে আস্ত কাঁচা মরিচ দিয়ে নেড়ে নিন। নাড়ার সময় আলতো করে নাড়তে হবে, খেয়াল রাখতে হবে মাছ যেন ভেঙে না যায়। আরও ৩ থেকে ৪ মিনিট অল্প আঁচে রান্না করে মাখা মাখা হয়ে এলে নামিয়ে নিন। এবার গরম ভাত, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ কুচি এবং এক টুকরো পাতি লেবুর সাথে পরিবেশন করুন দই ইলিশ। 

ইলিশ মাছের কালিয়া

ইলিশকে মাছের রাজা বলা হয়। ইলিশ মাছ দিয়ে বিভিন্ন ধরণের রাজকীয় খাবার বানানো যায়। সেরকমই ইলিশ মাছের কালিয়াও একটি রাজকীয় খাবার। আগেকার সময়ে বিয়ের মতো অনুষ্ঠানে ইলিশ মাছের কালিয়া যোগ করা হতো। বিয়ে বাড়িতে অন্যান্য খাবারের সাথে ইলশ মাছের কালিয়া রাখা হতো। ইলিশ মাছের কালিয়া একটি ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পদ। ইলিশ মাছের কালিয়া খেতে খুবই মজাদার হয়। উৎসব, অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে ইলিশ মাছের কালিয়া তৈরি করা হয়। ইলিশ মাছের কালিয়া তৈরির সহজ উপায়ের উপকরণ, ইলিশ মাছ ৪ টুকরা, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদা বাটা ১/২ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, টমেটো পেস্ট ৪ টেবিল চামচ, টক দই ১/২ কাপ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, ধনে গুঁড়া ১/২ চা চামচ, গরম মসলার গুঁড়া ১/২ চা চামচ, তেজপাতা ২ টি, দারচিনি ১ টুকরা, এলাচ ২ টি, লবণ স্বাদমতো, সরিষার তেল ১/২ কাপ, কাঁচা মরিচ ৪ থেকে ৫ টি। রান্নার প্রস্তুত প্রণালী, প্রখমে মাছের টুকরো গুলো ভালো করে ধুয়ে সামান্য হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া ও লবণ মাখিয়ে ৮ থেকে ১০ মিনিট রেখে দিন। তারপর প্যানে সরিষার তেল গরম করে ম্যারিনেট করা মাছ গুলোকে হালকা ভেজে তুলে নিন। এবার ঐ তেলের মধ্যেই তেজপাতা, এলাচ, দারুচিনি ও জিরা ফোড়ন ‍দিয়ে নেড়ে চেড়ে নিন। তারপর প্যানে দিয়ে দিন পেঁয়াজ কুচি। পেঁয়াজ কুচি হালকা লাল হওয়ার পর  আদা ও রসুন বাটা দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। তারপর হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া, জিরার গুঁড়া এবং টমেটো পেস্ট দিয়ে মশলা ভালোভাবে কষান, যতক্ষণ না মশলা থেকে তেল আলাদা হচ্ছে। মশলা থেকে তেল আলাদা হওয়ার পর চুলায় কম আঁচে রেখে ফেটানো টক দই দিয়ে দিন এবং ২ থেকে ৩ মিনিট নেড়ে চেড়ে মসলা ভালো করে কষান। মসলা কষা হয়ে গেলে ১ কাপ হালকা গরম পানি দিয়ে দিন। পানি ফুটে উঠলে ভেজে রাখা ইলিশ মাছের টুকরা গুলো এবং আস্ত বা চেরা কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন। তারপর প্যান ঢেকে রেখে মাঝারি আঁচে ৭ থেকে ৮ মিনিট রান্না করুন।  ঝোল ঘন হয়ে তেল উপরে ভেসে উঠলে ওপর থেকে সামান্য মসলা গুঁড়া ছিটিয়ে নামিয়ে নিন। এবার গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন। 

বেগুন দিয়ে ইলিশ মাছের ঝোল

ইলিশ খুবই সুস্বাদু একটি মাছ। বর্ষা আসবে আর বাঙালি ইলিশে মজবে না তা কি হয়? যত দিন যাচ্ছে, ইলিশের জোগান ও বাড়ছে বাজারে। এটি যেকোনো সবজির সঙ্গেই খেতে চমৎকার লাগে। বিশেষ করে ইলিশ মাছের সাথে বেগুন দিয়ে ঝোল রান্না করলে খেতে অসাধারণ হয়। বেগুন ‍দিয়ে ইলিশ মাছের ঝোল বাঙালিদের অত্যন্ত প্রিয় একটি খাবার। এটি খুবই সহজে তৈরি করা যায়। উপকরণ, ইলিশ মাছ ৬ টুকরা, বেগুন পরিমাণমতো, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, ধনিয়া গুড়া ১/২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ৬ থেকে ৭ টা আস্ত, গোল মরিচ ৩ থেকে ৪ টি, গোল মরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, ভাজা জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, সরিষার তেল পরিমাণমতো, লবণ স্বাদ মতো। প্রস্তুত প্রণালী,  প্রথমে ইলিশ মাছকে কেটে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন এবং বেগুন গুলোকেও কেটে ধুয়ে নিন। একটি প্যানে তেল গরম করে বেগুন গুলো ভেজে নিন। এবার ভাজা বেগুন গুলো আলাদা পাত্রে তুলে নিন। এবার তেলে মরিচ ও কালো জিরা ফোড়ন দিয়ে একে একে গোল মরিচ, হলুদ গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, জিরা গুড়া ও লবণ দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। কষানোর পর পরিমাণ মতো পানি ‍দিয়ে দিন। এবার পানি ফুটতে দিন। ঝোল ফুটে এলে তাতে ইলিশ মাছের টুকরা দিন। মাছ ‍দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করুন। এবার যোগ করুন ভেজে রাখা বেগুন গুলো। সব সেদ্ধ হয়ে এলে ভাজা জিরা গুঁড়া এবং গোল মরিচ গুঁড়া ছিটিয়ে ১ থেকে ২ মিনিট পর নামিয়ে নিন। এখন প্রস্তুত হয়ে গেল বেগুন দিয়ে ইলিশ মাছেল ঝোল। তারপর গরম গরম ভাতের সাথে সুন্দর করে পরিবেশন করুন।  

ইলিশের কোরমা

ইলিশ মাছ পছন্দ করেন না এমন মানুষ নেই বললেই চলে। ইলিশ মাছ বাঙালিদের একটি প্রিয় খাবার। এটি স্বাদে, গন্ধে পরিপূর্ণ। বাজারে এখন প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে বেশ কম দামেই ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণত ইলিশ মাছ ভেজে বা সরিষা দিয়ে রান্না করেই বেশি খাওয়া হয়, তবে আপনি চাইলে স্বাদ পাল্টাতে রান্না করতে পারেন ইলিশ মাছের কোরমা। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে ঘরোয়া আয়োজনে পাতে রাখতে পারেন ইলিশের কোরমা। মজাদার ইলিশের কোরমা রান্নার উপকরণ, ইলিশ মাছ ৪ টুকরা, টক দই ৪ টেবিল চামচ, লিকুইড মিল্ক ১ কাপ, চিনি ১/২ চামচ, পেঁয়াজ কুচি খুব পাতলা করে ১ টি, লবণ স্বাদ মতো, ঘি ৩ টেবিল চামচ, সরিষা তেল ৪ টেবিল চামচ, কিসমিস ২ চা চামচ, হলুদ গুড়ো ১ চা চামচ, কাঁচা মরিচ বাটা ১ চা চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা পরিমাণমতো, শুকনো মরিচ ২ টি. তেজপাতা ২ টি, ছোট এলাচ ৩ টি, দারচিনি অল্প পরিমাণে। প্রস্তুত প্রণালী, প্রথমে ইলিশ মাছকে পরিষ্কার করে কেটে ধুয়ে নিন। মাছ ধুয়ে তাতে টক দই, হলুদ গুঁড়া, কাঁচা মরিচ বাটা ও লবণ দিয়ে মেখে রাখুন। এবার একটি ননস্টিক প্যানে সরিষা তেল ও ঘি গরম করুন। তেল গরম হলে তাতে চিনি, তেজপাতা, দারচিনি ও ছোট এলাচ ফোড়ন দিন। আর তাতে পেঁয়াজ কুচি ‍দিয়ে হালকা ভাজুন। পেঁয়াজ কুচি একটু লাল বা বাদামি রং ধারণ করলে তাতে মশলা মাখা ইলিশ মাছ, শুকনো মরিচ ও কিসমিস ‍দিয়ে ঢাকনা ‍দিয়ে ঢেকে কিছু সময় হালকা আঁচে কষিয়ে নিন।তারপর ঢাকনা সরিয়ে দেখুন একদিক বেশ ভাজা ভাজা হলে মশলাসহ মাছ সাবধানে উল্টে দিন। আবার ঢেকে রাখুন। এবার মাছ ভালোভাবে কষানো হয়ে গেলে প্যানে এক কাপ পরিমাণ গরম লিকুইড দুধ দিয়ে দিন। এটি দেওয়ার পরে প্যানে কোনো পানি দিতে হবে না, এবার অল্প আঁচে ঢেকে রান্না করে নিন। ইলিশ মাছের কোরমা চুলায় থাকা অবস্থায় বেশি নাড়াচাড়া করা যাবে না। আলতো করে মাঝে মধ্যে নাড়তে হবে। কারণ মাছটা ভেজে রান্না করছি না। প্যানে মসলা বা লিকুইড দুধ ঘন হয়ে আসলে কোরমায় পরিমাণমতো পেঁয়াজ বেরেস্তা ‍দিয়ে নামিয়ে নিন। এবার আপনার পছন্দ মতো পরিবেশন করুন। 

ইলিশ মাছের পুষ্টিগুণ

ইলিশ মাছ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ হিসেবে সুপরিচিত এবং এটি স্বাদ ও পুষ্টিগুণে অতুলনীয়। বাঙালির প্রিয় মাছ এটি। অনেক গুলো খাদ্য উপাদানের এক বিরাট পুষ্টির ভান্ডার ইলিশ মাছ। বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ইলিশ মাছ। বেশির ভাগ মানুষ ইলিশ খেতে পছন্দ করেন। ইলিশের প্রতি বাঙালির ভালোবাসা অতুলনীয়। বর্ষায় ইলিশ ভাজা, ইলিশের ভর্তা, শর্ষে ইলিশ, ভাপা ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, দই ইলিশ, পান্তা ইলিশ ও ইলিশের ডিম ছাড়া যেন বাঙালির রসনায় তৃপ্তি আসে না। ইলিশ মাছ স্বাদে যেমন অতুলনীয়, তেমনি পুষ্টি উপাদানেও ভরপুর। ইলিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি। এছাড়া পটাশিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, সোডিয়াম, জিংক ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। আরও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ফ্যাটি অ্যাসিড। শরীরে ওমেগা ৩ফ্যাটি অ্যাসিডের চাহিদা আমরা ইলিশ মাছ খেয়ে পূরণ করতে পারি। ইলিশ মাছ প্রোটিন, ওমেগা ৩ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, এবং খনিজ পদার্থ যেমন আয়রন ও ক্যালসিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ওমেগা ৩ফ্যাটি অ্যাসিড হার্টের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। ওমেগা ৩ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিস্কের কার্যকারিতা বৃুদ্ধি করে, মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং ডিপ্রেশন ও অ্যানজাইটি কমাতে সাহায্য করে। ইলিশ মাছ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর একটি ভালো উৎস, যা হাড়ের গঠনে সহায়ক। ইলিশ মাছে থাকা ওমেগা৩ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। ইলিশ মাছের মধ্যে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যা বিভিন্ন সংক্রমণ এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। 

ইলিশ মাছ শুধু বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশই নয়, এটি স্বাদ ও পুষ্টিগুণেও সবার সেরা। সর্ষে  ইলিশ, ভাপা ইলিশ, ইলিশের কালিয়া, টমেটো দিয়ে ইলিশ, বেগুন দিয়ে ইলিশ, মিষ্টি কুমড়া, পাতি কুমড়া ও চাল কুমড়া দিয়ে ইলিশ প্রতিটি রান্নারই রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট ও আকর্ষণ। বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ইলিশ মাছ। ইলিশ মাছের যেকোনো রান্নাই খেতে সুস্বাদু এবং দেখতে লোভনীয় হয়। ইলিশ মাছ আমাদের মানবদেহের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইলিশের প্রতি বাঙালির ভালোবাসা তুলনাহীন। ইলিশ মাছের রান্না ছাড়া যেন বাঙালির রসনায় তৃপ্তি আসে না। আমাদের উৎসব, অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে ইলিশ অপরিহার্য। তাইতো ইলিশকে রুপালি ইলিশ বলা হয়। ইলিশকে মাছের রাজা বলা হয়। আর এই মাছ দিয়ে বিভিন্ন রাজকীয় খাবার তৈরি করা হয়। ইলিশ মাছ যেকোনো সবজি ‍দিয়ে রান্না করা যায় এবং খুবই সুস্বাদু হয়। গরম গরম ভাত বা খিচুড়ির সাথে ইলিশ মাছের রেসিপি দারুণ লাগে। তাছাড়া এর প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারি। ইলিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, পটাশিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, সোডিয়াম, জিঙ্ক ও ক্যালসিয়াম এবং ওমেগা ৩ফ্যাটি অ্যাসিড। ওমেগা ৩ফ্যাটি অ্যাসিডের চাহিদা আমরা এ মাছ খেয়ে পূরণ করি।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url